কুয়াকাটার পূজামন্ডপে চলছে শিল্পীর শেষ পর্বের কাজ

0
458

কুয়াকাটা প্রতিনিধি।।

‘যা দেবী সর্ব ভূতেষু শান্তিরূপেন সংস্থিতা নমঃ স্তস্বৈ নমঃ স্তস্যৈ নমঃ স্তস্যৈ নমহঃ নমহঃ।’ এমন শারদ-বন্দনার মধ্য দিয়ে আশ্বিনের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হয় দুর্গতিনাশিনী দুর্গাকে বোধন ও আবাহন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সেই মাহেন্দ্র ক্ষণকে সামনে রেখে কুয়াকাটায় চলছে পূজামন্ডপগুলোতে শেষ মুহূর্তের কাজ।

প্রতি বছরের ন্যায় আয়োজন চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা পুজার। যতোই শারদীয়া দুর্গোৎসব এগিয়ে আসছে ততোই আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে হিন্দুপাড়াগুলোতে। কুয়াকাটার পূজামন্ডপগুলো প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে বিরামহীন। শিল্পীরা প্রতিমা নির্মাণে কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সয়য়। ভক্তিময়ী মা দুর্গাকে মাটি দিয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে তৈরি করছেন তারা। মন্দির ও পূজামন্ডপের চারপাশ সাজানো হচ্ছে জাকজমকভাবে। সড়কগুলো সাজানো হচ্ছে বিজলী বাতির মনকাড়া আলোকসজ্জা দিয়ে। পূজামন্ডপগুলো আরও আকর্ষণীয় করতে চলছে প্রতিযোগিতা। ইতোমধ্যে মিশ্রিপাড়া, মম্বিপাড়াসহ কুয়াকাটার অন্যান্য মন্ডপের কাজ শেষ পর্যায়ে। এতে প্রতিমন্ডপে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২/৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন মন্ডপ পরিচালনা কমিটি।

বিভিন্ন মন্ডপ ঘুরে এক পর্যায় কথা হয় প্রতিমা শিল্পী বাবু পাল’র সাথে। তিনি জানান, বিগত বছরগুলো প্রতি মন্ডপে খরচ পড়ত ১/২ লাখ টাকা। প্রতিমা নির্মাণ সাগমগ্রীর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন খরচ বেড়ে দিগুন হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী দূর্গা মহাষষ্ঠী হবে আগামি ০৭ অক্টোবর। শাস্ত্র মতে এদিন পালন করা হবে কল্পারম্ভ, বোধন, অধিবাস ও আবাহন। মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শেষ হবে শারদীয়া উৎসব।

মন্দির অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী শিশির মহারাজ পৃথিবীতে মহামায়ার (দুর্গা) আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ওসুর বধ করে দুগর্তিনাশিনী মা দুর্গা দেবালয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তেমনি প্রতি বছর তিনি অশুভকে বিনাশ করার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন ভক্তদের। তাই প্রতি শরতে মা দুর্গা স্বর্গলোক কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্তে আসেন। নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত তিনি বাবার বাড়িতে কাটিয়ে দেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন চার সন্তান লক্ষী, কার্তিক, স্বরস্বতী ও গণেশকে। পৃথিবীতে দেবী পাঁচ দিন অবস্থান করেন। ভক্তদের বন্দনা ও অঞ্জলী গ্রহণ করে ফিরে যান স্বামীগৃহে।

কুয়াকাটা পূজামন্ডপের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন মন্ডল বলেন, এটা আমাদের বড় উৎসব। সফলভাবে যাতে শারদীয়া উৎসব উদযাপন করা যায় এজন্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশা ব্যক্ত করছি।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র এ এস পি মীর ফসিউর রহমান’র সাথে শারদীয়া উৎসবে নিরাপত্তার বিষয়ে আলাপ হলে তিনি বলেন, সার্বজনীন শারদীয়া উৎসব যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন সেজন্য প্রত্যেক মন্ডপে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।