আগৈলঝড়ায় হিন্দু পরিবারের রোশনালে মুসলিম যুবক

0
136

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সম্পত্তি ক্রয় করতে গিয়ে হিন্দু পরিবারের রোশানলে মুসলিম যুবক। জমি না দিয়ে টাকা আত্মসাত করে উল্টো অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানি। সম্পত্তি ক্রয় করতে গিয়ে প্রতারক চক্রের খপ্পরে এনামুল ইসলাম নামের এক রং মিস্ত্রী। বরিশাল জেলার আগৈলঝড়ার ভালুকশী গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাজী আব্দুর রহমান এর ছেলে তিনি। অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ২০১৮ সালের মে মাসের ২০ তারিখ একই এলাকার হৃদয় পান্ডের কাছ থেকে ৫২ শতাংশ জমি ১১ লাখ টাকা চুক্তি করে প্রাথমিক ভাবে বায়না বাবদ নগদ ৫লাখ টাকা প্রদান করেন কাজী এনামুল ইসলাম।

এসময় চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয় বাকী টাকা ৬মাসের মধ্যে পরিশোধ করে রেজিস্ট্রি দলিল করে দেয়া হবে। কিন্তু ৫ লাখ টাকা নেয়ার পর থেকে দলিল না দেয়ার জন্য তালবাহানা শুরু করেন হৃদয় পান্ডে। এক পর্যায় হৃদয় পান্ডে জমি না দিয়ে এনামুলের ৫ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার জন্য রাজী হন পরবর্তিতে এনামুলের সাথে বায়না চুক্তিপত্র’র মুল কপি নিয়ে ফেরত নেন এবং সোনালী ব্যাংক আগৈঝড়া শাখার হৃদয় পান্ডের স্ত্রীর হিসাব নম্বার থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। এনামুল ইসলাম উক্ত চেক ২০১৮ সালে নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ সোনালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে জানতে পারেন উক্ত হিসাব নম্বারে কোন টাকা নাই। পরবর্তিতে চলতি বছরের মার্চ মাসের ১৩ তারিখ চেক ডিজাইনর করেন। কাজী এনামুল ইসলাম চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে টুম্পা বৈড়ই ও তার স্বামী হৃদয় পান্ডের বিরুদ্ধে ১৮৮১ সনের নিগোসিয়েবল এনস্টুমেন্টস এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারায় মামলা করেন।

সি,আর কেসে নং-৪৯/০১৯ (আগৈলঝড়া)। বিচারক হৃদয় পান্ডেকে মামলা থেকে অবহতি দিয়ে টুম্পা বৈড়ইর বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীর বিরুদ্ধে সমন জারী করেন। মামলা প্রায় ২ মাস পরে টুম্পা বৈড়ই আদালত থেকে জামিন নিয়ে মামলার বাদীকে মামলা উত্তোলন এর জন্য ৪ থেকে ৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে বাদীর বাড়ী প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসেন টুম্পা বৈড়ই। এসময় কাজী এনামুল ইসলাম আগৈলঝাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। যাহার নম্বারঃ-৮৭৫/০১৯, জুন মাসের ২৩ তারিখ। আদালতের অনুমতি নিয়ে সাধারণ ডায়রীটি আগৈলঝড়া থানার এএসআই মফিজুল ইসলাম তদন্ত করছেন। কাজী এনামুল ইসলাম সাধারণ ডায়রীর করায় ক্ষীপ্ত হয়ে এনামুলের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ এর নালিশী মামলা দায়ের করেন বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন। যাহার এমপি নং-২০৪/১৯।

বিচারক মামলাটি আগৈলঝড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। এবিষয় কাজী এনামুল ইসলাম ন্যায় বিচারের জন্য বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন চলতিমাসের ১০ তারিখ। কাজী এনামুল ইসলামের দাবী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ যে সময় ও তারিখ উল্লেখ করেছেন উক্ত সময় যদি তিনি কোন অপরাধ করে থাকতেন তাহলে অবসয়ই টুম্পা পলতাক থাকায় গত ০৮/০৯/২০১৯ ইং তারিখ আমার দায়ের করা মামলায় আগৈলঝড়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করেন টুম্পাকে এবং ০৯/০৯/২০১৯ ইং তারিখ টুম্পার নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনে আবেদন করেন। সেখানে তিনি অপহরণ ও ধর্ষণের মত এতো বড় একটি ঘটনা কেন মহামান্য বিচারকের কাছে অবগতি করেন নাই। তারিখ জানা ছিল না দাবী করে জামিনের আবেদনপত্রে তিনি বিচারকের কাছে অবগতি করে জামিন নেন। এই সকল মিথ্যা অভিযোগ করে হৃদয় পান্ডে ও তার স্ত্রী উল্লেখিত ৫ লাখ টাকা না দেয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন।

এনামুল ইসলাম লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, টুম্পার ব্যবহত মোবাইল থেকে বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নিতে হুমকিÑধামকি দিয়ে আসছেন। গত ১৪/০৭/২০১৯ইং তারিখ ১১টা ২৬ মিনিটে ০১৭৫৪০…৩৮ নম্বার দিয়ে একটি খুদে বার্তা পাঠায় সেখানে উল্লেখ করেন, তোর সংখ্যা লঘু মামলা,ঘুম মামলা দিব তখন বুঝবি জ্বালা কি। একই নম্বার দিয়ে ১৫/০৭/২০১৯ইং তারিখ বলেন, বলদ স্ট্যাম্প অনেক দামী, চেকেরে কোন ভেলু নাই, তাই চেক দিয়া স্ট্যাম্প নিয়া নিলাম ও ১৮/০৭/২০১৯ইং তারিখ সময় ৬টা ২৩ মিনিটে এসএমএস এর মাধ্যমে বলেন, তোর টাকা তোর কারন হবে, জজ কে ঘুষ দেব, তোর মামলায় তোকে ভিতরে ঢুকাবো, এখন বলি মামলা উঠা পরানটা বাঁচা। এভাবে প্রায় ৮ থেকে ১০ টি খুদে বার্তা দিয়ে কাজী এনামুল ইসলামকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসেন।