চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য ফাঁস!

0
72

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাঁদপাশার এসময়ের সর্বহারা নেতা হাকিম মাস্টারের কাছে জিম্মি স্কুল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন যাবত নিজেকে স্কুল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দাবী করে ‘চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নানান অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন সর্বহারা নেতা হাকিম মাস্টার। সর্বশেষ গত ২৫ শে জানুয়ারী মাসে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিজের ছেলেকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টার সময় জনরোশে পরেন হাকিম। স্কুল প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম কবির জানান, গত বছরের জানুয়ারী মাসের ১৫ তারিখ অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে একজন অভিজ্ঞ প্রার্থী নিযোগ প্রদানের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৮ জন প্রার্থী আবেদন পত্র জমা দেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইতে ১৬ জন প্রার্থীর কাগজপত্র সঠিক বলে বিবেচনা করা হয়েছে। চলতি মাসের ২৫ তারিখ বরিশাল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নিয়োগ বোর্ড অফিস কক্ষে লিখিত ও মৌখিক পরিক্ষায় অংশ গ্রহনের তারিখ নির্ধারিত করা হয়। হাকিমের ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান মনিরকে নিয়োগ পেতে কোন সমস্যা যেন না হয় সেজন্য নিজের ছেলে সহ আরো ৬ জন এর প্রবেশপত্র দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় হাকিম।

এদিকে নিয়োগ পরিক্ষায় কথিত স্কুল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সর্বহারা নেতা হাকিম মাস্টারের ভয়তে বাকী ১০ জনাকে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্রবেশপত্র দিতে না পারায় বিপাকে পরেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ নিয়োগ বোর্ড কমিটির কর্তৃপক্ষরা। নিয়োগ পরিক্ষা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ তারিখ বরিশাল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নিয়োগ বোর্ড অফিস কক্ষে অভিযোগ দায়ের করেন বরিশাল সদর উপজেলার আমিরগঞ্জ এলাকার উলাল বাটনার বাসীন্দা মোঃ মেহেদী হাসান নামের একজন প্রার্থী। পরবর্তীতে নিয়োগ পরিক্ষা স্থগিত করেন নিয়োগ বোর্ড কমিটি। প্রার্থী মেহেদীর অভিযোগ স্কুলের কথিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাকিম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান মনিরকে গোপনে নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছেন এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ তারিখ সকালে উপস্থিত হয়ে নিয়োগ বোর্ড কমিটির কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিক্ষা স্থগিত করেন।

‘চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন হাকিম নিজেকে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় নানান দুর্নীতি করে আসছে সর্বশেষ স্কুলের অফিস সহকারী পদে নিজের ছেলেকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তিনি আরো বলেন, নিজের ছেলেকে বৈধ দেখার জন্য হাকিমের নিজের মনোনিত আরো ৫ জনাকে পরিক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। প্রধান শিক্ষককের দাবী হাকিমের কথা মত না চলছে বড় ধরনে বিপদে পরতে হবে বলে হুমকি দেয় হাকিম। এজন্য তিনি বাধ্য হয়ে হাকিমে কথামত ৬ জনার প্রবেশপত্র প্রদন করি।

বাকীদের প্রবেশপত্র দেয়ার ইচ্ছা থাকার পরেও জীবনের নিরাপ্তার দিকে বিবেচনা করে প্রবেশপত্র দেন নাই। উল্লেখ্য, ‘চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬৩ সনে। আর চাঁদপাশা ইউনিয়ন এর একসময়ের সর্বহারা নেতা হাকিম মাস্টারের জন্ম ১৯৫৩ সনে। অথাৎ ৬ বছর বয়সে নিজেকে ওই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা দাবী করেন। স্থানীয়রা জানান, এই স্কুলের মূলত জমি দাতা আব্দুর রহমান মৌলভী ও এসাহাক মাস্টার। হাকিম এই স্কুলে কোন জমি দান না করে কিভাবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দাবী করেন এবং নিজের অবৈধ প্রভাবে খাটিয়ে দুর্নীতি করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।