ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় আসামী করে জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

0
30

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ঝালকাঠি জেলা কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রান ও পারিবারিক জমি-জমা ফেরত পেতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার কানুদাশকাঠি গ্রামের মৃত নয়ন তালুকদারের কন্যা সাহিদা বেগম।

লিখিত অভিযোগে সাহিদা বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ভান্ডারিয়া বাজারের করিম হাওলাদারের পুত্র শাহ আলম হাওলাদার, দলিল উদ্দিন হাওলাদারের পুত্র করিম হাওলাদার, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কানুদশকাঠি গ্রামের বিশাই মোল্লার পুত্র সুরাত মোল্লা, সুরাত মোল্লার স্ত্রী দোলেয়ারা বেগম, সুরাত মোল্লার আরেক স্ত্রী জোবেদা বেগম, ইউসুফ মল্লিকের পুত্র মিজানুর রহমান ও ভান্ডারিয়া উপজেলার লক্ষীপুরা গ্রামের আজাহার মল্লিকের পুত্র শহিদুল আলম এবং নুরুল আলমের সাথে জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ ছিল। আমাদের সাথে প্রতিক্ষের সাথে কয়েকটি মামলা চলমান ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেয়। এ কারণে প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। বিভিন্নভাবে তারা আমাদের মালিকানাধীন জমিজমা দখল করে বাড়ীর গাছপালা কেটে নেয়। তারা এখন আমাদেরকে জীবনের তরে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকী দিচ্ছে।

২০১৬ সনের ২ নভেম্বর পার্শ্ববর্তী বাড়ির আব্দুর রহিমের স্ত্রী দুলু বেগমকে অজ্ঞাত লোকজন খুন করে। ঐ ঘটনায় দুলু বেগমের বোন লাইজু বেগম বাদী হয়ে আমার বোন লাকি বেগম, তার স্বামী জামাল খান, বোন সাহিদা বেগম, আমার মা চেয়ার বানু, ভাই সাহেব আলীসহ ৭জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে।

এ মামলায় লাকি বেগম, আমার মা, ভাই, বোনকে জেলে পাঠানো হয়। মামলা দায়ের করে আমাদের বাড়িতে লুটতরাজ করে নগদ ২৩ হাজার টাকা, ৫ ভরি স্বর্নালংকার নেয় প্রতিপক্ষরা। আমার বোন লাকি বেগমের নতুন ঘর ভেঙ্গে দেয় প্রতিপক্ষরা এবং ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের গাছ-পালা কেটে নেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তাদের বাহিনীরা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে এবং মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করছে।

যদি সুষ্ঠু তদন্ত হয় তাহলে বর্তমানে যারা অভিযুক্ত আছেন অর্থাৎ আমার মা বোন ও ভাই তারা মুক্তি পাবেন এবং প্রকৃত খুনী যারা তারা ধরা পরবে। দুলু বেগমের প্রকৃত খুনীদের শাস্তি এবং মিথ্যা অভিযুক্তকারীদের মুক্তি হোক আমরা তা চাই। আমরা নিরাপদে বসবাস করতে চাই। উল্লেখিত আমাদের প্রতিপক্ষরা আমাদেরকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আরও বলছে তোদের এলাকা ছাড়া করেছি। জমি বে-দখল দিয়েছি, ঘর বাড়ি ভেঙে নিয়েছি, গাছপালা কেটে নিয়েছি, আসবাব পত্র লুটতারাজ করেছি এখন শুধু বাকি তোদের জান কয়টা নেওয়া, তা কি করে নেওয়া যায় তার ব্যবস্থা হয়েগেছে। শুধু সময়ের অপেক্ষা।

ক্ষতিগ্রস্তরা সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা কামনা করছে। তারা মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে জমি-জমা ফেরত পেতে এবং তাদের বসত ঘর ভেঙ্গে দেয়ায় প্রশাসন ও দেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট বিচার দাবি করেছেন।