কৃষি ব্যাংকের অফিসার তারেকের ফাঁদে বাবুগঞ্জের কৃষকরা!

0
606

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এক কপি ছবির বিনিময় সরকার কৃষকদের দিচ্ছে ১৭ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। হ্যা এমন অদ্ভুত ঘটনা গঠেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বরিশাল উপজেলার বাবুগঞ্জ শাখায়।

আবার কাউকে ২০ হাজার টাকা লোনের কথা বলে ৫০ হাজার টাকার স্বাক্ষর করিয়ে নেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। সময়ের বার্তা’র অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০১৬ সালে বরিশাল বাবুগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের তৎকালীন লোন অফিসার মোঃ তারেক ও বাবুগঞ্জের বায়লাখালী পোষ্ট অফিস বাজার এলাকার স্থানীয় বাসীন্ধা কাঞ্চন মৃধার ছেলে শহিদ ওরফে পর্চা শহিদ এর যোগসূত্রে বাবুগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার লোকদের ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন দেয়ার কথা বলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন শহিদ ও লোন অফিসার তারেক।

ভুক্তভোগী লিটন জানান,তার কোন সম্পত্তি নেই কিন্ত দালাল শহিদের মাধ্যমে ছবি জমা দিয়ে ২০১৬ সালে লোন অফিসার তারেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা লোন গ্রহণ করেন। এরমধ্যে তিনি ৩ হাজার টাকা খরচ বাবদ কেটে রাখেন তারেকের দালাল পর্চা শহিদ। কিন্তু গত বছরের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে বাবুগঞ্জ শাখার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান হাওলাদার এর স্বাক্ষরিত একটি নোটিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন ৫০ হাজার টাকা লোন গ্রহণ করেছেন তিনি।

 

বর্তমানে তার সুদ সহ প্রায় ৬৬ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। লিটন পেশায় মাহিন্দ্র চালক তার পক্ষে এতো টাকা পরিষোধ করা সম্বাবনা। লিটনের মত আরেক ভুক্তভোগী মাছুম লোন অফিসার তারেক ও দালাল পর্চা শহিদের কাছে এবিষয় সমাধান চাইতে গিয়ে উল্টো মাছুমকে মাদক দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেন যদিও মাছুম ১৫ হাজার টাকার বিনিময় এবারের মত ছাড়া পেয়ে যায়ন। বর্তমানে মাছুমকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন তারেক ও শহিদ। মাছুমের এলাকার আরেক বাসীন্দা শামীম ২৫ হাজার টাকা লোন নিয়ে এখন তার মাথায় ৫০ হাজার টাকা সহ সুদের বুঝা নিয়ে ঘুরছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ লোকজন ভিটা-বাড়ী বিহীন ও গরিব অসহয়। এই সরলতাকে কাজে লাগিয়ে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে লোন ফরমে পুরন না করে লোন গৃহিতাদের স্বাক্ষার করিয়ে নেন। পরবত্বীতে লোন অফিসার তারেক তার ইচ্ছামত ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করে বাকী টাকা নিজেই পকেটে রেখেদেন। স্থানীয়দের অভিযোগ পর্চা শহিদের যোগসূত্রে লোন অফিসার তারেক বায়লাখালী বাজার ও পোষ্ট অফিস এলাকার একাধিক লোকজনদের নামে-ব্যানামে ভুয়া লোন উত্তোলন করে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন।

 

এর বিনিময় হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমান অর্থ। এবিষয় সংশ্লিষ্টকর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন। এবিষয় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের বরিশাল অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যস্থাপক মোঃ ইউসুফ আলী জানান, কেউ অভিযোগ করেননি তবে কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমান পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত তৎকালীন বাবুগঞ্জ শাখার লোন অফিসার ও বর্তমান বাকেরগঞ্জ শাখার কৃষি ব্যাংকের অফিসার মোঃ তারেক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। তিনি আরো জানান, লোন প্রদানের পূর্বে লোন গৃহিতার সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে লোন দেয়া হয়েছে। জামানত রাখার মত যার কোন সম্পত্তি নাই? তাকে বিভাবে লোন প্রদান করা হয়েছে এমন এক প্রশ্ন করা হলে এর কোন জবাব না দিয়েই ফোন কেটেদেন তারেক। লোন অফিসার তারেকের এমন কর্মকান্ডের বিষয় কোন মন্তব্য করতে নারাজ উক্ত ব্যাংকের বরিশাল বিভাগের ডিজিএম। তবে তিনি বলেন সাধারণ নাগরিক হিসাবে দূর্নীতিবাজ যে কেউ হক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।