ঝালকাঠির নলছিটিতে বিলুপ্ত প্রায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

0
23

ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

ঝালকাঠির নলছিটিতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প কালের বিবর্তনে বিলীনের পথে।

অ্যালুমিনিয়াম,মেলামাইন ও প্লাষ্টিকের ভীড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির তৈরি মৃৎ শিল্পের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা। ফলে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই শিল্প। এক সময় নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শত পাল পরিবার প্রত্যক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কালের পরিক্রমায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এখন তাদের পূর্বসুরীদের এ পেশাকে ধরে রেখেছেন।

নলছিটির পালদের তৈরি মৃৎ শিল্পের সুনাম ও সুখ্যাতি ছিল দেশব্যপী। উপজেলার কুশংগল ইউনিয়নের সেওতা গ্রামের ঐতিহ্য পাল বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে এখন মাত্র ৭/৮টি পরিবার রয়েছে। এখানে অসীম পাল, সন্তোষ পাল, নারায়ন পাল, বাদল পাল, অরুন পাল, বাবুল পাল ও উত্তম পাল স্ত্রী-সন্তাদের নিয়ে বাপ-দাদার পুরনো এ পেশাকে আগলে রেখেছেন।

দপদপিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী ও কান্ডপাশা গ্রামে রয়েছে মাত্র ৩/৪টি পরিবার। যেখানে একসময় ২০/৩০টি পাল পরিবার ছিল।

নারী-পুরুষের সমন্বয়ে পাঁ দিয়ে মাটি ও পানি মিশিয়ে নরম করে মাটির জিনিস তৈরির উপযোগি করে চাকার সাহায্যে যাবতীয় মৃৎ শিল্প তৈরি করা হয়। এর পর রোদে শুকিয়ে জলন্ত চুল্লীতে দিয়ে তা পোড়ানো হয়। নলছিটি পালদের তৈরিকৃত তৈজসপত্রের মধ্যে রয়েছে হাড়ি, পাতিল, কলস, টালী, কড়াই, চাড়িয়া, ল্যাম্পদানি, ফুলদানি, মাটির ব্যাংক, পিঠা তৈরীর সাজ প্রভৃতি।

এছাড়া হিন্দুদের ঐতিহ্যবাহী পুজা মন্ডপ ও মন্দিরের দুর্গা প্রতীমাসহ যাবতীয় মুর্তি তৈরী করেন তারা। পালরা মূলত এখন সনাতন ধর্মালম্বীদের যাবতীয় প্রতীমা(মুুর্তি) তৈরী করে কোন রকমের জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। ফলে মৃৎ শিল্পের নিপূন কারিগররা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এখন অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলার সেওতা পালপাড়া গ্রামের সন্তোষ পাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয় তাদের। এ ছাড়াও জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। লোকসানের কারনে অনেকে এই আদি পেশাকে ছেড়ে অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার সচেতন মহল ও বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পকর্মে প্রশিক্ষিত করে মৃৎশিল্পের সময়োপযোগী জিনিসপত্র তৈরিতে এবং বিদেশে এ পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।