এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যায় আটক-৪

0
158

চট্টগ্রাম অফিস।।

চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় চার সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও।

সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মনোবল ভেঙে দিতেই বাবুল আক্তারের হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে চিন্তা করছি। পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার উদ্যোগ নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে। অনেক রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ এ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছেন। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে’।
কামাল বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফল। আমাদের দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্য একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকেই খেলাধুলায় জড়িত ছিলো। নতুন একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততারও প্রমাণ পাওয়া গেছে’।

এর আগে রবিবার সকালে নিজাম রোডের বাসা থেকে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে জিইসি মোড়ে যাওয়ার সময় খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু।

মোটর সাইকেলে করে আসা তিন হামলাকারী জিইসি মোড়সংলগ্ন মিষ্টির দোকান ওয়েল ফুডের সামনে মিতুকে প্রথমে ছুরি মারে এবং পরে মাথায় গুলিকরে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

আশপাশের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ড শেষ করতে খুনিরা সময় নিয়েছে ৪০ থেকে ৫০ সেকেন্ড। এই খুনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিদেশি, হিন্দু ‍পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজকদের হামলার মিল রয়েছে; যেসব ঘটনায় জঙ্গিরাই মূল সন্দেহভাজন।

পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কিছুদিন আগে ঢাকার পুলিশ সদরদপ্তরে যোগ দেওয়ার আগে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হিসেবে চট্টগ্রামে ছিলেন বাবুল আক্তার। সে সময় জঙ্গি দমন অভিযানে সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হন তিনি।

এ কারণে বিভিন্নভাবে হুমকি আসতে থাকায় উদ্বেগে ভুগছিলেন মিতু। ও আর নিজাম রোডের ওই বাসা বদলে ফেলার ইচ্ছার কথাও এক প্রতিবেশীকে বলেছিলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গি দমনে বাবুলের ভূমিকার কারণেই তার স্ত্রীকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।

ওই ঘটনায় পাঁচলাইশ থানার এসআই ত্রিরতন বড়ুয়া রোববার রাতে একটি মামলা করেছেন, যাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন।

এদিকে রাতে নগরীর শুলকবহর এলাকা থেকে এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে টহল পুলিশ। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে মোটরসাইকেলটি দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।