খালেদা অপেক্ষায় দেশ বাসি..?

0
316

সময়ের বার্তা ।। নিজ কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ খালেদা জিয়া কখন বের হওয়ার চেষ্টা করবেন তা বলতে পারছেন না কেউ।

রোববার (০৪ জানুয়ারি) রাতে তার প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সোমবার বেলা ১২টার পর বের হওয়ার চেষ্টা করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

কিন্তু সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গুলশান কার্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা  বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) কখন বের হবেন সেটি এখনো ঠিক হয়নি। পরিস্থিতির ওপর সব নির্ভর করবে।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জান‍ায়, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা যদি ঢাকা শহরে বড় ধরনের মুভমেন্ট দেখাতে পারেন তাহলে গুলশান কার্যালয়ের অবরোধ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন খালেদা জিয়া। আর যদি নেতা-কর্মীরা এখনো নিস্ক্রিয় থাকেন তাহলে গুলশান কার্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়েই দেশবাসীর উদ্দেশে কথা বলবেন তিনি।

রোববার গভীর রাত পর্যন্ত সারাদেশের আন্দোলনের সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন।

এ ছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমনসহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অবস্থানরত দলের স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন খালেদা। দিয়েছেন প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা।

সূত্র জানায়, দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে খালেদা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে মাঠে নামতে হবে। বাড়িতে গ্রেফতার হওয়া যাবে না। গ্রেফতার হলে রাজপথে থেকেই হতে হবে।

এদিকে শনিবার গভীর রাতে নিজ কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ হওয়ার পর নিজের দপ্তর ছেড়ে এক মুহূর্তের জন্য নিচে নামেন নি খালেদা জিয়া। ফলে দু’দিন ধরে প্রায় অর্ধশত সাংবাদিক গুলশান কার্যালয়ের নিচ তলায় অবস্থান করলেও বিএনপির চেয়ারপারসনের দেখা-সাক্ষাৎ পান নি। তবে রোববার রাতে তার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে পাঠিয়ে সাংবাদিকদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন তিনি।

এদিকে খালেদা জিয়ার চলার পথে বাধা সৃষ্টি করতে গুলশান কার্যালয়ের সামনেই প্রতিবন্ধকতা বাড়ানো হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যার পর গুলশান কার্যালয়ের মূল গেট ও এর আশপাশে বালু, পাথর, সুরকি ও ইটভর্তি অন্তত ১২টি ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।

তবে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলশান কার্যালয়ের মূল ফটকে রাখা বালুর ট্রাক সরিয়ে সেখানে পুলিশের দু’টি গাড়ি আড়া-আড়িভাবে রাখা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সদস্য সংখ্যা।

এদিকে রোববার সন্ধ্যা থেকে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের ভেতর সংবাদমাধ্যম কর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আগে থেকে যারা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন তারাই কেবল ভেতরে রয়েছেন। বাইরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমকর্মীদের।

বিশেষ করে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করে যাদের বাসায় ফেরার কথা ছিলো তারা আছেন বিপাকে। টানা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বপালন করতে গিয়ে অনেকের ডিভাইচের চার্জ ফুরিয়ে গেছে। বাইরে থেকে চার্জার আনারও সুযোগ পাচ্ছেন না।