অবশেষে মুখ খুললেন সু চি

0
64

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি।  তিনি দাবি করেছেন, রাখাইনে রাজ্যে সম্পর্কে ‘ভুল তথ্য’ পরিবেশন করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে সর্বশেষ মন্তব্যে অং সান সু চি আরো দাবি করেন, ভুয়া ছবি ও খবর বিকৃত করে সন্ত্রাসীদের স্বার্থে প্রচার করা হচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সুচি রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রথম মন্তব্যে একথা বলেন বলে জানিয়েছে ।

গত দুই সপ্তাহে এক লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে সাম্প্রতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে।

সু চি কি বলছেন?

প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সু চি এরদোয়ানকে বলেছেন, তার সরকার ইতোমধ্যেই যতটা সম্ভব রাখাইনের সব মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

সু চি বলেছেন, ‘মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক সুরক্ষা থেকে কাউকে বঞ্চিত করার অর্থ কী, তা আমরা বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে ভালোভাবে জানি। আর তাই আমরা দেশের সব মানুষের জন্য সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিত করছি। এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানবিক অধিকারও বটে।’

বিবৃতিতে সু চি আরও বলেন, ‘রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে প্রচুর ভুয়া তথ্য এবং ছবি ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি করাই এর উদ্দেশ্য।’

তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রীর টুইটারে পোস্ট করা নিহত রোহিঙ্গার ছবির প্রসঙ্গ টেনে সু চি দাবি করেন, ওই ছবি মিয়ানমার নয়, অন্য কোথাও তোলা।

তবে সু চির বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার জীবনীকার জাস্টিন উইন্টেল। তিনি সোজাসুজি বলছেন, ‘আমি তার এই মন্তব্যে হতবাক।’

‘তার এই মন্তব্য তো তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাতারে ফেলে দিচ্ছে! তিনি কার্যত দেশের নেতা হলেও আসলে তিনি এখন সেনাবাহিনীর পকেটে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সম্পর্কে তিনি সবসময়ই কিছুটা অস্পষ্ট – কারণ দেশটির সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন তার বাবা।’

‘সু চি হাড়ে মজ্জায় বার্মিজ। আমার বলতে খারাপ লাগছে – কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে মিয়ানমারের পশ্চিমে রাখাইনে যা ঘটছে তা চরম জাতিবিদ্বেষী। সেখানে মুসলিম রোহিঙ্গাদের প্রতি সমন্বিত বিদ্বেষ রয়েছে’- বলছেন উইন্টেল।

রোহিঙ্গাদের সমর্থনে বা তাদের দুদর্শা লাঘবে সু চি এগিয়ে না আসার কারণে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

মিয়ানমারে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত মার্ক ক্যানিং বিবিসিকে বলেছেন তিনি রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন। বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদ সেদেশ যেভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে তাকে সমর্থন না করা তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং তার ভাষায় ‘সু চি এখন মানবাধিকারের প্রতীক নন – তিনি পুরোপুরি একজন রাজনীতিক।’

গত ২৪ অগাস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এ পর্যন্ত ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।