আর.আর.এফ পুলিশ লাইন্সে অবৈধ বালুর বাণিজ্য!

0
115
ফাইল ফটো

এম. লোকমান হোসাঈন ॥ সরকারী পুকুর ভড়াটের জন্য অবৈধ বালুমহল থেকে বালু উত্তোলনের বাণিজ্যে মেতে উঠেছে একটি-কুচক্রিমহল। অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী জসিম বাহিনী বরিশাল সদর উপজেলাধীন তালতলী নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে কাশিপুর আর. আর. এফ. পুলিশ লাইন্সের পুকুর ভড়াট করে যাচ্ছেন।

এই অবৈধ বালু উত্তোলনে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আবিদ, কালু, নয়ন ও সুজন সহ আরো একাধিক ছাত্রলীগ নেতারা মদদ দিচ্ছেন বলে স্বীকার করেন ড্রেজার ব্যবসায়ী জসিম। চলতি বছরে ফয়সাল নামের এক ঠিকাদার প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বিনিময় কাশিপুর আর. আর. এফ. পুলিশ লাইন্সের পুকুর ভড়াটের দায়িত্ব দেয় ড্রেজার ব্যবসায়ী জসিমকে।

অনুসন্ধানে দেখা যায় নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি নেই ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আবিদ, কালু, নয়ন ও সুজনদের। এমনকি ঠিকাদার ফয়সাল ও জসিম এদের কার নামে নদী থেকে বালু উত্তোলনে সরকার কর্তৃক অনুমতি নাই। বালু উত্তোলনে যাদের অনুমতি আছে তাদের কাছ থেকে বালু ক্রয় না করে জসিমের নিজেস্ব অবৈধ ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বরিশাল জেলার বিভিন্ন নদী থেকে বালু উত্তোলন করে র্দীঘদিন যাবত বালু ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

এরা সবাই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবত নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে রমরমা বালু বানিজ্য করে আসছেন। এ কারনেই আর.আর.এফ পুলিশ লাইন্সে’র পুকুর ভড়াটের জন্য লাইন্সের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা আরাই মোঃ শফিকুল ইসলামকে দিতে হচ্ছে ২০ লাখ টাকা! জসিমের এক ঘনিষ্টজন জানান, আরাইকে টাকা না দিলে বালু ভড়াটেও বিপাকে পড়তে হবে জসিমকে।

বাধ্য হয়েই জসিম ২০ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতা ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আবিদ, কালু, নয়ন ও সুজনকে দিতে হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। মেসার্স মুসলিম ট্রেডার্স এর প্রোপাইটার ফিরোজ আহমেদ ও মেসার্স হাসান হোসেন এন্টারপ্রাইজ প্রোপাইটর মোঃ রুবেল মিয়া জানান, জসিম নামে কোন বালু ব্যবসায়ীর কাছে তারা কখনো বালু বিক্রি বা চুক্তিবদ্ধ্য হয়নি এবং জসিম নামে কাউকে তারা চিনেন না বলে দাবী করেন।

এদিকে জসিমের দাবী ড্রেজার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই তিনি বালু ক্রয় করে বালু ব্যবসা করে আসছেন। জসিম বালু ভড়াটের দায়ত্ব নিলেও আর.আর.এফ পুলিশ লাইন্সের পুকুর ভড়াটে কত টাকার কাজ সে বিষয় তিনি মূখ খুলতে নারাজ। তিনি জানান, এবিষয় ছাত্রলীগ নেতা কালু, নয়ন, সুজন ও সৈয়দ আবিদ এরাই ভাল বলতে পারবেন। তিনি শুধু তাদের কাছ থেকে ভড়াটের দায়ীত্ব নিয়েছেন।

জানাগেছে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত বালু উত্তোলন করে আসছেন ওই ছাত্রলীগ নেতা-কর্মিরা। এদিকে বরিশালের বিভিন্ন নদী থেকে কোটি টাকার বালু উত্তোলন করবেন বরিশাল কীর্তনখোলা নদী, কালীজিরা নদী সহ নগরীর আশপাশের নদী দিয়ে। হুমকির মূখে পরবেন তালতলী, চরবাড়ীয়া, চরবদনা, সায়েস্তাবাদ, চরকাউয়া, চরমোনাই, কালীজিরা সহ কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এলাকা সহ বরিশাল নগরী। যার ফলে আবারো ভিটা-বাড়ী হারাবেন অংসখ্য মানুষ। গত কয়েক বছরে এই এলাকাতে ভিটা-বাড়ী হারিয়ে পথে বসেছেন কয়েক হাজার হাজার মানুষ।

সরকারী নির্দেশ নির্দিষ্ট ইজারাকৃত অথাৎ বালুমহল এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের নির্দেশ থাকলেও সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বালু খেখোদের সাথে জড়িত থাকার সুবাধে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীরা মাসিক চুক্তিভিত্তিক মাসওয়ারা দিয়ে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করেই যাচ্ছেন। আর.আর এফ পুলিশ লাইন্স’র আরআই মোঃ শফিকুল ইসলাম ২০ লাখ টাকা দাবীর বিষয় অস্বিকার করে তিনি জানান, তবে পুকুর ভড়াটে ঠিকাদার কোথায় থেকে বালু এনে ভড়াট করবেন সেটা তাদের বিষয়।

এবিষয় তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবী করেন। বরিশাল গর্ণপূত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, বালু ভড়াটের দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে রুপালী কনেকট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। পুকুর কিভাবে ভড়াট করবেন সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয় এই কর্মকর্তা বলেন এটা দন্ডনীয় অপরাধ। তিনি আরো বলেন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদরখি করে আইননুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে জানান।