অপরাধের পাহাড় তবুও অধরা গুলজার

0
1577

এম লোকমান হোসাঈন ॥

সরকারি কর্মচারীসহ তিনজন অপহরণ, হোটেল এরিনা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আইনজীবি হত্যার গুঞ্জন
ফিসারি রোড এলাকার এক বাসিন্দাকে হত্যার
অভিযোগ, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজী
দখলত্রাস ও অস্ত্রবাজীর নিরব মাফিয়া!

অস্ত্রবাজী, টেন্ডার ত্রাস, জমি দখল, সরকারি কর্মচারী গুম, আইনজীবি হত্যা, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা- এই সবগুলো উদাহরন যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে তিনি সফিকুল আলম গুলজার। সন্ত্রাসের আরেক গডফাদার ছোট ভাই মেহেদী র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হবার পর কিছুদিন থেমে থাকলেও সময়ের আবর্তে প্রশাসন ও সাংবাদিক ম্যানেজ করে স্বরুপে ফিরেছেন অপরাধের একছত্র ধরে রাখা গুলজার। তার অপকর্মের পাহাড় জমা হলেও রহস্যজনক কারনে বারবারই রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। তার নির্যাতনের শিকার মানুষেরা হয় নগরী ছাড়ছেন নয়তো সব সহ্য করে চুপ করে রয়েছেন। তবে এবার সেই গুলজারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তারই ব্যবসায়ীক অংশীদার সহিদুর রহমান আবু।

‘আবু ভাই আমার বাপ,আবু ভাই আমার ভাই,আবু ভাই আমার বন্ধু। সে আমার চক্ষু খুলিয়া দিয়াছে। এভাবেই এস.আর কোম্পানির প্রোপাইটর সহিদুর রহমান আবুকে কথাগুলো বলেন গুলজার এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর সফিকুল আলম গুলজার। যখন বিপদে পরেছিল তখন এমন ভাষ্য থাকলেও পাওনা টাকা চাওয়ায় বর্তমানে গুলজার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এমন অভিযোগ করেন এস.আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সহিদুর রহমান আবু। তিনি ও তার পুত্র সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মেহমুদ রহমান জানিয়েছেন গুলজারের নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচার চেয়েও কোথাও             সুবিচার পাচ্ছেন না তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সনে বাংলাদেশ কারিতাসের অধীনে পূর্ব যোগ্যতাসম্পন্ন ঠিকাদারী লাইসেন্স পায় এস.আর কোম্পানি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ কোম্পানির প্রোপাইটার হচ্ছেন নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসীন্দা সহিদুর রহমান আবু। আবুর সাথে  পূর্ব সর্ম্পক থাকার সুবাদে গুলজার ২০০৯ সনে ব্যবসায়ীক পার্টনার হিসাবে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তিতে ২০০৯ সনের অক্টোবর মাসের ২৫ তারিখ বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/নোটারী পাবলিক হলফি আদালতের মাধ্যমে চুক্তিপত্র করেন (হলফ নং- এসএল নং ২৭১৩/০৯)। হলফনামাতে দেখা যায় এস.আর.কোম্পানির প্রোপাইটর সহিদুর রহমান আবু কারিতাস বাংলাদেশ এর অনুকূলে

২০০৯ সনে পটুয়াখালী জেলার খেপুপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিট ১ ও মমিপাড়া শিশু শিক্ষা ইউনিট ২ এবং নূর মহম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ইউনিট ৩ অর্থাৎ মোট তিনটি সাইক্লোন শেল্টার টেন্ডারের মাধ্যমে নির্মানের দায়িত্ব পায় (টেন্ডার নং- ডিএমডি/০৯-১০/৩৯)। ২০০৮ সনের জুন মাসের ৮ তারিখ এ টেন্ডারটি এস.আর.কোম্পানি কাজটি পেয়ে থাকে। সাইক্লোন সেল্টার ৩টি নির্মানের জন্য দর নির্ধারণ করা হয় ২,৬৩১৮০০৬ (দুই কোটি তেষট্টি লাখ আঠার হাজার ছয় টাকা)। কাজটির ব্যবসায়ীক পার্টনার সফিকুল আলম গুলজার ও সহিদুর রহমান (আবু) চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী ২০০৯ সনের আগস্ট মাসে প্রথম সপ্তাহে সাইক্লোন সেল্টার ৩টির কাজ শুরু করেন। সাইক্লোন সেল্টারের কাজে নামমাত্র পাথার, বালু ও রড দিয়ে কাজ শেষ করতে পর্যাপ্ত টাকা নেই বলে অজুহাত ধরেন গুলজার।

