কৃষককে গাছে ঝুলিয়ে পেটানো সেই আ’লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২

0
265

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা ।। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডতে গাছে ঝুলিয়ে রানা নামে এক কৃষককে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতনকারী দলের প্রধান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুর রহমান তুহিন ও তার সহযোগী কাজী বাবুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তুহিন উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান একটি গ্রুপের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

এ ঘটনায় হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে কর্তব্য অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

তবে হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি আসাদুজ্জামান শনিবার বিকালে এ অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে জানান, রানার বাবা বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনের নামে শুক্রবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহীনুর রহমান তুহিন ও তার সহযোগী কাজী বাবুলকে গ্রেফতার করেছে।

ওসি আরো বলেন, ঘটনার দিন রানা ও হিরণ নামে দুজনকে থানায় নিয়ে আসে প্রধান আসামি তুহিনসহ তার লোকজন। বিষয়টি তদন্ত করে চুরি হওয়া টিভি উদ্ধারের জন্য একই থানার এসআই রফিককে দায়িত্ব দেয়া হয়। রফিক ঘটনার সত্যতা না পেয়ে রানা ও হিরণকে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেন।

এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার এসআই রফিক বলেছেন অন্যকথা। ২৫ ডিসেম্বর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে টিভি চুরির ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে গাছে ঝুলিয়ে মারপিটের বিষয়টি কবে,কখন তা বলতে পারেননি এসআই রফিক।

এসআইন রফিক আরও বলেন, রানা ও হিরণকে ধরে প্রথমে স্থানীয় ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পে থেকে থানায় আনা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে হিরণকে নিয়ে শ্রীপুর গ্রামে যান তিনি এবং গ্রামের একটি পুকুরে চুরি হয়ে যাওয়া টিভি আছে বলে জানতে পারেন। শেষ পর্যন্ত পুকুরে টিভি পাওয়া যায়নি। সেখানেই পরিবারের জিম্মায় হিরণকে তিনি ছেড়ে দেন এবং ওসি সাহেব থানা থেকে রানাকে ছেড়ে দেন।

গ্রামে গেলেন অথচ প্রকৃত ঘটনা জানতে পারলেন না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে এসআই বলেন, গাছে ঝুলিয়ে মারপিট করার কথা জানা ছিল না আমার।

তাহেরহুদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজের আলী জানান, ভোটের দু’দিন আগে ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে মাঠে কাজ করছিলেন রানা। সেখান থেকে সকাল ১০টার দিকে শাহিনুর রহমান তুহিন নামে ওই আওয়ামী লীগ নেতা টেলিভিশন চুরির অভিযোগে রানাকে ধরে নিয়ে আসেন। এরপর গ্রামের একটি গাছে ঝুলিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করেন।

পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে পরিবারের সদস্যরা মুমূর্ষু অবস্থায় রানাকে কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে এখন কোথায় তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বা তারা কোথায় আছে তা বলতে পারেননি আওয়ামী লীগ নেতা মনজের আলী।

অভিযুক্ত শাহিনুর রহমান তুহিন গ্রফতার হওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ভোটের ৫ দিন আগে শ্রীরামপুর গ্রামের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্পের একটি টিভি চুরি হয়ে যায়।

এ সময় আমরা জানতে পারি রানা টিভিটি চুরি করেছে। কিন্তু উদ্ধার না হওয়ায় আমি তাকে সামান্য মেরেছিলাম। তাকে আমি চিকিৎসাও করিয়েছিলাম। একপর্যায়ে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয় তাকে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিষয়টি ভিন্নভাবে তুলে ধরে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে।

হরিণাকুণ্ডু ও শৈলকুপা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী সাংবাদিকদের বলেন, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বাজরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে একটি টেলিভিশন চুরি হয়ে যায়। ২৭ ডিসেম্বর চুরির অপরাধে একই গ্রামের ওমর আলীর ছেলে যুবক কৃষক রানাকে ধরে গাছে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুক্রবার দুপুরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তারা জানতে পারেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা যায়,২৬ ডিসেম্বর রাত ১২টার পরে শ্রীপুর বাজারের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে একটি টেলিভিশন চুরি হয়। পরের দিন অর্থাৎ ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে টিভি চুরির অভিযোগে রানা নামে এক কৃষককে মাঠ থেকে ধরে এনে গ্রামের একটি কাঁঠালগাছে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়।

সুকৌশলে গ্রামের এক যুবক মোবাইল ফোনে তা ধারণ করে রাখেন। শুক্রবার তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে । এরপর প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়।

নির্যাতনের শিকার রানা কৃষক ওমর আলীর ছেলে। তিনি এখন কোথায় আছেন তা জানা সম্ভব হয়নি।