ছাত্রলীগকে ‘পরগাছাদের’ নিয়ে সতর্কতা -কাদেরের

0
50

সময়ের বার্তা ।।

ছাত্রলীগের আগামী জাতীয় সম্মেলনে কোনো ‘অনুপ্রবেশকারী, পরগাছা’ যেন নেতৃত্বে আসতে না পারে, সে জন্যও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, কারও ‘পকেটের লোক’ নেতা হবে না। যোগ্য এবং সংগঠনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণরাই পাবে দায়িত্ব।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ছাত্রলীগ চলবে না। ছাত্রলীগ চলবে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মাধ্যমে।’

রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কাদের। আগামী ১১ ও ১২ মের জাতীয় সম্মেলনের আগে প্রথমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর এবং সব শেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন করা হচ্ছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মূল দলের পাশাপাশি ভাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যাপকভাবে ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারীদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। নানা সময় বিতর্কের কারণে নেতৃত্ব দেয়ার পর কমিটি বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে।

সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী ছাড়া কাউকে নেতা না বানানোর তাগিদও দেন কাদের। বলেন, ‘টাকা পয়সার কর্মী থাকবে না, আদর্শের কর্মী থাকবে।’

‘জবরদস্তি করে অযোগ্যকে নেতা বানাবেন দুঃসময়ে আসলে হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদেরকে খোঁজে পাওয়া যাবে না।’

সহসী, মেধাবী, চরিত্রবান নেতাই সংগঠনের সর্বস্তরে ঠাঁই পাবে বলেও জানান কাদের। বলেন, ‘কোনো অনুপ্রবেশকারী পরগাছা যেন নেতৃত্বে আসতে না পারে। তোমরা কারো কথায় কান দেবে না। যাকে যোগ্য মনে হবে তাকেই নেতা বানাবে।’

নেতৃত্ব বাছাই করতে নারী-পুরুষের ভিত্তিতে বৈষম্য না করারও আহ্বান জানান কাদের। বলেন, ‘মেয়েদেরও অধিকার আছে। যোগ্য হলে তাদেরও নেতা বানাবে।’

আবার জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে বরাবরেই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ে আলোচনা হয়। সাবেক ছাত্রলীগ এবং এখন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এসব সিন্ডিকেট চালান বলে প্রচার আছে।

এবারও জাতীয় সম্মেলনের আগে এসব সিন্ডিকেট ঘিরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দৌড়ঝাপ রয়েছে। আবার অনুপ্রবেশকারীরাও নেতা হওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনকে উদ্দেশ্য করে কাদের বলেন, ‘ভালো কিছু করে যাও, সবাই মনে রাখবে। বাংলাদেশ অকৃতজ্ঞ নয়।’

ছাত্রলীগের যে কমিটি বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে, তাদেরকে আওয়ামী লীগে স্থান দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন দলের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘তোমরা অনেক কষ্ট করেছ। তোমাদের আমরা আওয়ামী লীগে নিয়ে আসব। তোমাদের উপ-কমিটিতে স্থান দেব।’

‘স্থান না হলে তোমরা আমার সাথে কাজ করবে। কর্মীর মূল্যায়ন আওয়ামী লীগে আছে। সেক্রিফাইসের (ত্যাগ) মূল্যায়ন হবেই হবে।