ঘুমন্ত শিক্ষিকার ছবি তুলে ‘ভুল করিনি’

0
160

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

ঘুমন্ত শিক্ষিকার ছবি তুলে ‘ভুল করেননি’ বলে দাবি করেছেন জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ। বললেন, ‘আমি ভুল কিছু করিনি। বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা দূর করতে এ কাজ করেছি। কলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও কয়েকটি স্কুলে গিয়েছি। যা দেখেছি থানা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তাই লিখিত জানিয়েছি।’ শুক্রবার বিকেলে ঢাকাটাইমসকে মুঠোফোনে তিনি এ কথা বলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত দুই দিন ধরে ক্লাসরুমে একজন ঘুমন্ত শিক্ষিকার ছবি নিয়ে বেশ তোলপাড় হচ্ছে। ঘটনাটি সিলেটের জকিগঞ্জের কলাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একজন শিক্ষিকা টেবিলে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছেন। তার পাশে পাঞ্জাবি গায়ে দাঁড়িয়ে আছেন জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ। শিক্ষার্থীরাও দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষিকার সামনে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন উপজেলা চেয়ারম্যান। প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা চেয়ারম্যান চাইলে যেকোনো স্কুল পরিদর্শনে যেতে পারেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি। স্কুল পরিদর্শন আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমি নিয়মিতই এ কাজ করি।’

এভাবে একজন নারীর ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া সম্মানহানিকর। কাজটি কি ঠিক হয়েছে? জবাবে ইকবাল আহমেদ এ ব্যাপারে নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, তিনি ফেসবুকে ছবি দেননি। তার ভাষ্য, ‘কে বা কারা দিয়েছে। পরে অনলাইন নিউজ পেপারে নিউজ হওয়ায় ভাইরাল হয়েছে।’

শিক্ষিকার এমন ছবি তোলা এবং ফেসবুকে তা ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা বলছেন, এটি একজন জনপ্রতিনিধির কাজ নয়। তিনি যা করেছেন তা গুরুতর অন্যায়। একজন শিক্ষক হলেন সমাজের সম্মানিত মানুষ। তার সম্মানহানি এবং তাকে হেয় করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এদিকে ওই শিক্ষিকা তার স্বামীর ফেসবুক থেকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসে বলেন, তিনি বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। ওদিন স্কুলে যেতে চাননি। পরে শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে গিয়েছিলেন। ছুটি নেননি। পরে ক্লাস নেয়ার একপর্যায়ে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুঝতে পারেননি তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। পরে ঘুম ভাঙলে তিনি দেখতে পান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার আশপাশে লোকজন দাঁড়িয়ে আছেন। চেয়ারম্যানের সহকারী তার ছবি তুলছেন। তিনি এ ঘটনায় বিব্রত হয়েছেন।

স্ট্যাটাসে বলেন, ‘পরে স্কুলের অফিসে গিয়ে উনি আমাকে নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করেন এবং আমার সামনেই কে এম মামুন নামের একজনকে ফোন দিয়ে ছবিগুলো পাঠান। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কেন তিনি এমনটি করলেন? ওনারও তো একটি পরিবার আছে। এরপরই এই অপ্রস্তুত ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার এই অসুস্থ শরীরের ঘুমের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’