কুয়াকাটায় কলেজ ছাত্রের লাশ ও অচেতন এক নারী উদ্ধার

0
636

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ।।

কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে খুলনার বিএল কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই সাথে ওই হোটেলের কÿ থেকে অচেতন অবস্থায় এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ ওই হোটেল কÿের দরজা ভেঙ্গে তাদের বের করে এনে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ মার্চ কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল পায়রা’র ৩০১ নম্বর কÿে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে ওঠেন ওই দুই পর্যটক। হোটেলের রেজিষ্টার অনুযায়ী জাহিদুল (৩০), পিতা হাফিজুর এবং তিনা (২৫) স্বামী জাহিদুল, খুলনার সোনাডাঙ্গা বলে উলেøখ করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যÿদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দিনভর তাদের কোন সারা শব্দ না পাওয়ায় রাতে পুলিশকে খবর দেয় হোটেল কর্তৃপÿ।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ ও মহিপুর থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে হোটেল কÿের দরজা ভেঙ্গে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর জাহিদুলকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া তিনা নামের ওই নারী কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

এদিকে, রাত ১১টার দিকে মৃত জাহিদুলের মোবাইল ফোনের এই নম্বরে (০১৭০৬০৫৩২১১) খুলনা থেকে রিয়াদ নামে তার এক বন্ধু ফোন করেন। রিয়াদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী নিহত জাহিদুলের নাম বন্ধন হিসেবেই তারা চেনেন। বন্ধন খুলনার বিএল কলেজের ছাত্র। সেই সাথে খুলনার ‘পথ মাদক নিরাময়’ কেন্দ্রে চাকরি করছিলেন তিনি। তার সাথে থাকা মেয়েটির পরিচয় সম্পর্কে রিয়াদ কিছু বলতে পারেনি।

কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই জাহিদুল ওরফে বন্ধন মারা গেছে। এছাড়া সাথের ওই নারী অচেতন রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত মাত্রায় তারা ঘুমের ঔষধ সেবন করেছে।

মহিপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, হোটেলের ওই কÿ থেকে ‘ক্লোনাজিপাম’ ও ‘প্রোমিথাজিন’ নামের শতাধিক ট্যাবলেটের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এক জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, হোটেলের ডায়েরিতে উলেøখ করা নাম ঠিকানা যাচাই এবং মৃতের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অচেতন নারীকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মৃত বন্ধনের লাশ সুরাত হাল রিপোর্টের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।