কুয়াকাটায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে ধর্মীয় পোশাক প্রদান উৎসব

0
15

এম জাকির হোসাইন, কুয়াকাটা।।

কুয়াকাটায় রাখাইনদের কঠিন চীবর (বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বস্ত্র) উৎসর্গ উৎসব পালিত হয়েছে। সোমবার কালাচাঁনপাড়া রাখাইন পল্লীর ‘শাসনা সুখাকারী বৌদ্ধ বিহারে’ দিনভর এ উৎসবে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার রাখাইনরা মিলিত হয়েছে। ওই পল্লীর মাতুব্বর মংচো তালুকদারের আয়োজনে ২শ’ নর-নারী তাদের ধর্মযাজকদেরকে ধর্মীয় পরিধেয় বস্ত্র প্রদান করেন।

উৎসবে অংশ নেয়া বরগুনা জেলার বড়বালিয়াতলী বিহারের অধ্যক্ষ উ পন্ডিত মহাথেরো বলেন, প্রবরণা পূর্ণিমার রাত থেকে কার্তিকের এ পূর্ণিমা পর্যন্ত যেকোন দিন বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষুদের প্রতিদিনের কর্মসাধন ও নির্বাণ লাভের প্রত্যাশায় দানশীল নর-নারীরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে ধর্মীয় পরিধেয় বস্ত্র দান করেন।

গৌতম বুদ্ধের নির্দেশে এ মাস ব্যতিরেকে অন্য কোনো মাসে বস্ত্র উৎসর্গ করলে ধর্মীয় আচার অনুযায়ী তা গ্রহণ করা হয় না। এ উৎসব উপলেক্ষে ‘শাসনা সুখাকারী বৌদ্ধ বিহার’র ধর্মযাজক উচোমানান্দা বলেন, গৌতম বুদ্ধের সময় থেকেই ভিক্ষুদেরকে ধর্মীয় বস্ত্র উৎসর্গ অনুষ্ঠান চলে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় কালাচান পাড়া বৌদ্ধ বিহারে এ অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।

বস্ত্র উৎসর্গ অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক কালাচান পাড়ার রাখাইন মাতুব্বর মংচো তালুকদার বলেন, এ বারের অনুষ্ঠানে প্রায় ২’শটি ধর্মীয় বস্ত্র দান করা হয়েছে। উপস্থিত ভিক্ষুদেরকে বস্ত্র প্রদানের পর বাকি বস্ত্রগুলো অন্যান্য বিহারে দান করা হবে।

পটুয়াখালী জেলা রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার’র সভাপতি বাবু উথাচিন তালুকদার এ উৎসবে বলেন, ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এ সম্প্রদায়ের প্রত্যেক বিহারে এ উৎসব পালন করা উচিত। আর্থিক দৈন্যতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তারও দাবী জানালেন তিনি।