কষ্ট থেকে মুক্তি দিতেই মাকে হত্যা

0
215

চট্টগ্রাম অফিস।।

অসুস্থতার কষ্ট থেকে মুক্তি দিতেই মা কুমকুম চৌধুরীকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন ছেলে সুমিত চৌধুরী। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের কাছে এমনটাই স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানান চট্টগ্রামের বন্দর থানার ওসি (তদন্ত) বদরুল মামুন।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত জানান, মায়ের কষ্ট সইতে না পেরে তাকে জবাই করে হত্যা করি। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন মা কুমকুম চৌধুরী (৫৭)। দুই সন্তানের মধ্যে সুমিত চৌধুরী অসুস্থ মায়ের সেবাযত্ন করতেন।

মাঝে মাঝে বিকেলে মাকে হুইলচেয়ারে করে বাইরে ঘুরিয়ে আনতেন। কিন্তু শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের গোসাইলডাঙ্গার সরকার টাওয়ারের তৃতীয় তলার বাসায় মাকে কুপিয়ে হত্যা করে সেই ছোট ছেলে সুমিত।

মাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি সে। নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় মা ও ছোট ছেলে ছিল। বড় ছেলে ফটোকপি করে বাসায় এসে রক্তাক্ত অবস্থা দেখে চিৎকার করে। এসময় পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়।

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীর থেকে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আঘাতের সময় আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে বাঁ হাতের আঙুলেও আঘাত লাগে।

বাবা সুখময় চৌধুরী কর আইনজীবী হিসেবে ঢাকায় কর্মরত আছেন। সেখানে আরেকটি সংসার আছে তাঁর। হত্যাকাণ্ডটি পারিবারিক কলহের জেরে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার রতন জানায়, ছেলেটি খুবই ভালো ছিল। কখনো কোন খারাপ কোন কিছুর সঙ্গে তাকে দেখিনি। তবে সে কারো সঙ্গেই তেমন কথা বলতো না, নিজের মতোয় থাকতো।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় তাদের পৈতৃক বাড়ি। নগরীর ওই ভবনের তৃতীয়তলায় কুমকুম চৌধুরী (৪৫), তার বড় ছেলে সোমনাথ চৌধুরী (২৪) ও ছোট ছেলে সুমিত চৌধুরী বসবাস করতেন।

স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী কুমকুম চৌধুরী নয় মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। সুমিত এবার ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। পরে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। পুনঃনিরীক্ষণে এক বিষয়ে পাস দেখালেও অপর দুটি বিষয়ে অকৃতকার্যই দেখানো হয়। এ নিয়ে আজ বড় ভাই তাকে বকাঝকা করেন।

এটাকে কেন্দ্র করে হত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত সুমিতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বড় ছেলে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে বিবিএ প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন। পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমিতকে গ্রেফতার করেছে।