কুমিল্লা নবনির্বাচিত মেয়র সাক্কুকে খুঁজতে অভিযান অব্যাহত

0
37
সময়ের বার্তা ডেস্ক।।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে ‘আত্মগোপনে’ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাক্কুর খুঁজে কুমিল্লা র‌্যাব, পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। তবে তাঁর পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় আছেন। নবনির্বাচিত মেয়র মনিরুলের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা। এরই মধ্যে তার গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজ পৌঁছে গেছে কুমিল্লার কোতয়ালি মডেল থানা এবং ডিএমপির গুলশান থানা পুলিশের হাতে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে সাক্কুর ২টি সেল ফোনের নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তাই তার অবস্থানের বিষয়ে এখনো অন্ধকারে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
  সাক্কু কুমিল্লায় নেই এমন তথ্যের বিষয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা নিশ্চিত হলেও নিয়ম রক্ষার জন্য নগরীর সাক্কুর নানুয়াদিঘীর পাড়স্থ বাসভবনসহ সম্ভাব্য স্থানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে সাক্কুর জামিন আবেদনের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। এর আগে বুধবার বিকেলে ঢাকা থেকে ডাকযোগে দুদকের দায়েরকৃত মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা কুমিল্লার কোতয়ালি মডেল থানায় পৌঁছে। গতকাল সোমবার কুমিল্লার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার দুইটি গেইটের ভিতর দিয়ে তালা বন্ধ রয়েছে। কেয়ার কেটারকেও পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার রমনা থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক শাহিন আরা মমতাজ বাদী হয়ে কুমিল্লা পৌরসভার তৎকালীন মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও তার স্ত্রী আফরোজা জেসমিন টিকলীর বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২৬ (২) ও ২৭ (১) তৎসহ দ-বিধির ১০৯ ধারায় ঢাকার রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন (নং- ১১)। দীর্ঘ আট বছর তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। তবে এ মামলার অভিযোগের দায় থেকে সাক্কুর স্ত্রীকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। গত মঙ্গলবার এ মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে সাক্কুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়াও আদালত সাক্কুর সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেন এবং একই সঙ্গে তার গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আদালত আগামী ৯ মে দিন ধার্য করে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ১২০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাক্কু দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছিলেন।
মনিরুল হক সাক্কুর ছোট ভাই আইনজীবী মো. কাইমুল হক বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে আছেন। রায় না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট তাঁকে জামিনের আদেশ দেন। অভিযোগপত্র দাখিলের পরও দুবার হাজিরা দিয়েছেন তিনি। ভুলক্রমে আদালতে নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। যে কারণে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।’ মনিরুল কোথায় আছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর ভাই চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা থেকে ঢাকায় গিয়েছেন। এরপর কোথায় আছেন, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’
সাক্কুর একাধিক ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি জানান, দুদকের যে মামলায় তার (সাক্কু) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এর আগে তিনি উচ্চ আদালত থেকে সেই মামলায় স্থায়ী জামিনে রয়েছেন। তবুও আদালতের বিধি মেনে তিনি শিগগিরই জামিনের জন্য আদালতে যেতে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সালাম মিয়া গতকাল শনিবার বলেন, মেয়র মনিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি দুই দিন আগে ডাকযোগে তাঁদের কাছে এসেছে।  এখন বিধি মোতাবেক পুলিশের পক্ষ থেকে তা তামিল করার চেষ্টা চলছে। এরপর পুলিশ তাঁর খোঁজে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ে তাঁর বাসায় যায়। তিনি সেখানে নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি আত্মগোপনে।
উল্লেখ্য- ইতিমধ্যে গত ৩০ মার্চ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির নেতা মনিরুল হক। গত ১৮ এপ্রিল রাতে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হলেও এখনো শপথ নেননি তিনি।