একপর্যায় সফিকুল আলম গুলজার কৌশলে ব্যবসায়ী পার্টনার সহিদুর রহমান আবুকে গুলজারের নামে এসআর কোং এর ব্যাংক হিসাব খোলে এবং সাইক্লোন সেল্টারের কাজ লিখিয়া দিতে বলেন এস.আর.কোং এর প্রোপাইটর সহিদুর রহমান আবু সরলমনে কাজ লিখে এবং ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়।

এদিকে গুলজার ও আবুর আলোচনার মাধ্যমে কুয়াকাটা, মহিপুর, খেপুপাড়া ও বরিশালের বিভিন্ন রড সিমেন্টের দোকান থেকে চেকের বিনিময় ওই সাইক্লোন সেল্টারের মালামাল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কিন্তু গুলজারের চেক গ্রহণ করতে অনিহা প্রকাশ করেন রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীরা। পরবর্তিতে এস.আর কোং’র প্রোপাইটর সহিদুর রহমান আবু তার নিজের চেক বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে রেখে রড, সিমেন্ট ও বালু বাকীতে ক্রয় করে সাইক্লোন সেল্টার ৩টির কাজ দ্রুত চালাতে থাকে এবং আংশিক কাজের বিল পেয়ে রড, সিমেন্টে দোকানদারদের আংশিক টাকা পরিশোধ করে পুনরায় মালামাল ক্রয় করেন।

সাইক্লোন সেন্টারের কাজ চলাকালীন গুলজারের ব্যক্তিগত ঠিকাদারীর কাজ পিরোজপুরে ১২টি কালভার্ট, বরিশাল রেজিষ্ট্রি অফিস ও বানারীপাড়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ মোট ১১ কোটি টাকার কাজ এবং গুলজারের নিজ মালিকানাধীন হোটেল এরিনার ১০ তলা ভবনের ৬ তলার ছাদ দেয়ার জন্য অর্থনৈতিক ভাবে সমস্যা হওয়াতে কাজ বন্ধ করে দেন।

এস.আর কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী সহিদুর রহমান আবু বলেন, এক রাতে গুলজার আমার পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে অনুরোধ করেন যেন গুলজারের ১১ কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ সম্পন্ন করে দেন। বিনিময়ে হোটেল এরিনার কিছু অংশ শেয়ার দেয়ার অঙ্গীকার করেন গুলজার। এমনকি উল্লেখিত কাজের লভ্যাংশের ৫০% হিসাবে আবুকে প্রদান করারও প্রতিশ্র“তি দেন।

সূত্র মতে, সফিকুল আলম গুলজারের ব্যক্তিগত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলজার এন্টারপ্রাইজের নামে একই সময় বিআইডব্লিউটিএর রুরানো মালামাল ০২ কোটি ২ লাখ টাকায় নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেন গুলজার। জানা গেছে ওই সময় বিআইডাব্লিউটিএর মালামাল যে পরিমান নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন তার চাইতে দ্বিগুন মালামাল বিআইডাব্লিউটিএর গোডাউন থেকে প্রভাব খাটিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে আসেন। নিলাম চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত মালামাল নেবার সময় বাধা দেয়ার কারনে স্টোর কিপার রহিমসহ তার সহযোগীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করার অভিযোগ পাওয়া যায় গুলজারের বিরুদ্ধে।

যদিও ৩দিন পরে অজ্ঞান অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ভোর রাতে পাওয়া যায় রহিমসহ বাকি দুজনকে। এবিষয় ওই সময় গুলজারসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি অপহৃরণ মামলা হয়। মামলাটি রহস্যজনক কারনে ধামাপাচ পরে যায়। পরবর্তিতে বিআইডাব্লিউটিএর স্টোরের মালামাল খালাস করার সময় প্রতিদিন একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট ও র‌্যাবসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের উপস্থিতিতে গোডাউন থেকে মালামাল নামানো হত।

