জেলে থাকতে হবে খালেদাকে: আইনমন্ত্রী

0
105

সময়ের বার্তা ।।

দুর্নীতি মামলার সাজা হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জানিয়েছেন, সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন, সেখানে জামিন আবেদনও করতে পারবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে আদেশ দেয়ার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন কি না, সেটি উচ্চ আদালত এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে।

এরশাদ সরকারের পতনের পর বিএনপি সরকারের আমলে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই এই মামলা হয় খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এই রায়ের পর খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কি না- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ওনাকে আজকেই কারাগারে যেতে হবে। মামলার রায়ে সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পর আপিল করতে পারবেন, আপিল পাওয়ার সাথে সাথে বেইল পিটিশন দিতে পারেন।’

কত দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে-এমন প্রশ্নে আনিসুল হক সাংবাদিকদের কাছেই প্রশ্ন করেন, ‘আপিলটা বোধ হয় ৬০ দিনের মধ্যে করতে হবে। নাকি ৯০ দিনের মধ্যে? সিক্সটি ডেজ নাকি নাইনটি ডেজ?’।

‘লিমিটেশন অ্যাক্টের ৫ ধারায় বলা আছে, কত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারে। হাইকোর্টে বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয় ৩০ দিনের মধ্যে। এখানে মনে হয় ৬০ দিনের মধ্যে ।’

আজকেই সার্টিফাইড কপি পাওয়ার সুযোগ আছে কি না-এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘৬৩২ পৃষ্ঠার রায়, আজকে পাবেন কী করে? সেটা তো সম্ভব নয়।’

এই রায়ের কারণে খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হবেন কি না-এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে বলা আছে যে নৈতিক স্খলনের জন্য দুই বছরের অধিক সাজা হলে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন না।’

‘তবে হাইকোর্টে ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা আছে, আপিল আবেদন যতক্ষণ না শেষ হবে ততক্ষণ না মামলাটি ভাবেপূর্ণাঙ্গ শেষ হবে না, দণ্ড চূড়ান্ত হবে না। তিনি ইলেকশন করতে পারবেন।’

‘আবার আরেকটা রায় আছে, পারবেন না। এখন হাইকোর্ট এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আছে, এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।’

মামলাটি তড়িঘড়ি করে শেষ করা হয়েছে-বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সাড়ে নয় বছর মামলাটা চলেছে, সেটা যদি অল্প সময় হয়ে থাকে তাহলে কিছু বলার নাই। আইনে তার যা যা বেনিফিট দেয়ার কথা, সব দেয়ার পর মামলাটি শেষ হয়েছে।’

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা করেন কি না-এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারকে জনগণ জান মালের হেফাজতের দায়িত্ব দিয়েছে। জানমালের হেফাজদের জন্য আমাদের যদি পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেটা নেব।’

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লন্ডনে পাহারা দিচ্ছিল না। হাইকমিশন, যেটা জনগণের সম্পদ, তারা অতর্কিত হামলা করে, কিছু ছবি ভাঙচুর করে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মারধর করে।

লন্ডনে তো এই প্রতিক্রিয়া হতে পারে না। অতীতে দেখা গেছে বিএনপি-জামায়াত জঙ্গি হামলায় উস্তাদ। জান মালের যেন ক্ষতি না হয় সে জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলেছি। কারণ তাদের কর্মকাণ্ডে আমরা টের পেয়েছি তারা এমন কিছু করতে পারে।’