আনসার কর্মকর্তা আফজাল বাহিনীর ঘুষ বাণিজ্য ফাঁস!

0
109

এম. লোকমান হোসাঈন ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কেন্দ্র করে আনসার কর্মকর্তাদের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ। ৩০ শে জুলাই বরিশাল সিটি নির্বাচন।

এ উপলক্ষে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মোট ১২৩টি কেন্দ্রতে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট কেন্দ্রের আইন শৃঙ্খলার নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকচ্ছে র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি নারী-পুরুষ সহ মোট ১৭শ ২২ জন আনসার সদস্য। ডিউটি করতে আগ্রহী প্রার্থী প্রতি আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ৪শ থেকে ৫শ টাকা আদায় করা হয়েছে।

৩০ শে জুলাই সিটি নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সিলেকশনরত একাধিক আনসার সদস্যরা নাম গোপন করে বলেন, তাদের দলনেতারা জনপ্রতি ৪শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত অফিস খরচ দবি করে হাতিয়ে নেন। যে সকল সদস্যরা টাকা দিতে অস্বীকার করেন তাদের নির্বাচনী ডিউটির নামের তালিকাতে নাম রাখা হয়নি। এদিকে আইন শৃঙ্খলার নিরাপত্তার জন্য যে সকল আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন তাদের আনসার বাহীনি থেকে নিরাপত্তা বিষয় ট্রেনিং প্রাপ্ত বাদ্ধ্যতামুলক।

কিন্তু উপজেলা আনসার কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ভারতি উৎকোচের আশায় অধিকাংশ অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে ৩০ শে জুলাই’র বরিশাল সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের দলনেতাদের নিয়ে চলতি মাসের ১ তারিখ নিয়মিত মাসিক মিটিংয়ে উপেন হাউজে দলনেতাদের বলেন দেন অফিস খরচ বাবদ নির্বাচনী ডিউটিকালীন সময় যে সকল আনসার সদস্যরা ডিউটি করতে আগ্রহী তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪শ থেকে ৫০ শত টাকা আদায় করার অলিখিত সিন্ধান্ত নেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপস্থিত একাধিক দলনেতারা। দৈনিক সময়ের বার্তা’র অনুসন্ধানে দেখা যায় নারী-পুরুষ সহ মোট ১৭শ ২২জন আনসার সদস্যর কাছ থেকে ঘরে ৪শ থেকে ৫শ টাকা অফিস খরচ বাবদ আদায় করলে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। আর এই ১৭শ ২২জন সদস্য নির্বাচনকালীন ডিউটি করে জনপ্রতি প্রতিদিন পাচ্ছে প্রায় ৪৬৪ টাকা।

এবার ৫দিন ডিউটি থাকার সম্ভাবনা বলে জানা গেছে। মোট ৫ দিন ডিউটি করা হলে সবমিলে পাচ্ছে ৩ কোটি ৯লাখ ৯৫ হাজার ৪০ টাকা। অথাৎ জনপ্রতি ২ হাজার ৩শ ২০ টাকা। টিআই আয়েশা সুলতানা প্রথমে এবিষয় কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, অনভিজ্ঞর সংখ্যা কম। গতকাল জুতা ও ভাল পোশাক না থাকায় ১২৬ জনের বেশি সিলেকশনরতদের মধ্য থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ আদায়ের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন মিটিংয়ে ৪ শ বা ৫শত টাকা না । তবে এবিষয় আমি কোন কথা বলিনি। যতুটুক বলেছেন তার উর্চ্চপযায়ের কর্মকর্তারাই বলেছেন। তারাই সঠিক তথ্য দিতে পারবেন বলে টিআই আয়েশা সুলতানা দাবি করেন। অপর দিকে নির্বাচনকালীন সময় আনাসার সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আনসার কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বলেন, আমি এবং আমার অফিসের কেউ কোন টাকা নেননি। তবে ওয়ার্ড দলনেতারা টাকা নিতে পারে বলে এই কর্মকর্তা স্বীকার করেন।

তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় তিনি ও তার অফিসের কেউ কোন অর্থ আদায় করেননি! কিন্তু যে সকল আনসার বাহিনীর দলনেতারা অর্থ নিতে পারে বলে স্বীকার করেছেন তাহলে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ওরা কারা? ওরাই তো উপজেলা আনসার কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের নিয়ন্ত্রিত আনসার বাহিনীর দলনেতা।বরিশাল জেলা কমান্ড্যান্ট’র কামাল হোসেন জানান, আনসার সদস্যদের কাছ থেকে কোন পয়ষা-কড়ি নেওয়ার সুযোগ নাই। যদি কেউ সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবেন। বরিশাল রেঞ্জ এর পরিচালক জানান, যদি কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূবক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।