ঝালকাঠিতে হিন্দু হয়েও মুসলিম গোরস্থান পরিছন্নতায় সাগর সহ ওরা তিনজন

0
104

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ।। মানুষ হয়ে মানুষের সেবা করার ইচ্ছা থাকলে মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অথবা কোন ধন্যাঢ্য ব্যক্তি হওয়ার চেয়ে মনের ইচ্ছা শক্তি টুকুই যথেষ্ট বলে মনে করেন সাগর, চঞ্চল ও মিজান ওরা তিনজন মানবসেবী।

ঝালকাঠিতে হিন্দু হয়েও মুসলিম গোরস্থান পরিছন্নতায় প্রশংসিত মানবসেবী সাগর সহ ওরা তিনজন। ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিজেদের অর্থায়নে শ্রমিক নিয়োগ করে এ কাজ শুরু করেছেন তারা। গত বর্ষা মৌসুমে পানি জমে ঘাস ও লতাপাতায় পুরো গোরস্থান-১ এলাকা ছেয়ে যায়। গোরস্থানে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় অবশেষে আসিফ ইকবাল চঞ্চল, সাগর হালদার এবং মিজান রহমান নামের এ তিন যুবক আলোকিত এ উদ্যোগ নিয়ে পরিষ্কার করেছেন মুসলিম গোরস্থান।

অসুস্থ রোগী, সড়ক দূর্ঘটনা, অথবা দরিদ্র কোন শিক্ষার্থীকে সার্থিক সহযোগীতায় এগিয়ে আশাই যাদের অন্যতম লক্ষ্য। আর তারই ধারাবাহিকতায় কয়েক বছর ধরে এই তিন ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঝালকাঠিতে অনেক প্রসূতি নারীর রক্তদান, দরিদ্র রোগীদের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগীতা, অসুস্থ মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসেবায় সহযোগীতা করার কাজ করে আসছেন এই তিনজন মানবসেবী।

গত ২৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ঝালকাঠি সদর উপজেলাধীন নবগ্রাম ইউনিয়নের খাদৈক্ষিরা গ্রামে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৫নং ওয়ার্ড কৃষক লীগ সভাপতি রুস্তুম ব্যাপারী উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে সংবাদের ভিত্তিতে ২৭ অক্টোবর রাতে ছুটে যান অসুস্থ রুস্তম ব্যাপারীর বাড়ীতে। সেখানে প্রায় শতবছর বয়সি রুস্তুমের মায়ের সাথে কথা বলে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

কিন্তু বিধির বিধান পরের সকালেই রুস্তম ইন্তেকাল করার সংবাদ পেলে ছুটে যান সাগর ও মিজান। তাদের এ সহানুভতিতে নবগ্রাম এলাকাবাসী মুগ্ধ হয়ে তাদের জন্য দোয়া করেছেন। সর্বশেষ আজ ঝালকাঠি পৌরসভাস্থ গোরস্থান সেচ্ছায় সারাদিন ব্যক্তি পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিস্কার করেছেন।

আর হিন্দু হয়ে মুসলিম গোরস্থান পরিস্কার করার চমৎকার এই উদ্যোগে পৌরবাসীর মনে স্থান করে নিয়েছেন সেই সাথে ঝালকাঠি বাসীর আলোচনায় এসেছেন সাগর সহ ওরা তিনজন যুবক।

তাদের এ সকল উদ্যোগ নেয়ার বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাগর হালদার জানান, আমি হতে পারি হিন্দু কিন্তু সেটা আমার কাছে বড় বিষয় নয় আমি মানব সেবায় কোন ধর্ম বর্ন বিবেচনা করি না। আমি সবসময় মনে করি আমরা সবাই মানুষ আর মানব সেবার মাধ্যমেই সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়া যায় বলে আমি বিশ্বাষ করি। তাই কোন ধর্ম বর্নের ভেদাভেদ চিন্তা না করে আমি সহ আমরা তিনজন মানুষের বিপদে মানব সেবার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয় আসিফ ইকবাল চঞ্চলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা সমাজের অনেক সমস্যার সমাধানে কতৃপক্ষের অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু আমরা যদি একটু চিন্তা করে তাদের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের উদ্যোগে কাজ করি তাহলে সেই সকল সমস্যাও দ্রুত সমাধান হতে পারে। আর এই চিন্তা ধারার বহিপ্রকাশ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্য আমাদের এ পদক্ষেপ। আর ধর্মীয় চেতনার বিষয়তো রয়েছে।