কাশিপুর বিল্ববাড়ীতে তানিয়া হত্যা!

0
472

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কাশিপুর বিল্বাবাড়ীতে তানিয়া নামে এক গৃহবধূকে বাবার সহযোগিতায় স্বামী কর্তৃক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন চঞ্চল্যকর তথ্য বেড়ি এসেছে সময়ের বার্তা’র অনুসন্ধানে। এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দিতে হয়েছে ১ লাখ টাকা। নিহত তানিয়ার মায়ের অভিযোগ ট্রাক ড্রাইভার বাবুল হাজারীর পৈত্রিক বা নিজের কোন সম্পত্তি না থাকায় শশুড় বাড়ীতে ঘর নির্মান করে সেখানেই বসবাস করে আসছেন বাবুল হাজারী। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়ী দখলের মিশনে নামেন ট্রাক ড্রাইভার বাবুল হাজারী।

এজন্য স্ত্রী তানিয়াকে প্রায় কারনে অকানে নির্যাতন করা হতো। তানিয়ার মায়ের দাবী তার মেয়েকে নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পূর্বে তানিয়াকে একাধিকভার নির্যাতন করার সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য আসে সময়ের বার্তা’র কাছে। উক্ত নির্যাতনের সূত্রধরে অনুসন্ধান করে দেখা যায় হত্যার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে তানিয়ার বাবার সম্পাত্তি এবং অর্থ আত্তসতে চেষ্টা। তানিয়ার বড় ভাই সৌদী প্রবাসী মোঃ কামরুল খানকে ১০শতাংশ জমি দেয়ার কথা বলে কামরুলের বাবা প্রায় ৭ বছর পূর্বে ৪লাখ টাকা নেন। জমি বুঝিয়ে না দেয়া নিয়ে শুরু হয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন ট্রাক ড্রাইভার বাবুল হাজারী। ভাইয়ের পাশাপাশি তানিয়া তার বাবাকে উক্ত টাকা ফেরত জন্য বিভিন্ন সময় অনুরোধ করে আসে। তানিয়া তার বাবাকে ভাইয়ের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে শশুরের পক্ষ নিয়ে তানিয়া স্বামী প্রায় সময় নির্যাতন করে আসছিল। যাহার একাধিক নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও সময়ের বার্তা’র কর্তৃপক্ষের কাছে আসে।

তাতে দেখা যায় তানিয়াকে হত্যার পুর্বে দু-হাত, দুই পা ও শরীলের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভার অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। সর্ব শেষ চলতি বছরের আগষ্ট মাসের ১৮ তারিখ তানিয়াকে নির্যাতন করা হয়েছে। এক পর্যায় তানিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন তানিয়ার স্বামী বাবুল হাজারী ও বাবা। এদিকে এয়ারর্র্র্র্র্র্র্র্র্পোট থানা পুলিশের এসআই মনোজ, এএসআই আউয়াল ও কামাল সহ উপস্থিত পুলিশের একটি টিম প্রাথমিক সুরাতল রিপোর্টে নির্যাতনের নানান আলামত পাওয়ার পরেও রহস্যজনক কারনে কোন মামলা নেন নাই এমনটাই অভিযোগ করেছেন নিহতের মা এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী মিনারা বেগম।

তারা আরো অভিযোগ করেন থানায় হত্যা মামলা করতে চাইলে তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে রহস্যজনক ভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্য গাজী শাহ আলমকে দিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। তানিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী মিনারা বেগম বলেন, গত রমজান মাসে তানিয়াকে অতিরিক্ত নির্যাতন করা হলে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে তানিয়াকে উদ্বার করা হয়।

এবিয়ষ স্থানীয় ইউপি সদস্য গাজী শাহ আলমের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো রোসানলে পরতে হয়েছে নিহত তানিয়ার মা এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রীর। একপর্যায় তানিয়া তার মায়ে সাথে চলে যান চট্টগ্রামে। কিছুদিন পরে বাবুল হাজারীর বাবা ও মা, তানিয়ার মায়ের হাত-পা ধরে চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে আসে বরিশাল। কিছুদিন সাবাভিক ভাবে চলার পর আবারও শুরু হয় তানিয়ার উপর নির্যাতন।

মিনারা বেগম বলেন, তানিয়াকে প্রায়ই নানান কারনে অকাণে নির্যাতন করা হতো। তানিয়ার বড় ভাই সৌদী প্রবাসী থাকায় তিনি বড় ভাইয়ের স্ত্রী হিসাবে উভয়কে মিলিয়ে দিতো। তানিয়ার মা জানান, বরিশাল সদর উপজেলা কাশিপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা জলিল হাজারীর ছেলে মোঃ বাবুল হাজারীর সঙ্গে প্রায় ৯ বছর পূর্বে বিবাহ দেন তানিয়াকে।

এসময় যৌতুক হিসাবে বাবুলকে ৫ শতাংশ জমি তানিয়া ও তানিয়ার স্বামী বাবুলের নামে দলিল করে দেন। বাবুলের পৈত্রিক কোন সম্পত্তি না থাকায় উক্ত সম্পত্তির উপর ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছেন। এদিকে বাবুলের নজর পরে তানিয়ার বাবার অন্যসম্পত্তির উপর। তানিয়ার বাবা সহজ-সরল বুঝতে পেরে বাবুল নতুন ফন্দি পাতে তানিয়ার ভাই ও মা এবং বোনদেন বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করার।

বাবুলের কু-পরামর্শে তানিয়ার ভাই- বোনদের বাড়ী থেকে বের করে দেন তানিয়ার বাবা এমনকি তানিয়ার মাকে বাড়ী থেকে বের করে দেন। কাশিপুর ইউনিয়ন এর ৯ নং পুর্ব বিল্বাবাড়ী ইউপি সদস্য গাজী শাহ আলম এর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, এয়ারপোর্ট থানার এসআই মনোজ জোড়পূর্বক আমাকে মামলার বাদী বানিয়েছে। তানিয়ার স্বামী বাবুল হাজারীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এয়ারর্পোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ বিন আলম জানান, উক্ত ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন