এমইপি গ্রুপ সহ ৩১ ভূমি দস্যুর তালিকা ভুমি মন্ত্রণালয়ে

0
188

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের নামি দামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারী জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এম.ই.পি গ্র“প, অপসোনিন ক্যামিক্যাল ইন্ডাঃ, এ্যাংকর সিমেন্ট, ‘প্রাণ’ কোম্পানী সহ ৭ টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশী মোট ৩১ জন ভুমি দস্যু উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট্র দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বরিশাল সদরের ৩১ ভুমি দস্যুর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রনালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়,বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বারবর লিখিত আবেদন জমা দেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন এর বরিশাল জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা।

চলতি মাসের ২০ তারিখ উক্ত দপ্তরে সংগঠনের সভাপতি হারুন ভান্ডারী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম মহুরীর স্বাক্ষরিত লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, ভূমিহীনদের খাস জমি সরকারের বন্ধবস্ত দেওয়ার আদেশ থাকা স্বত্তেও প্রকৃত ভূমিহীন কৃষক শ্রমিক বিভিন্ন চরে অবস্থানে থাকতে যেমন পারছে না! এমনকি কোন চরে যেতেও পারতেছে না ভূমি দস্যূদের কারনে! তাদের দাবী বাস্তবে প্রকৃত ভূমিহীন বরাদ্দ পায়না।

ভুমিহীনদের উপর চলছে জুলুম অত্যাচার নির্যাতন উচ্ছেদ হওয়ার স্বীকার! সারাদেশে এই সব চরে সকল দলীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের অবৈধ দখলে খাস জমিতে শিল্পকারখানা মিল ইন্ডাস্ট্রিজ বিভিন্ন স্থাপনা ইটের ভাটা, ডকইয়ার্ড, বাউন্ডারি ওয়াল একাধিক- বহুতল পাকা ইমারত ভবন নির্মান।

প্রভাবশালীদের ব্যবসা বাণিজ্যর টাকায় নৈতিক দায়িত্বের মুখোশে বহালতবিয়তে থাকা বিভিন্ন চরে ভূমিগ্রাসীদের বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের কাছে সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধান তদন্ত করে যাহাতে প্রকৃত ভূমিহীন কৃষক ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় অনুযায়ী বরাদ্ধ পাইতে পারে সে বিষয়ে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান নেতারা।

সংগঠনের প্যাডে নেতারা ভুমি দস্যূ হিসাবে যাদের নাম ও জমির পরিমান উল্লেখ করে তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমাদেন, তারা হচ্ছেন, রুপাতলী-দপদপিয়া ফেরিঘাটের পশ্চিম উত্তরে ‘প্রান’ কোম্পানী মালিক প্রায় ১০ একর, একই এলাকায় অপসোনিন ক্যামিক্যাল ইন্ডাঃ কোম্পানি প্রায় ১৫ একর, দপদপিয়া ফেরিঘাটের পূর্ব উত্তর কোণে এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানি প্রায় ৫ একর, চাঁদমারী খাল দক্ষিন পাড়ের চর এটিএম শহিদুল কবির সহ অনেক নেতাদের নামে বে-নামে প্রায় ৫ একর, কেডিসির নামার চর মোঃ শামসু মিয়ার দখলে রয়েছে তিন তলা পাকা ইমারত ভবন ও স্বনামে বে-নামে ২ একরের উপরে, সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনের দখলে আছে কেডিসির বালুর মাঠ বস্তি, কর্ণকাঠি নদীর ওপার ইটের ভাটা, মোহাম্মদপুর চরে ডর্ক ইয়ার্ড সহ প্রায় ৫ একরের উপরে, রসুলপুর চরে আঃ রহিম প্রায় ২০ টি ভিটি বিক্রি করেন ও প্রায় ৮০ শতাংশের উপরে খাস জমি দখল, বশির আহমেদ নামের আরেক ভুমি দস্যূ প্রায় ১০০ টি ১০০ ঘর উত্তোলন করে বিক্রি ও ক্ষমতা অপব্যবহার করে ভাড়াটিয়া রেখে অর্থ আদায়।

কাউন্সিলর হারুন-অর-রশিদ প্রায় ৪১ টি ভিটি বিক্রি সহ আরো ৬০ শতাংশ মাছের ঘের নির্মান। কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম প্রায় ১০০ টি ভিটি বিক্রি সহ ১০০ শতাংশ দখল করিয়া বাউন্ডারি ওয়াল করে প্লট বিক্রি। জাহাঙ্গীর তালুকদার প্রায় ১০ টি ভিটি বিক্রি, ৫ টি ঘর ভাড়া সহ প্রায় ১০০ শতাংশ জমি দখল করিয়া বাউন্ডারি তারকাটার বেড়া দিয়ে রেখেছেন।

