গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাল সরবরাহে অনিয়মের তদন্তে সত্যাতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

0
179

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে চাল সরবরাহে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। গুদাম থেকে আতপ চালের পরিবর্তে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করে গুদাম কর্মকর্তা লাভবান হয়েছেন বলে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাল সরবরাহে অনিয়মের বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করে দোষি ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া খাদ্য গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন গীর্জার জন্য সরকারি অনুদানের ৪ টন আতপ চাল বরাদ্দ করা হয়। গীর্জার পক্ষে কাশিয়ানী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আতপ চালের ডিও সংগ্রহ করা হয়। গীর্জার এসব ডিও উপজেলার রামদিয়া বাজারের চাল ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম কিনে নেন। লাভবান হওয়ার জন্য নূরুল ইসলাম খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো: আবদুর রশিদকে ম্যানেজ করে বৃহস্পতিবার ভোরে ট্রাকে করে আতপ চালের পরিবর্তে গুদাম থেকে সিদ্ধ চাল উত্তোলন করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে চালের ট্রাক আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে চাল ভর্তি ট্রাকটি থানায় নিয়ে যায়।

কাশিয়ানীর ইউএনও এ এস এম মাঈন উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবারই তদন্ত শেষ করে দোষি ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছে। তিনি আরো বলেন, গুদামে আতপ চাল থাকলে আগে তা সরবরাহ করার সরকারি নিয়ম রয়েছে। কিন্তু খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা নিয়মের বাইরে গিয়ে আতপ চালের পরিবর্তে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করেছেন। প্রতি কেজি আতপ চালের দাম ৩০ টাকা। পক্ষান্তরে সিদ্ধ চালের কেজি ৪৫ টাকা। আতপ চালের পরিবর্তে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করে খাদ্য কর্মকর্তা লাভবান হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: খলিলুর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। ভাটিয়াপাড়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো: আবদুর রশিদ গুদামের দারোয়ানকে দিয়ে এ চাল সরবরাহ করেন বলে আমাকে জানিয়েছেন তিনি। দারোয়ান ভুলক্রমে আতপ চালের পরিবর্তে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করেছে এমন তথ্য আমাকে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন আমার হাতে এলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।