জমিখেকো তসিলদার পান্না খপ্পরে ভিটা ছাড়া রিজিয়া

0
229

এম. লোকমান হোসাঈন ॥ একই কর্মস্থলে থেকে বছরের পর বছর ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা অধিকাংশ ব্যক্তির সঙ্গে খারাপ আচারণ, বালিশ ছাড়া শোয়াইয়া হত্যার হুমকি, এক ব্যক্তির জমি অবৈধ উপায় অন্যকে পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে তসিলদার মিজানুর রহমান পান্না। এদিকে অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা ধান্দা করে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে আলিসান গাড়ী-বাড়ীর মালিক বনে গেলেও অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ড কাশিপুর বাজারস্থ নতুন বাড়ীর বাসিন্দা মাহবুবুল হাসান, তসিলদার মিজানুর রহমান এর যোগসাজেশ বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসার বরাবর রেকর্ড সংশোধন করার জন্য একটি আবেদন করেন। মাহবুবুল হাসান যে সম্পত্তি দাবী করে বরিশাল সদর ভূমি কমিশনার নিকট আবেদন করেছেন দলিল সূত্রে উক্ত সম্পর্ত্তির মালিক বা ওয়ারিশ কোনটার সাথেই জড়িত নয় তিনি।

সরকারী নিয়মানুযায়ী কোন সম্পর্ত্তির দলিল বা রেকর্ড কর্তন অথবা পূর্ণবহাল রাখার জন্য অভিযোগ থাকলে উক্ত সম্পর্ত্তির মালিক হতে হবে। এছাড়া আদালতে মামলা বা অভিযোগ কোনটাই গ্রহন যোগ্য হয় না। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে, বরিশাল সদর চরকাউয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পান্না ২০১৭ সালের শেষের দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এর সামনে ৫৭ নং কর্ণকাঠী মৌজার এস.এ ৬১০ নং খতিয়ানের হাল ১৫ নং দাগের ০.০৩২৫ এবং সৃজিত ৪৫২৫ নং খতিয়ানের হাল ১৫ নং দাগের ০.০২৬৬ একর একুনে ০.০৫৯১ একর জমি অবৈধ উপায়ে কর্তন পূর্বক রেকর্ড পূর্ববহালের ব্যবস্থা করার জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর কতিয়পয় মাহবুবুল হাসানকে দিয়ে একটি আবেদন করায়।

 

সহকারী কমিশনার ভূমি নাজমুল হুসাইন খাঁন, স্থানীয় ভূমি তসিলদারকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। চরকাউয়া ইউনিয়ন ভূমি তসিলদার মিজানুর রহমান পান্না, মাহবুবুল হাসানের সঙ্গে হাতাহাত করে সহকারি কমিশনার ভূমি অফিসার নিকট হাসানের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে হাসানে পক্ষে রিপোর্ট দেয় পান্না। দলিল সূত্রে দেখায় যায়, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ বরিশাল সাবরেজিষ্ট্রি অফিস থেকে কর্ণকাঠী মৌজার জে এল ৫৭ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি মৃত আছমত আলী হাওলাদারের ছেলে মো. শাহাজান হাওলাদার, মো.আলমগীর হোসেন হাওলাদার ও মৃত হায়াতুন নেছা গংদের কাছ থেকে ক্রয় করেন। ওই দলিলে হস্তান্তরিত সম্পত্তির হাত নকশা ও পরিমাপ এ দেখা যায় কুয়াকাটা-বরিশাল মহাসড়কের কর্ণকাঠী মৌজার ৬১০ খতিয়ান অর্থাৎ রাস্তার পূর্বপাশ দিয়ে সাড়ে ১৩ শংতাশ জমি ক্রয় করেন।

 

যাহা বর্তমানে উক্ত সম্পত্তি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকার কর্তৃক অধিগ্রহনকৃত সম্পত্তির মধ্যে। তসিলদার মিজানুর রহমান পান্নার যোগসাজেশ মাহবুবুল হাসান জোরপূর্বক ওই এলাকার বাসিন্দা রিজিয়া ও তার স্বামী ওসমান গণির জমি দখল করে আছেন। নথি সূত্রে দেখা যায়, নামজারী ও জমাখারিজ এর জন্য ২০১৭ সালে তৎকালীন সহকারি ভূমি কমিশনার নাজমুল হুসাইন খাঁন বরাবর জমির মালিক দাবীদার মাহবুবুল হাসান রেকর্ড সংশোধন করার জন্য আবেদন করেন। আবেদনে বিবাদী করা হয় পলাশপুরের বাসিন্দা মো. ইউনুস খাঁনের ছেলে মো. কাউছার হোসেন সহ একাধিক ব্যক্তি।

 

আবেদনের ফলে নাজমুল হুসাইন খাঁন চরকাউয়া তসিদার মিজানুর রহমান পান্নাকে সরেজমিন তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তসিলদার পান্না, জমির মালিক দাবীদার মাহবুবুল হাসান এর পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরফলে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের ২৮ তারিখ বরিশাল সদর ভূমি সহকারী কমিশনার এর দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত অফিসার বরিশাল সদর ইউনও মো. হুমায়ুন কবির, জমির মালিক দাবীদার মাহবুবুল হাসানের পক্ষে আদেশ প্রদন করেন। চরকাউয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তসিলদার মো. মিজানুর রহমান পান্নার দাবী, বরিশাল সদর ভূমি কমিশনার দপ্তর থেকে মাবুবুল হাসান এর সম্পর্ত্তির সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নিদের্শ পেয়ে সরেজমিন এর তদন্ত প্রতিবেদ জমা দিছেন মাত্র।

 

তিনি আরো বলেন, জমির নকশা বা দলিল সঠিক আছে কি না সে বিষয় দেখার দায়িত্ব তার নয়। তার দায়িত্ব হাসান কোন সম্পর্ত্তি দখলে রয়েছে কিনা। জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নামজারী ও রেকর্ড কর্তন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিক ছাড়া অন্য কেউ সহকারী কমিশনার ভুমি আদালত নিকট আবেদন করার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয় জেলা প্রশাসক ক্ষতিয়ে দেখে জমির আসল মালিককে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার নিশ্চিত করবেন এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিবেন।