আ’লীগ নেতা সঞ্জয়কে কুলাঙ্গার বলায় এমপি পংকজকে উকিল নোটিশ

0
234

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের সংবাদ সম্মেলনের পরপর পাল্টা চ্যালেঞ্জের পর এবার উকিল নোটিশ দিলেন কাজীর হাট থানা শাখার আওয়ামীলীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় চন্দ্র।

উকিল নোটিশে উল্লেখ করেন, এমপি পংকজ নাথ চলতি মাসের ৬ তারিখ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা পার্কে একটি কাউন্টার সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে কাজীর হাট থানা শাখার আওয়ামীলীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় চন্দ্রকে শতকের মত সাংবাদিক ও কয়েক হাজার লোকজনের সম্মুখে কুলাঙ্গার বলে গালি দেন।

এতে আ’লীগ নেতা সঞ্জয় মানষিকভাবে কষ্টানুভাব করেন ও প্রেসার বেড়ে যায়। পরবর্তিতে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। এদিকে মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ায় শারিরীক, মানসিক, সামাজিক, আর্র্থিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিসাধান হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। গতকাল এ্যাড. সৈয়দ আবুল খায়ের মোঃ সফিউল্লাহ আ’লীগ নেতা শ্রী সঞ্জয় চন্দ্রের পক্ষে উকিল নোটিশ পাঠান এমপি পংকজকে। আগামী ৭দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে নিঃস্বার্থ ভাবে ক্ষমা চেয়ে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারের করার জন্য বলা হয়েছে। অন্যাথায় এমপি পংকজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উকিল নোটিশে উল্লেখ করেন। গত ৬ তারিখ এমপি পংকজ দেবনাথ সাংবাদিক ডেকে একটি মন গড়া সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই দিন (বুধবার) সন্ধায় বরিশাল প্রেসক্লাব ও বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি-সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত পত্র জমা দেন কাজীর হাট থানা শাখার আওয়ামীলীগের সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় চন্দ্র।

 

আ’লীগ নেতা সময়ের বার্তার কার্যালয়ে এসে ভিডিও বক্তব্যে বলেন, ‘এমপি পঙ্কজ দেবনাথের পিতা এক সময়ে মতিনাথের সুপারির আড়ৎ এর কয়েলদার ছিলেন, দ্বিতীয়ত, বর্তমান পৌর মেয়র আলহাজ্ব কামাল খানের কর্মচারীও ছিলেন। সর্বশেষ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এমপি পঙ্কজ দেবনাথ তার স্ত্রীর টাকা দিয়ে সংসার চালাতো। এছাড়াও উক্ত ভিডিও বক্তব্যে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন সময়ের বার্তাকে।

 

ভিডিওটি সময়ের বার্তার অনলাইন সংস্করণসহ ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশ হবার পর-পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার পাঠক ভিডিওটি দেখেন এবং প্রায় দের শতাধিক শেয়ার হয়। চলতি মাসের ৪ তারিখ বরিশালের একটি রেস্টুরেন্টে এম.পি পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন সঞ্জয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে গত ৬ তারিখ মেহেন্দীগঞ্জ পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন এম.পি পঙ্কজ দেবনাথ। পরে এমপির সংবাদ সম্মেলনকে চ্যালেঞ্জ করে টকশো’র আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাশাপাশি সঞ্জয় পুনরায় সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে উল্লেখ করেন।

গতকাল এমপিকে উকিল নোটিশ প্রদান করেন সঞ্জয়। ৪ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় উল্লেখ করেন, বরিশাল ৪ নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই দলীয় সাংসদ পঙ্কজের হাতে এ পর্যন্ত বেশি নির্যাতিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ পঙ্গু, কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে আছেন।

 

তাদের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে বহিরাগতদের দ্বারা শাসন করছেন হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানা এলাকা। বরিশালের শহরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই নির্যাতিত নেতা সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের সন্ত্রাসের লোমহর্ষক নানা কাহিনীসহ দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির দালিলিক প্রমাণসহ ফিরিস্তি তুলে ধরেন। নির্যাতিত সঞ্জয় চন্দ্র দলীয় সাংসদের নিজ হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পর গত তিন বছর বরিশাল শহরে আশ্রয় নিয়ে আছেন। ওই সংবাদ সম্মেলন ডাকার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- সাংসদ পঙ্কজ অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য ও আত্মীয়করণ করার প্রেক্ষাপটে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কালক্ষেপণ নিয়ে মিডিয়াকে অবহিত করা। সঞ্জয় চন্দ্রের অভিযোগ- মেহেন্দিগঞ্জে ৯টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দলীয় সাংসদ প্রভাব বিস্তার করে ২০১৫ সালে ১৮ জন শিক্ষককে নিয়োগ পাইয়ে দেন। এর মধ্যে তার আপন ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ রয়েছেন।

 

এই নিয়োগ বাণিজ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা দেনদেন হয় বলে তিনি দাবি করেন। বিতর্ক এড়াতে ২০০৯ সালে তাদের নিয়োগ দেখানোর ক্ষেত্রে ভুয়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও নিয়োগ কমিটির একজনের স্বাক্ষর জাল করার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এই অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে পঙ্কজ নাথের ভাইয়ের স্ত্রী কল্যাণী দেবনাথ ও বিদ্যানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মিয়াসহ ৪১ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলার বিষয় সহ নানান দূর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন সঞ্জয়।

 

উক্ত সংবাদ সম্মেলনের বিপক্ষে ৬তারিখ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন এমপি পঙ্কজ দেবনাথ। পঙ্কজ দেবনাথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রকাশিত সংবাদের সাথে তার জীবনের বাস্তবতার কোন মিল নেই। মনগড়া ও চটকদার সংবাদ পরিবেশন মাধ্যমে তাকে হেয় করার এই ষড়যন্ত্র নতুন নয়। তার দাবি এসবই ঘটছে বরিশাল থেকে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নীতিগত দ্বন্দ থেকেই দলের একটি অংশ ষড়যন্ত্রের জাল বপন করে সময় বিশেষ তাকে হেয় করা সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন এমপি পংকজ। তবে এমপির বক্তব্যের এক পর্যায় আ’লীগ নেতা সঞ্জয়কে কুলাঙ্গার বলার অভিযোগ এনে সঞ্জয় আইনজীবির মাধ্যমে গতকাল উকিল নোটিশ করেন এমপি পংকজকে।