ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাওনের নতুন উদ্ভাবন সী-প্লেন

0
422

কুয়াকাটা থেকে জাকির হোসেন।।
ক্ষুদে বিজ্ঞানী মাহবুবুল আলম শাওন’র উদ্ভাবনের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো সীপ্লেন। এর আগে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় পাখা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে সে চুরি প্রতিরোধক যন্ত্র বা সিকিউরিটি এ্যালালার্ম তৈরী করেছে। এসব ক্ষুদে আবিস্কার আলোর মুখ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে দরিদ্র পিতা মাদ্রাসা শিক্ষক নাসির উদ্দিনের আর্থিক দৈন্যতা তাঁর উদ্ভাবনী মিশনকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। শুক্রবার কয়েক হাজার দর্শনার্থী তার উদ্ভাবনের নতুন সংযোজন সী-প্লোন দেখতে কলাপাড়া উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে আসায় তার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

9

স্বপ্ন বিলাসী ওই শিক্ষার্থী ৫/৬ বছর বয়স থেকে ইলেকট্রনিক্স যত্রাংশ নিয়ে খেলা করত। তখন থেকেই মনে চাষ হতো উদ্ভাবনের বীজ। প্রাথমিক ক্লাশ শেষ করে যখন সে সপÍম শ্রেণিতে মানোন্নয়ন হয় তখনই সকলের সামনে এনে দিলো আবিস্কারের চমক। তিনি পাখার সাহায্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে উৎপাদন করলো বিদ্যুৎ। এলাকার লোকজন অত্যন্ত কৌতূহল ভরে দেখলো এ ক্ষুদে বিজ্ঞানীর আবিস্কার। সে ২০১৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর ঢাকা উত্তরা ইউনাইটেড কলেজ অব এ্যাভিয়েশনে এ্যারোনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়। কিন্তু আর্থিক দৈন্যতার কারণে সে গ্রামে ফিসে আসে। পরে হাত দেয় বিজ্ঞানের আরও একটি চমক উপহার দেয়ার জন্য।

সী-প্লেন

চুরি প্রতিরোধ যন্ত্র বা সিকিউরিটি এ্যালার্ম যা প্রাত্যহিক জীবনে অত্যন্ত উপযোগী। কোন দুষ্কৃতিকারী কোন ভবনের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আসলে তখনই বেজে ওঠবে বাড়ির মালিকের মোবাইলে এ্যালার্ম মিসড কল। এমনকি ঘরের ভিতর দুস্কৃতিকারী ঢুকলেও বোঝ যাবে দ্বিতীয়বারের মিসড কল রিং এর মাধ্যমে। তারপর থেকে তাঁর মাথায় বিমান তৈরির ভাবনা ঘুর পাক খেতে থাকে।

সী-প্লেন কিন্তু বিমান তৈরিতে খরচ পড়বে প্রায় ৬/৭ লাখ টাকা। গরীব মেধাবী শাওনের পক্ষে টাকার যোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই বিকল্প উদ্ভাবন হিসেবে মাত্র ১৭ হাজার টাকা ব্যয় ধরে সে সী-প্লেন তৈরির কাজ শুরু করে। ধার করা একটি কম ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন দিয়ে গত এক বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যায় সে। শুক্রবার বিকেলে সী-প্লেনকে নিয়ে আসে তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে।

 

পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে সব প্রস্তÍতি সম্পন্ন করে সে। কিন্তু কম ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিনের কারণে সফলভাবে উড্ডয়ন হয়নি। লোকমুখে সী-প্লেন উড্ডয়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার বিজ্ঞানপ্রেমীসহ সাংবাদিক ও সকল স্তরের হাজার হাজার মানুষ তাঁর বাড়ি সংলগ্ন খালের পাড়ে ভীড় করতে শুরু করে।সী-প্লেন

এ উদ্ভাবনী কার্যক্রমের কথা শুনে তাঁর শিক্ষক কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজের প্রফেসর মো. ফরিদ খাঁন বলেন, শাওন ক্লাশে যথারীতি ভালো সাড়া না দিলেও পরীক্ষাগুলোতেও ফলাফল ভালো ছিলো তাঁর। তার এ উদ্ভাবনী মেধা জাতিকে বড় কিছু উপহার দিবে এটাই আমার কামনা।”
এ প্রসঙ্গে তাঁর বাবা মোয়াজ্জেমপুর মাদ্রাসা শিক্ষক নাসির উদ্দিনের সাথে আলাপকালে তিনি সময়ের বার্তাকে বলেন, সামান্য আয়ের মানুষ আমি। ছেলেকে ঢাকায় পড়ানোর খরচ দেওয়া আমার কাছে দুরুহ হয়ে গেছে। সরকার একটু সহায়তার হাত বাড়ালে শাওনের স্বপ্ন একদিন সফল হবে বলে আমি আশা করি।”