উৎপলের সন্ধান পাওয়ার গুঞ্জন, সত্যতা মেলেনি কোথাও

0
86

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

প্রায় ২৬ দিন পর সাংবাদিক উৎপল দাসের সন্ধান পাওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও এর কোনো সত্যতা মেলেনি। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে উৎপল চিকিৎসাধীন আছেন বলে রবিবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতাল সূত্র ও উৎপলের চাকরিস্থলের কর্তৃপক্ষ।

উৎপল দাস নিউজপোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডিনিউজের একজন সিনিয়র সাংবাদিক। গত ১০ অক্টোবর বিকাল থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

রবিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে উৎপল দাসের সন্ধান মেলেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। প্রায় প্রতিটি টেলিভিশনের স্ক্রলে উৎপলের সন্ধান পাওয়ার খবর দেয়া হয়। তবে একটু পর স্ক্রলটি সরিয়ে নেয়া হয়।

সবাই পূর্বপশ্চিমবিডির সূত্রে খবরটি প্রচার করে। নিউজপোর্টালটি ‘উৎপলকে পাওয়া গেছে’ এমন খবর পাওয়া গেছে প্রথমে পরিবেশন করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

আমাদের মির্জাপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, উৎপলকে পাওয়া গেছে এমন খবর পেয়েই তিনি ছুটে যান মির্জাপুরে কুমোদিনী হাসপাতালে। সেখানে ভিড় করেন অন্য সাংবাদিকরাও। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, উৎপল নামে কেউ এখানে চিকিৎসাধীন নেই। হাসপাতালের পরিচালক দুলাল পোদ্দার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা এমন কোনো রোগীকে এখানে ভর্তি করিনি।’

মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমার জানামতে মির্জাপুরে উৎপল দাস নামে কোনো রোগী কোথাও চিকিৎসাধীন নেই।’

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মির্জানুল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরাও গুঞ্জন শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’

পূর্বপশ্চিমবিডি নিউজের সম্পাদক খুজিস্তা নুর ই নাহরীন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদেরকে প্রথমে মতিঝিল থানা থেকে উৎপলের সন্ধান পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পরে বলা হয়েছে খবরটি ভুয়া।’

নিউজপোর্টালটির প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘উৎপল নিখোঁজের পর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সেই জিডির আইও গোলাম উদ্দিন মাহমুদ রব্বানী আজ সন্ধ্যার পর আমাকে ফোন করে জানান, উৎপলকে মির্জাপুরে পাওয়া গেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিকে হাসপাতালে পাঠাই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানায়, এই নামে কোনো রোগী তাদের কাছে নেই।’

পীর হাবিব জানান, পরে মতিঝিল থানার ওসি এবং মামলার আইও জানিয়েছেন, খবরটি আসলে ভুয়া ছিল। তারাও এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি।

উৎপল দাসকে খোঁজে পেতে তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। এছাড়া সাংবাদিকরা তার সন্ধান দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। সরকারকে আলটিমেটামও দিয়েছিলেন সাংবাদিকরা।