কাশিপুরে জামায়েত পরিচালিত স্পার্ক’র অবৈধ হাউজিং ব্যবসা

0
153
dav

এম. লোকমান হোসাঈন ॥ জমি নেই! তবুও জমির মালিক!! এমনকি নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। বরিশাল কাশিপুর ইউনিয়নে জামায়ত-শিবির নেতাদের ধারা পরিচালিত স্পার্ক বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিঃ নামক একটি প্রতিষ্ঠান বেশী মুনাফার আসায় কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে কৃষি জমি অল্প টাকায় ক্রয় করে র্দীঘদিন যাবত হাউজিং ব্যবসা করে আসছেন চক্রটি। একদিকে বিলুপ্ত হচ্ছে কৃষি জমি। অন্যদিকে রাষ্ট্র হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

নিয়ম অনুযায়ী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হাউজিং ব্যবসা করতে হলে সরকারী নির্দেশ পালন করেই এই ব্যবসা করতে হবে। অদৃশ্য ক্ষমতা নিয়ে জামায়ত-শিবির নেতাদের ধারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কোন নির্দেশ পালন না করে বছরের পর বছর অবৈধভাবে হাউজিং প্রকল্পের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন বীরদর্পে।

প্রতিষ্ঠানের করে আসছেন বীরদর্পে। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ এবং ভুমি-জলাশয় আইন অমান্য করছেন। বরিশাল এয়ারপোর্ট থানাধীন ২ নং কাশিপুর ইউনিয়ন এর কলসগ্রাম ও মগরপাড়া মৌজার ৬৪ একর (প্রায় ২৫ দশমিক ৯১ হেক্টর) জমির উপর স্পার্ক মডেল সিটি নামক একটি প্রকল্প চালু করেন। স্পার্ক মডেল সিটি’র প্লট ক্রয়ের নীতিমালাতে উল্লেখ করেন, জমি ক্রেতাগণ আবেদনপত্র অনুমোদনের পর গ্রাহক ও কোম্পানির মধ্যে চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানের সরকারী কোন অনুমতি নাই সেই প্রতিষ্ঠান থেকে যারা নিজেদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ দিয়ে কিস্তি ভিত্তিক প্লট কিনে বসবাস করার স্বপ্ন দেখে সেই-সকল গ্রাহকদের কতটুকু নিশ্চয়তা দিয়ে থাকেন স্পার্ক বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ? অনুসন্ধান বলছে, নামে মাত্র কিছু জমি ক্রয় করে স্পার্ক বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিঃ এর স্পার্ক মডেল সিটির বিশাল সাইন বোর্ড সাঠিয়ে দেখানো হচ্ছে সাইন বোর্ডের আশপাশের সকল জমির মালিক তারা নিজেরাই।

এদিকে দীর্ঘদিন যাবত প্রকল্পের তৈরীকৃত লে-আউট এর মাধ্যমে কৃষি জমি প্লট সাজিয়ে কিস্তি ভিত্তিক বিক্রি করে আসছেন প্রতারক চক্রটি। এমনকি নিজস্ব অফিস যাতায়াত এর জন্য সরকারী খাল ভরাট করে করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির তৈরীকৃত নিজস্ব অফিস ও তাদের দাবীকৃত ৬৪ একর সম্পত্তির ভবিষ্যৎ এর বিশাল রাস্তা। স্পার্ক মডেল সিটি প্রকল্পের লে-আউটে দেখা যায় ২নং কাশিপুর ইউনিয়নের ছয় মাইলস্থ কলসগ্রাম ও মগরপাড়া মৌজার একসাথে ৬৪ একর জমির মালিক দাবী করে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। জমির আসল মালিকদাররা জমি বিক্রি না করলেও প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তৈরিকৃত লে-আউটের মাধ্যমে দাবী করছেন সকল সম্পত্তি তাদের নিজস্ব। এক জবাবে কর্তৃপক্ষ জানান, পর্যায়ক্রমে সব সম্পত্তি তাদের নিজেদের হবে এবং এখানেই হবে বরিশাল শহরের আধুনিক স্পার্ক মডেল সিটি। ভুক্তভোগী একাদিক কৃষকরা জানান, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী দালালরা স্পার্কের কাছে জমি বিক্রি করতে বাদ্ধ করছেন। অন্যতয় মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন।

