কাগজেও ভ্যাট, শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বাড়বে

0
55

যেকোনো দেশের নতুন শিল্পের বিকাশ উৎসাহিত করতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। ব্যতিক্রম বোধ হয় শুধু বাংলাদেশ, যেখানে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় নানাভাবে।

একদিকে আমদানি উৎসাহিত করে স্থানীয় শিল্পকে ঠেলে দেওয়া হয় অসম প্রতিযোগিতার মুখে; অন্যদিকে ভ্যাট-ট্যাক্স ইতাদি গুনতে গিয়ে বিকাশমান শিল্পের অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হয়। দেশের কাগজশিল্পের জন্য এ কথাটি বেশি করে খাটে। বাংলাদেশে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে ৮৭টি পেপার মিলে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ যদি হিসাব করা হয়, তাহলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা পূরণের সামর্থ্য থাকায় এখন বিদেশ থেকে কাগজ আমদানি না করলেও চলে। বিকাশমান এই শিল্পকে উৎসাহিত করতে যেখানে ভ্যাট থেকে রেয়াত দেওয়া দরকার, সেখানে এবারের বাজেটে নতুন করে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ বাজেট প্রস্তাবের আগে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহারের দাবি ছিল বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের। সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়েও ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে সুরক্ষার বদলে হুমকির মুখে পড়ে গেল দেশের কাগজশিল্প।কাগজ উৎপাদনের প্রধান উপকরণ পাল্পের দাম এখন আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বোচ্চ। পাল্পের দামসহ প্রতি টন কাগজ উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এখন এর সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত হলে বাজারে কাগজের দাম আরো বাড়বে। অন্যদিকে বাজারে চোরাই পথে চলে আসছে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাগজ। ফলে বড় ধরনের প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে দেশের কাগজশিল্পকে। শিক্ষার প্রাথমিক উপকরণই হচ্ছে কাগজ। সরকার পাঠ্যপুস্তকের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করে কাগজের ওপর ভ্যাট আরোপ করলে শিক্ষা উপকরণের দাম কমার পরিবর্তে বাড়বে। দেশে শিক্ষা উপকরণ সহজলভ্য না হলে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে তা বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এর আগে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রীর কাছে করা এক আবেদনে ভ্যাট প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিল। দেশের মিলগুলোতে যে কাগজ উৎপাদিত হয় তা থেকে এক্সারসাইজ বুক, স্পাইরাল নোটবুক তৈরি হয়। এ ছাড়া কাগজজাত আরো অন্যান্য সামগ্রীও তৈরি হচ্ছে দেশের কারখানায় উৎপাদিত কাগজে। দেশের প্যাকেজিং শিল্পও কাগজশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। আবার বন্ড সুবিধায় আনা বিদেশি কাগজ কালোবাজারে চলে যাওয়ার কারণে অসম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হচ্ছে। ফলে নতুন করে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করায় দেশের কাগজশিল্প হুমকির মুখে পড়বে।

ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে মাত্র। বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার পর একটি গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আমরা আশা করব, আমাদের নীতিনির্ধারকরা দেশের কাগজশিল্পের প্রসার ও বিকাশের সব বাধা দূর করতে সম্ভাব্য সব করবেন।-কালের কণ্ঠ