ইমাম সমিতির অন্যতম সদস্য মাওঃ মোশাররফ হোসেন প্রায় ৮০ শতাংশ জবর দখল করে বাগান তৈরী করেন। এ্যাড. শহিদ (পদ্মাবতী)র বাসীন্দা তিনি প্রায় ৪৮ শতাংশ মাছের ঘের এবং ঘর নির্মান করিয়া ভাড়া দিচ্ছেন। মরহুম আকবর হাজীর নামে প্রায় ১৩৭ টি ভিটি বিক্রি সহ ২০ শতাংশ জবর দখল করে রাখার অভিযোগ উঠে। এছাড়া কারুন মিয়া (পদ্মাবতী)র বাসীন্দা তিনি রেখেছেন প্রায় ৪৮ শতাংশ বর্তমানে সেখানে মুরগীর খামার এবং মাছের ঘের, তিন তলা হোটেল নির্মান করিয়া ভাড়া দিয়েছেন। শুক্কুর ওরফে দালাল শুক্কুর ১০ টি ভিটি বিক্রি ও ২০ টি ঘর ভাড়া সহ ২০ শতাংশ নিজের দখলে রেখেছেন।

কবির ঢালী ৪০ টি ভিটি বিক্রি ও ৫ টি ঘর ভাড়া সহ ৩৫ শতাংশ নিজের দখলে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান করে রেখেছেন। ইমরাজ হোসেন (চকবাজারের ব্যবসায়ী) ৫ টি ভিটি বিক্রি ও ২০ টি ঘর ভাড়া সহ ৩৬ শতাংশ বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান। শ্রমিক নেতা পরিমল চন্দ্র ৫০ টি ভিটি বিক্রি ও ২০ টি ঘর ভাড়া সহ ২ একর জবর দখলে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান। মৎস ব্যবসায়ী খান হাবিব ২০ টি ভিটি বিক্রি ও ১ একরের উপরে দখলে বাউন্ডারী ওয়াল, পোর্ট রোডে খাস জমিতে অবৈধ ভাবে বহুতল ভবন ভাড়া দিয়ে প্রায় কয়েক কোটি কোটি টাকা আদায় করছেন। সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন নোমান ৫০ টি ভিটি বিক্রি ও ২০ টি ঘর ভাড়া সহ ১ একরের উপরে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মান করে দখল। বজলুর রহমান ১০০ টি ভিটি বিক্রি ৫০ টি ঘর বাড়া সহ ১ একর দখলে বাউন্ডারি ওয়াল এবং বহুতল বিশিষ্ট পাকা ইমারত নির্মান করে ভাড়ায় কয়েক কোটি টাকা ভাড়া আদায়।

মোহাম্মদপুর চরে এম.ই.পি এনার্জি সেভিংস ল্যাম্পস কোম্পানী নদীর পাড়ে বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে প্রায় ১০ একরের উপরে, পোর্ট রোড কষাই খানায় বহুতল ভবন এবং অফিস কোম্পানী নির্মান, চকবাজারের মৌসুমী কোম্পানী হারুন-অর-রশিদ মোহাম্মদপুরে বিশাল গরুর খামার তৈরী করে প্রায় ৩ একরের উপরে দখল, বি.এম কলেজের প্রফেসর মোঃ আবুল কালাম আজাদ ২০ টি ভিটি বিক্রি ও ১০ ঘর ভাড়া সহ প্রায় ১ একর ৫০ শতাংশ দখল, মোহাম্মদপুর চরে মোঃ লাল মিয়া ১০০ টি ভিটি বিক্রি৫০ টি ঘর ভাড়া সহ ১০ একরের উপরে ১১টি দিঘিতে মাছের চাষ, পলাশপুর ৭নং ওয়ার্ডের মাথায় মোঃ মাইনুল কাউন্সিলর ১০০ টি ভিটি বিক্রি ও ২০০ টি ঘর ভাড়া সহ ১০ একরের উপরে বাউন্ডারী ওয়াল দিঘী আকারে মাছের ঘের নির্মান, খোন্নারের চরে চরমোনাই পীরের ভাই ১০০টি ভিটি বিক্রি ৫০ টি ঘর ভাড়া সহ ৫ একরের উপরে জমি দখল, ইটের ভাটা, মুরগীর খামার নির্মান, চরবাড়িয়া মৌজায় লামচরীরর চরে গাজীর খেয়াঘাটের খাস জমিতে মোঃ ইউনুস মিয়া ইনা ব্রিক্্স, ১০ একর দখলে নদীর ওপারে- এপারে দখলে মোট ২০ একর ও চরবাড়িয়া মৌজায় লামচরীরর চরে গাজীর খেয়াঘাটের খাস জমিতে মোঃ ফারুক আহম্মেদ ইটের ভাটা নির্মান সহ প্রায় ৭ একরের উপরে দখল এবং চরবাড়ীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজ মিয়া ১০০ টি ভিটি বিক্রি ৫০ টি ঘর ভাড়া সহ ৫ একরের উপরে সরকারী খাস জমি দখল করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। অথচ, প্রকৃত ভুমিহীনরা আজও তাদের মাথা খোজার সম্পত্তি পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের দাবী ভুমি দস্যূদের হাত থেকে সরকারী সম্পত্তি উদ্বার করে প্রকৃত ভুমিহীনরা যাতে সঠিক ভাবে সম্পত্তি পেতে পারে সে বিষয় যথাযত ব্যবস্থা নিতে পারেন সে দিকে নজর দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন।