খালেদার চিকিৎসকের দাবি নিয়ে কাদেরের সন্দেহ-ওবায়দুল কাদের

0
58

সময়ের বার্তা ।।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হতে পারেন’ বা তিনি ‘অন্ধ হয়ে যেতে পারেন’ বলে মুক্ত থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা দুই চিকিৎসকের বক্তব্যকে ‘জাতীয়তাবাদী পরামর্শ’ বলে কটাক্ষ করেছেন ওবায়দুল কাদের।

এসব দাবির প্রতি সংশয় প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকরা যখন সার্টিফিকেট দেবেন তখন তো এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক।’

শনিবার দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির এক সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক। তারা সবাই কারাবন্দী বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশঙ্কার কথা বলেন।

এদের মধ্যে নিউরো মেডিসিনের অধ্যাপক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) হাড় ক্ষয় হয়ে নার্ভগুলো চাপা পড়ে গেছে। এতে বাম হাতের শক্তি কমে যাচ্ছে। তিনি বাম হাতে কিছুই ধরে রাখতে পারছেন না। প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। স্পাইনাল কডেও সমস্যা আছে। তার কোমরের হাড়ও ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতে তার প্যারালাইসিস (পক্ষাঘাত) হওয়ার আশঙ্কা করছি।’

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে অবসর নেয়া চক্ষু বিশেষজ্ঞ আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘২০১৫ ও ২০১৭ সালে তার (খালেদা জিয়া) চোখে অপারেশন করা হয়। তার চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়ার রোগ আছে। আমরা শুনেছি খালেদা জিয়ার চোখ লাল হয়ে গেছে এবং প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। তার সুচিকিৎসা করানো না হলে চোখের কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।’

অন্য একজন চিকিৎসক বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) প্রসাব-পায়খানাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে গিয়ে নানা বিষয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের এসব দাবি এবং বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসা নিয়েও কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

এই চিকিৎসকদের ‘জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক’ আখ্যা দিয়ে কাদের বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ কি না সেটা চিকিৎসকরা বলতে পারবেন। তবে চিকিৎসক তো আবার জাতীয়তাবাদীও আছেন। আর জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকরা যখন সার্টিফিকেট দেবেন, তখন তো এ ব্যপারে সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক। তারা প্রকৃত চিত্রটা না বলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে দেবেন।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘কারাগারে থাকলে জেলকোড আছে, অসুস্থতার চিকিৎসা আছে। তিনি যদি অসুস্থ হন যথাযথ কর্তৃপক্ষ তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, তাদের দাবি অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে কারা কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু সেটি পড়ে আছে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না।

ফখরুলের দেয়া তথ্য ভুল জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাগজপত্র কেন যাবে? তারা (বিএনপি) মিথ্যার উপর ভর করে রাজনীতি করে।’

‘জেল কর্তৃপক্ষ আছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আছে, এমন একটা ভাব যেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাগজপত্র গেছে, তিনি সই করলেই তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী সই করলে কি তিনি (খালেদা জিয়া) সুস্থ হয়ে যাবেন?’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে সরকার ‘অমানবিক’ হবে না জানিয়ে সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার অমানবিক সরকার নয়।’

খালেদা জিয়ার জামিন বা মুক্তি আদালতের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কাদের এও বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। কিন্তু এটা নিয়ে বিএনপি নোংরা রাজনীতি করছে।’

‘যেন সরকার মামলা দিয়েছে, সরকার রায় দিয়েছে এমন একটা ভাব। আমরা তাকে দণ্ডও দেইনি, আমরা তাকে দণ্ড থেকে মুক্তিও দিবে পারব না।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনেরও সমালোচনা করেন কাদের। বলেন, ‘গেছেন চিকিৎসার কথা বলে, এখন বলছেন রাজনৈতিক আশ্রয়। জেল, জুলুম, নির্যাতন সইবার সাহস নেই, বিদেশে বসে দেশের রাজণীতিতে শব্দ বোমা ছোড়েন।’

‘পলাতক কাপুরুষকে বাংলাদেশের মানুষ কখনও নেতা মানেনি। কিন্তু তাদের নেতারা তার পক্ষে সাফাই গায়, গভীর গর্তের কাছে এসেও লাফালাফি করে।’

বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) আমলে আমরা গ্রাম ছাড়া হয়েছি, ঘরে থাকতে পারিনি। কিন্তু দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। কিন্তু তার পুত্র (খালেদা পুত্র তারেক) মুচলেখা দিয়ে পালিয়ে গেছে যে, আর রাজনীতি করবে না।’

‘সব লেখা আছে। হাত দিয়ে আকাশ ঢাকা যায় না।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনেক সম্পাদক একে এম এনামুল হক শামীম ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।