কৃষকদের দাবী এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ নির্ভরশীল। তাদের সর্বশেষ সম্বল কৃষি জমি। আর এই জমিটুকু বিক্রি করা হলে বিকল্প কোন পথ থাকবে না তাদের। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন। যাতে অবৈধ হাউজিং ব্যবসায়ী ভুমিদস্য চক্রের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। তবে স্পার্ক বিজনেস ডেভেলপমেন্ট লিঃ এর চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল জানান, স্টক একচেঞ্জ থেকে অনুমতি নিয়েই তারা উক্ত ব্যবসা পরিচালনা করছেন। স্টক একচেঞ্জ এর কি কাজ? এবং স্টক একচেঞ্জ জমি ক্রয়-বিক্রয় করার অনুমতি দিতে পারেন কি না জানতে চাইলে এনামুল তার কোন সঠিক জবাব দিতে পারেনি। এনামুলের দাবী অনুযায়ী অনুমতি প্রদানকৃত প্রতিষ্ঠান ‘‘স্টক একচেঞ্জ’’ একটি অর্থ লেন-দেন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান।

তবে কোন হাউজিং প্রকল্পের অনুমতি দেয়ার ক্ষমতা স্টক একচেঞ্জ’’ এর মত প্রতিষ্ঠানের নেই। স্টক একচেঞ্জ এর তথ্যমতে তাদের কার্যক্রম হচ্ছে, বিভিন্ন কোম্পানির ‘স্টক’ ব্যবসার কেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে স্টক একচেঞ্জ কম্পিউটার নির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাসম্পন্ন শেয়ার ব্যবসার একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে, এখনো পর্যন্ত স্টক একচেঞ্জের একটি ঠিকানা অক্ষুন্ন রয়েছে যা প্রশাসনিক ও যোগাযোগের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। অন্যান্যের মধ্যে যে সকল কার্যাবলী একটি স্টক একচেঞ্জ-এ সম্পাদিত হয়, সেগুলি হচ্ছে: (১) শেয়ার, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডসহ সিকিউরিটিজগুলির তালিকাভুক্তকরণ; (২) তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজগুলির লেনদেনের ব্যবস্থা করা; (৩) লেনদেনের প্রকৃত সময়ে অনলাইন মার্কেটের প্রতি নজর রাখা, মনিটরিং করা এবং লেনদেন কার্যক্রমের বিধিবিধান প্রতিপালন হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করা; (৪) সম্পাদিত লেনদেন চূড়ান্ত করে নিস্পত্তি করা এবং (৫) নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এর নির্দেশ অনুযায়ী যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১৯৫৬ সালে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় স্টক একচেঞ্জ ঢাকা স্টক একচেঞ্জ লিমিটেড এ শেয়ার বেচাকেনা শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে কোম্পানি আইনের আওতায় ঢাকা স্টক একচেঞ্জ নিবন্ধিত এবং এটি ব্রোকারদের কর্তৃক মালিকানাকৃত। এটি একটি স্ব-নিয়ন্ত্রিত সংস্থা যার প্রশাসনিক কার্যাবলী ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন এবং মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব এ্যাসোসিয়েশন, সিকিউরিটিজ ও একচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯, সিকিউরিটিজ ও একচেঞ্জ বিধি ১৯৮৭ এবং এসইসি কর্তৃক ইস্যুকৃত অন্যান্য বিধি বিধানের আলোকে পরিচালিত হয়। বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, স্পার্ক মডেল সিটি নামে কৃষি জমি ভরাট কিংবা অবৈধ ভাবে কোন হাউজিং ব্যবসা পরিচালনা করা হলে তাদের আইনের আওতায় এনে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।