কুমিল্লার জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার একটি বোমা বিস্ফোরিত

0
348
সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার গন্ধমতি বড় কবরস্থানের কাছে তিনতলা বাড়ির জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধারকৃত দুটি বোমা, চারটি গ্রেনেড ও দুটি সুইসাইডাল ভেস্টের মধ্যে আজ শনিবার সকালে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বাকি বোমাগুলো নিষ্ক্রিয়করণের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, সিলেটের পর মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানার সন্ধানের মধ্যে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার গন্ধমতি বড় কবরস্থানের কাছে সন্ধান পাওয়া জঙ্গি আস্তানাটিতে কোনো জঙ্গি পাওয়া যায়নি। গত বুধবার বিকেল থেকে ঘিরে রাখা ওই বাড়িতে শুক্রবার দুপুরে ‘স্ট্রাইক আউট’ নামের চূড়ান্ত অভিযান চালান কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা। তিন দফা গ্যাস ও গুলি করার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায় তিনতলা বাড়িটিতে প্রবেশ করেন তারা। তবে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো জঙ্গি পাওয়া যায়নি।

পরে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা পুলিশ অফিসে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি সফিকুল ইসলাম বাড়িটিতে দুজন জঙ্গি থাকার তথ্য ছিল জানিয়ে বলেন, “বাড়িটি থেকে একটি ট্রলি ব্যাগে পাঁচ কেজি ওজনের দুইটি বোমা, চারটি হাত গ্রেনেড এবং দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান,  অভিযান স্থগিত করা হয়েছে এবং উদ্ধার বোমাগুলো আগামীকাল নিষ্ক্রিয় করা হবে। তিনি জানান, গত ১৫ মার্চ মিরশরাই থেকে দুইজন জঙ্গিকে জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। সেই মোবাইল ফোন ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় ওই দলে যেসব জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের বাইরে আরো ২-৩ জন জঙ্গি রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ নোয়াখালীর আনাস ওরফে আনিস ও পুরনো জেএমবির সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের বা রাজশাহীর রনি কুমিল্লার কোটবাড়িতে রয়েছে। তাদের কারও কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা মিরসরাইয়ে বাসা ভাড়া নিতে ব্যর্থ হয়ে কুমিল্লায় ছাত্র মেসে অবস্থান নেয়। তিনি জানান, এডিসি সায়েমের নেতৃত্বে ১৭ জন সদস্যের সিএমপির সোয়াট টিম এবং এডিসি আনোয়ারের নেতৃত্বে সিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা অভিযান চালান। দুপুরে বাড়িটির জানালা ভেঙে সেখানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বাড়িটির ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার করা হয় একটি ট্রলি ব্যাগে পাঁচ কেজি ওজনের দুইটি বোমা, চারটি হাত গ্রেনেড এবং  দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট। তিনি আরও জানান, বোমাগুলো আজ শনিবার বিস্ফোরণ ঘটানো হবে এবং অভিযান স্থাগিত রাখা হয়েছে।

এর আগে সকালে কোটবাড়ি এলাকায় পানি, গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। সেখানে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। কোটবাড়ি এলাকায় প্রবেশের সব রাস্তা বন্ধ করে করে দেওয়া হয়। বাড়িটির আধা কিলোমিটার দূরে রাখা হয় মিডিয়াকর্মীদের। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদেরকে বাড়িটির আশপাশে যেতে দেওয়া হয়নি। গ্যাস নিক্ষেপের সময় সৈকত নামের এক  পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গত বুধবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার গন্ধমতি বড় কবরস্থানের কাছে তিনতলা বাড়ির ওই আস্তানায় একজন আত্মঘাতী জঙ্গি রয়েছে বলে পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্র জানায়, তরুণ এ জঙ্গির কাছে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট, পাঁচ থেকে ছয়টি বোমা বা গ্রেনেড থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়িটির মালিক দেলোয়ার হোসেন নামের  একজন মাইক্রোবাসচালক। তিনতলা ওই ভবনের চারটি ইউনিটের একটি ইউনিটে জঙ্গি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম থেকে সোয়াটের টিম বৃহস্পতিবার কুমিল্লায় এসে পৌঁছে শুক্রবার পরিচালনা করে। সোয়াটের টিম বার্ডে অবস্থান করে। সূত্র জানায়, ওই বাড়িতে আনাস ও রনি ছদ্মনামে দুই জঙ্গি থাকতে পারে। বিকেলে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকা ১২-১৪ জন ছাত্রের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কাপড় ব্যবসায়ীদের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে দুইজন থাকতে পারে সন্দেহে তালা দিয়ে দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, ওই জঙ্গি বা জঙ্গিদের কাছে ৫-৭ কেজি ওজনের বোমা থাকতে পারে। মোবাইল ফোনে আড়ি পেতে তাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে।