ছাত্রীর মামলায় বরিশালের কথিত সংবাদকর্মী ইসমাইল শ্রীঘরে

0
86

স্টাফ রির্পোটার ॥ নগরীতে এক কলেজ ছাত্রীকে সড়কে আটকে শ্লীলতাহানি ও তার ছবি তুলে চাঁদা দাবি করার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে নগরীর ঝড়ঝড়িয়া তলা এলাকার মৃত সোলায়মান হাওলাদারের ছেলে ইসমাইল হাওলাদার (২৮) তার সহযোগী নিয়ে ওই ছাত্রী কে রাতের আধারে জিম্মি করে চাঁদা দাবি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠে । এই ঘটনায় পুলিশ কথিত ওই ফটো সংবাদকর্মী ইসমাইল হাওলাদার ও তার সহযোগী উজ্জল শাহাকে গ্রেপ্তারে সফল হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৯ টায় নগরীর বগুরারোডে নতুন বাজার টেম্পু স্টান সংলগ্ন এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা বরিশাল মিডিয়া পাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর ইসলমাইল ও তার সহযোগী পুলিশের সম্মুখ কলেজ ছাত্রীর কাছে হাত-পা ধরে ক্ষমা চাইলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় লম্পট ইসমাইল (৩৩) সহযোগী অন্তু (২৮), রনি শাহা(২৮) ও আটক উজ্জল শাহা (২৯) সহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু দমন, পর্নোগ্রাফি, শ্লীলতাহানী, চাঁদাবাদি ও গতিরোধ সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানাযায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, গত মঙ্গলবার রাতে একাদশ শ্রেনীর পড়–য়া কলেজ ছাত্রী টাউন হলে নাটকের রিহার্সেল শেষে সোলায়মান নামের এক বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেল যোগে ২০ নং ওয়ার্ডের বিএম কলেজ এলাকায় বাসায়ূ যাচ্ছিলেন। নগরীর নতুনবাজার টেম্পুস্ট্যান্ড এলাকায় পৌছা মাত্র দেখতে পায় ইসমাইল বাহিনীর অবস্থান। সেই দৃশ্য দেখে কলেজ ছাত্রীর বন্ধু মোটরসাইকেল পথ ঘুরিয়ে নগরীর বগুরা রোডে মল্লিকা কিন্ডার গার্টেনের সামনে দ্রুত নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। অবশ্য, ইসমাইলসহ বাহিনীর অপরাপর সদস্যরাও কলেজ ছাত্রীর পিছু নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে সেখানে ছুটে যায়। কলেজ ছাত্রীর বন্ধু তাকে সেখানে রেখে চলে যাওয়ার সুযোগে ইসমাইল বহিনী তাকে চার দিক থেকে ঘিরে রেখে সাংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে এবং ভিডিও করে।

এমনকি ওই ছবি পত্রিকায় প্রকাশের ভয়ভিতি দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকাও দাবি করে। কিন্তু কলেজ ছাত্রীর কাছে টাকা নেই জানিয়ে দেয়ার পর ইসমাইলের সহযোগী অন্তু দাবিকৃত টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং তার বিনিময়ে ১ ঘন্টা তার সাথে(অন্তু) একান্তে সময় দেয়ার দাবি করে। এই দাবিতে কলেজ ছাত্রী সম্মত হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বাসায় গিয়ে বোরকা পড়ে বের হবার জন্য। কিন্তু মিনিট ৫ এক পরেই ইসমাইল বাহিনী মোটরসাইকেল যোগে ফের বিএম কলেজ এলকায় কলেজ ছাত্রীর রিকশার গতিরোধ করে। এমনকি কলেজ ছাত্রীর বন্ধু সোলায়মানকে পেয়েছে জানিয়ে নতুনবাজার এলাকায় আটকে রাখে এবং কলেজ ছাত্রীকে রিকশা থেকে টেনে নামায়। একপর্যায়ে কলেজ ছাত্রীকে নতুন বাজারে এনে বন্ধু সোলায়মানের পাশে দাড় করিয়ে অশ্লিল ছবি বা ভিডিও চিত্র ধারণ করে ইসমাইল ও তার সহযোগীরা। এবং সেই ছবি পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

এক পর্যায় ছাত্রীর ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট নতুন বাজার ফাড়ির পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে ইসমাইল পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করে কোতয়ালী মডেল থানায় নিয়ে আসে এসআই কুদ্দুস। থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশষেণ করার প্রাক্কালে নিশ্চিত হয় ইসমাইল বাহিনী কলেজ ছাত্রীকে জিম্মি করে নগরীর কোন একটি হোটেলে নিতে চাইছে। এরই মধ্যে কাকতালিয় ভাবে ইসমাইলের সহযোগী উজ্জ ফোন করে জানান, হোটেল পুরোপুরি রেডি তুমি কেন আসছো না। কিন্তু বিধির লিখন এমনি ইসমাইলের ফোনটি তখন রিসিভ করেছিলেন কোতয়ালী মডেল থার এসি রাসেল। ফলে ইসমাইল বাহিনী যে কাজ হাচিল করতে চাচ্ছিল তা আর বলার অপেক্ষা থাকেনা। পরক্ষনে সেই হোটেলে অভিযান চালিয়ে ইসমাইলের সহযোগী উজ্জলকেও আটক করে পুলিশ।

অপর দিকে ইসমাইলের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় একাধিক পত্রিকার সংবাদকর্মীরা। তারা জানায়, সাংবাদিকতার নামে নগরীতে বেশ কয়েকজন অপ-সাংবাদিকতা চালিয়ে আসছে । সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশার সাইনবোড ব্যবহার করে কিছু অসাধু লোক তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে। যে অপরাধ করবে তার বিচার হওয়া উচিত। সূত্র জানায়, কথিত এই ফটো সংবাদকর্মী পূর্বেও ফেন্সিডিলসহ প্রশাসনের হাতে আটক হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।