জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক-মোদি-নেতানিয়াহু

0
62
সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল বুধবার জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বড় অঙ্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনের পাশাপাশি তাঁরা দুই দেশের সুসম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম ইসরায়েল সফরে গেলেন।

ইসরায়েল ও ভারত কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, পানিসম্পদ ও কৃষি প্রভৃতি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার পাশাপাশি উদ্ভাবনীমূলক কাজের জন্য চার কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল গড়বে। এসব বিষয়ে চুক্তির অংশ হিসেবে বেসামরিক পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্কের আওতা বাড়ানো হবে। এমনিতে ইসরায়েল বছরে গড়ে ১০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করছে।

মোদি তিন দিনের সফরে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে পৌঁছানোর পর তাঁকে নেতানিয়াহু উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, এ সফর ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘যুগান্তকারী’।

জেরুজালেমে গতকালের বৈঠকের পর মোদি বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বাইরেও তাঁরা বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাঁদের পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে তা নিয়ে কথা বলেছেন। কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য একসঙ্গে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানোর পাশাপাশি তাঁরা ক্রমবর্ধমান চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ এবং সাইবার হামলা মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ২৫ বছর পূর্তিতে মোদি ইসরায়েল সফর করছেন। তেলআবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছালে নেতানিয়াহু ও অন্য কর্মকর্তারা মোদিকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেন।

জাতিসংঘে নিজেদের মিত্র বাড়ানোর জন্য ইসরায়েল নিয়মিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারও খুঁজছে দেশটি। এ ক্ষেত্রে এশীয় দেশ ভারতের নেতাকে ইসরায়েলে নিতে পেরে তারা ঘটনাটিকে একটা বড় কূটনৈতিক সাফল্য মনে করছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষকেরা বলেছেন, চলতি সফরে মোদির রামাল্লায় গিয়ে ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে দেখা করার কোনো কর্মসূচি নেই। কিন্তু অন্যান্য দেশের নেতারা সাধারণত ইসরায়েলে গেলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডও সফর করে থাকেন।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভারত দীর্ঘদিন বক্তব্য দিয়েছে। এ জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নিজেদের পুরোনো মিত্র রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে লেনদেন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ ভারত এখন ইসরায়েল থেকে বহু অস্ত্রশস্ত্র কিনতে শুরু করেছে। গত এপ্রিলে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ বলেছে, ভারত তাদের কাছ থেকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্রযুক্তি কিনবে। সামরিক সরঞ্জাম বিক্রয়ের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির এটিই সবচেয়ে বড় চুক্তি।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা মোদি ইসরায়েলে যাওয়ার আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আলিঙ্গন করে পারস্পরিক বন্ধুত্বের বার্তা দেন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আফগান যুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

মোদিকে স্বাগত জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ভারত ও ইসরায়েল আকারে অসম হলেও চেতনায় এ দুই দেশের মিল আছে। তাদের মধ্যে গণতন্ত্র, সৃজনশীলতা, অতীতের প্রতি গভীর সম্মান এবং ভবিষ্যতের অপরিসীম আশাবাদের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য অনেক।