আবু জানান, রড়-সিমেন্টের বিভিন্ন দোকান থেকে আবুর ব্যক্তিগত চেকের বিনিময় মালামাল ক্রয় করেন ড়–লজার। মালামাল ক্রয়কৃত দোকানদাদের বিল পরিশোধ না করে গুলজার ঠিকাদারী কাজের টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে পাওনাদাররা এস.আর কোম্পানির প্রোপাইটর সহিদুর রহমান আবু পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করেন।

আবার একাধিক ব্যবসায়ীরা টাকা পাইতে বিলম্ব হওয়াতে আবুর বিরুদ্ধে ২৭টি চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। যদিও পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ২৪টি মামলা নিস্পত্তি করেছেন। এখনো ৩টি চেকের মামলার নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছেন আবু। এস.আর কোং মালিক সহিদুর রহমান আবু জানান, মো.শফিকুল আলম গুলজার বরিশাল রেজিষ্ট্রি অফিস নির্মান কাজ ৩ কোটি টাকা, বানারিপাড়া হাসপাতাল নির্মান কাজ ৬ কোটি টাকা, পিরোজপুর ১০টি কালভার্ট নির্মান কাজ ২ কোটি টাকা ও হোটেল এরিনার ৬ তলার ছাদ ঢালাই থেকে হোটেল এথেনার ২টি সাব্মারসিবল পাম্ব বন্ধ হয়ে যায় এবং কাজগুলি একত্রে হওয়ার কারনে গুলজার অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পরেন।

গুলজারের পূর্ব পরিচিত হওয়ার সুবাদে আবুকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেন। কারন রড়-সিমেন্ট ব্যবসায়ীরা গুলজারকে বাকীতে মালামাল দিতে নারাজ এবং গুলজারের চেকও নিতে রাজি না।

পরবর্তিতে সহিদুর রহমান আবু, পাওনাদারদের দোকানগুলোতে তার নিজের চেক জমা রেখে দুই কোটি উনপঞ্চাশ লাখ পয়ত্রিশ হাজার একশত টাকার মালামাল বাকীতে কিনে দেন। এসময় গুলজার বরিশাল নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড়ে খান সন্স এর অংগ প্রতিষ্ঠান রহমান ট্রেডার্স খ্রীস্টান কলোনী থেকে খরিদকৃত জমি থেকে রাস্তার পাশে ১০ শতাংশ জমি তার নিজের টাকায় আবুকে ক্রয় করে দিবেন বলে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামায় চুক্তি করেন এবং ওই চুক্তি নামায় আরো উল্লেখ করেন, ‘আমার কাজের অংশিদার ও আমার প্রতিনিধি সহিদুর রহমান আবু এই হিসাবের বাহিরে গুলজার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে কোন মামলার শিকার হন বা অর্থ দন্ডে দন্ডিত হন তাহলে সকল ক্ষয় ক্ষতির হিসাবান্তে পরিশোধ করবেন।

অথচ, শফিকুল আলম গুলজার অঙ্গীকারনামার কোন কিছুই মানছে না। উল্টো সহিদুর রহমান আবুকে এবং আবুর ছেলে সেনাবাবিনীর অফিসার ক্যাপ্টেন মেহমুদ রহমানকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আবু আরো জানান, সাড়ে ১১ কোটি টাকার একটি ব্যবসায়ী হিসাব খাতা গুলজারের ব্যক্তিগত হোটেল এথেনার লকারে ছিল। ওই খাতাটির হিসাব নিকাশ করত গুলজারের ম্যানেজার মিলন। এক পর্যায় ২০১১ সালের দিকে হিসাবের খাতাটি চুরি হয়ে গেছে বলে দাবী করেন গুলজার। বিষয়টি নিয়ে ওই সময় গুলজার ও তার বন্ধু আলেকান্দা এলাকার বাসীন্দা সাহিন, বাশার ও ফরেস্টার বাড়ী এলাকার বাসিন্দা অলিম এবং ব্যবসায়ীক পার্টনার সহিদুর রহমান আবুর উপস্থিতিতে হোটেল এথেনার ২০১ নং রুমে সফিকুল আলম গুলজার উলঙ্গ হয়ে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে শপথ করেন উক্ত হিসাবের খাতাটি সে চুরি কিংবা অন্য কিছু করেন নাই।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা গেছে, গুলজারের হোটেল এরিনা থেকে ৩ বছর আগে ৫তলা থেকে এক আইনজীবীকে ফেলে হত্যা করা হয় এবং এর আগে নগরীর ফিশারী রোড এলাকার এক বাসীন্দাকে ৭তলা ভবন থেকে ফেলে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে হত্যাকান্ড ২টি আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন গুলজার। গুলজার বরিশালের কতিপয় অসাধু প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে একেরপর এক অপরাধ করে গেলেও কেউ বলার কিছু সাহস পাচ্ছে না।

