ছাত্র জীবনের স্মৃতি অনেক গভীর-বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ

0
53

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি।।

শুক্রবার সকালে উদযাপিত হয়েছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ও বেলুন এবং পায়রা উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন। শতবর্ষ পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠানে ছাত্র জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, ছাত্র জীবনের স্মৃতি অনেক গভীর।

তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন সময়ে আমার অনেক লেখার মধ্যেও ছাত্র জীবনের সেই স্মৃুতির কথা উল্লেখ করেছি। মন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৫৬ সালে আমি যখন বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই আমার বয়স যখন ১৩ বছর আমি তখন এ স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। আমি ক্লাশে সব সময় প্রথম হতাম। তাই আমার শিক্ষক আব্দুল মন্নান স্যার আমাকে খুব ভালো বাসতেন। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক ছিল গভীর। স্কুলে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাও করেছি।

ক্লাশে-খেলাধুলায় আমি ছিলাম ক্যাপ্টেন। সেই স্কুল থেকেই এসএসসি পাস করে বরিশাল বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ালেখা করি। ছাত্র অবস্থায় বরিশালে যখন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন। তখন তার বক্তব্য শুনি। বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য শোনার পর থেকেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি যদি কখনো রাজনীতি করি তাহলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই রাজনীতি করবো। এবং পরবর্তীতে তার নেতৃত্বেই রাজনীতি করেছি।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে আমাকে তিনি এমএলএ করেছিলেন। আমার মা-বাবা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ছাত্র জীবনের স্মৃতি অনেক মধুর উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, পড়ালেখা করতে গিয়ে আমি প্রায় ১৪ বছর হোষ্টেলে ছিলাম। বিএসসি পরীক্ষা দিয়ে আমি এ স্কুলেই বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছি। বোরহানউদ্দিনের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম রেজা-এ-করিম চৌধুরী চুন্নু মিয়াও আমার শিক্ষক ছিলেন। তাকেও আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি।

এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলী আজম মুকুল বলেন বর্তমান সরকারের সময় এই এলাকায় অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে উন্নয়ন করা হয়েছে। মেঘনার ভাঙ্গন রোধে ৫৫১ কোটি টাকার ব্লক নির্মান ও গ্রামীন অবকাঠামো উনয়œয়ে আরও ৪৫০ কোটি টাকার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন আর ভোলা বিছিন্ন দ্বীপ নয় ভোলা হচ্ছে অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্রের উদীয়মান জেলা। এছাড়া তিনি বানিজ্য মন্ত্রীর প্রশাংসা করে বলেন, আমার পিতৃ সমতুল্য চাচা আমার পরিবারের যেমন অভিভাবক, তেমনি আপনাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য আমার সাথে সদা পরামর্শ করে সমস্যা সমাধান করে থাকেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সুব্রত কুমার সিকদার, পুলিশ সুপার মোঃ মোকতার হোসেন, মন্ত্রীর সহধর্মীনি বেগম আনোয়ারা আহমেদ, ভোলা-২ আসনের এমপির সহধর্মীনি জাহানারা ইয়াসমিন বুলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, বোরহানউদ্দিন পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, বোরহানউদ্দিন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন হায়দার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক জাফরউল্ল্যাহ চৌধুরী। শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ আঃ কুদদূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তৃতা করেন স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আব্দুল মন্নান, প্রাক্তন ছাত্র ওমর শরিফ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আ.ন.ম আব্দুল্ল্যাহ।

১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের ১৯৪৮ সাল থেকে ২০১৭ সালের ব্যাচের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ প্রায় এক হাজার ডেলিকেটেড নিবন্ধন করেছেন। শতবর্ষ অনুষ্ঠানকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দিন শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ শনিবার সমাপনী দিনেও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে নামী-দামী শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।