ইট ভাটা থেকে প্রতি বছর ১০ কোটি টাকা উৎকোচ!

0
359

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারী ভ্যাট আইন ও বিধিমালায় উপেক্ষা করে নিজেদের তৈরী নীতিমালায় চলছে বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্তাবাবুদের দুর্নীতির কারসাজি। অভিযোগ উঠে মূসক ব্যবস্থায় আদর্শ হারে ১৫% হারে মূসক, ট্যারিফ মূল্য ও সংকুচিত মূল্যে মূসক পরিশোধের বিধান মাফিক ভ্যাট আদায় হচ্ছে কিনা সে বিষয় খেয়াল রাখা। ট্যারিফ মূল্য ও সংকুচিত ভিত্তি মূল্যে পণ্য/সেবা প্রদানকারীর রেয়াত গ্রহণ করতে না পারায় তারা কাঁচামালের ওপর ভ্যাট পরিশোধ হয়েছে কি না-তা যাচাই না করে নিজেদের কমিশনের উপর ভিত্তি করে মাসিক বা বাৎসরিক চুক্তি ভিক্তিক হারে নামে মাত্র ভ্যাট পরিষদ করার নির্দেশদেন কর্তাবাবুরা।

অনিয়ম হয় তবে সেটা দেশের অন্যন্য জেলার চেয়ে বরিশাল জেলায় হাজার গুণ কম অনিয়ম হয়! আর সেই অনিয়মের কথা অকপটে স্বীকার করে নিলেন বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্তাবাবু সার্কেল-২ এর বরিশাল রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ খবির আহাম্মদ ভূঁইয়া নিজেই। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে। এসকল আদায়কৃত অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে।

কথায় আছে শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা। এমন প্রবাদ বাক্য মিলে গেছে বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস কর্তাবাবুদের বিরুদ্ধে। বরিশাল সদর উপজেলা সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতে প্রায় শ খানেক ইট ভাটার মধ্যে ৮/১০টি ইট ভাটা থেকে নামে মাত্র আদায় করা হচ্ছে ভ্যাট। আর বাকীগুলো অথাৎ প্রায় “শ” খানেক ইট ভাটা থেকে প্রতি বছর ইট ভাটা প্রতি প্রায় ৬ লাখ টাকা করে মোট ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন অসাধু কর্তাবাবুরা।

অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার মত সরকারী রাজস্ব। একাধিক ইট ভাটা মালিকদের দাবী ইট পুরার মৌসমে প্রতি বছর বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এর অফিসাররা ইট ভাটায় হানা দিয়ে থাকে। তাদের চাহিদা মাফিক অর্থ না দিলে ভাটা নষ্ট করে দেয়া সহ নানান ভয়-ভিতি প্রদান করে থাকেন। এজনই মালিক পক্ষ বাদ্দ হয়েই কর্তাবাবুদের চাহিদা মাফিক অর্থ দিতে হচ্ছে। আর তারাও নিচ্ছেন বাড়তি সুবিধা।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ভ্যাট আইন মুতাবেক সরকারী কোষাঘারে যে পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। তার অনেক কম অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়ে অধিক মুনাফা পাচ্ছেন তারা। এজন্যই এই পথ বেছে নেন বলে ইট ভাটা মালিক পক্ষের দাবী। অর্থনীতিবিদদের দাবী অতি দ্রুত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এবিষয় নজর দেয়া উচিৎ। অন্যতয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। অন্যদিকে এভাবে চলতে থাকলে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাবেন। যা দেশের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি স্বরুপ।