জানাগেছে নগরীর কাটপট্রি রোড়ের সাবেক আরওরা মার্কেট অথাৎ পূনাম হোটেলের মালিক নগরীর কলেজ রোড় এলাকার বাসীন্দা একেএম হাবিবুর রহমানের সাথে প্রতারণা করে ১৯৯৮ সালের জুলাই মাসের ৩০ তারিখ হোটেলসহ সাড়ে নয় শতাংশ জমি নামমাত্র ক্রয়মূল্য দিয়ে দখল করে নেয় গুলজার। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সনে হাবিবুর রহমান ও তার পরিবার বরিশাল কলেজ রোড় এলাকাতে বসবাস করতেছিল। তৎকালীন সময় সেখান থেকেও নানান ষড়যন্ত্র করে তাড়িয়ে দেয় গুলজার ও তার ভাই শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী বাহীনি। পরবর্তিতে বাধ্য হয়ে বরিশাল ছাড়তে হয় হাবিবুর রহমানকে।

 

বরিশাল ছেড়ে ঢাকাতে বসবাস করেন হাবিবুর রহমানের পরিবার। হাবিবুর রহমানের ছেলে সুমন জানান, গুলজারের ভাই শীর্ষন্ত্রাসী মেহেদী র‌্যাবের ক্রসফারে নিহতের পর বেস কিছুদিন নিরাপদে থাকলেও বর্তমানে আবারো বিভিন্ন সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সুমন দাবী করেন, নগরীর বগুড়া আলেকান্দা মৌজার এস.এ.৩৩২২,৩৩২৫ এর নতুন সৃজিত ৪৬৬৯ নং খতিয়ানের হাল ৩৩৫৬ ও ৩৩৫৭  নং দাগের সাড়ে নয় শতাংশ জমি দলিল করে নিতে পারলেও গুলজার অবশিষ্ট ২ শতাংশ জমি দখলে আছেন। কিন্তু দলিল করে নিতে পারেননি। বর্তমানে ওই বাকী ২ শতাংশ জমির দখল করে আছেন। জমির মালিককে ফেরৎ দিতে নারাজ গুলজার। উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবী হাবিবুর রহমান এর পরিবারের। হাবিবুর রহমানের ছেলে সুমন জানায়, ২০০৩ সনে জমি উদ্ধারের জন্য বরিশাল সিটি করর্পোশনের মেয়র বরাবর একটি লিখিত আবেদন করলেও রহস্যজনক কারনে বিষয়টি ধামাচাপা পরে যায়। সরকারী বিভিন্ন দপ্তর জমি উদ্ধারের জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও কোন কাজ হয়নি। উল্টো নিজের জীবন নিয়েই শঙ্কায় পড়তে হয়েছে।

এ বিষয় জানতে চেয়ে সফিকুল আলম গুলজারের মুঠোফোন (০১৭১৫০৬৩১৬৪) নাম্বারে যোগাযোগ করলে প্রথমে ফোন রিসিভ করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার সাথে সাথে রং নম্বার বলে ফোন কেটে দেয়। পরবর্তিতে ফোন করলে আর রিসিভ করেন নাই।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে টেন্ডরবাজীতে নাম লিখে আলোচনা সমালোচনাতে উঠে আসে সফিকুল আলম গুলজার। ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর গভীর রাতে এই ঠিকাদার ও সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম গুলজারকে অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর গভীর রাতে বরিশাল ক্লাবে মাদক সেবন করে বাসায় ফেরার পথে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করা এবং গুলির সঠিক হিসাব দিতে না পাড়ায় তার বিরুদ্ধে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছিল। এতে নগরীর কাটপট্টি এলাকা থেকে তার মালিকানাধীন আবাসিক হোটেল এথেনা থেকে গ্রেফতার করা হয়।