ডাক্তার মোবাইলে সমস্যা শোনে, পিয়ন তৈরি করে প্রেসক্রিপশন

0
176

সৈয়দ মেহেদী হাসান

হাসপাতাল
রোডের বেঙ্গল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার,নেই সরকারি অনুমোদন, অদক্ষ নার্স, ডাক্তার এমএ মালেকের চিকিৎসাও প্রশ্নবিদ্ধ, দালাল দিয়ে রোগী সংগ্রহ

নগরীর জেনারেল হাসপাতাল রোড প্রথম গলির মাধুসী নামক ভবনে অপচিকিৎসার কেন্দ্র খুলে বসেছেন ডা: এম.এ মালেক। বেঙ্গল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক এই প্রতিষ্ঠানের নেই স্বস্থ্য বিভাগের কোন অনুমোদন। ডাক্তারা মোবাইলে রোগীর সমস্যা শুনে ওষুধ বলে দেন। আর তা শুনে কেবিন বয় বা অফিস পিওন সেমতে ওষুধ খাওয়ান বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে রাজি-খুশি রেখেই চলছে এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি। ভোগান্তির শিকার

 

রোগীরা দাবী করেছেন, এই হাসপাতালে কেউ একবার ভর্তি হয়ে সুস্থ্য হতে পারেন নি। একবার যিনি ভর্তি হয়েছেন তাকে অবারও ভর্তি হতে হয়েছে। কারন প্রায় প্রত্যেকবারই কোন না কোন ভুল সেবা প্রদান করেছেন। আর অপারেশন করা হলে সেখানে রোগী বা তার স্বজনদের অনাপত্তি রাখা হলেও সেখানে কোন ডাক্তার অপারেশন করেছেন তার উল্লেখ থাকে না। ফলে অপারেশনে ভুল হলেও ভুক্তভোগী কোন রোগী ঐ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন না বা দায় দিতে পারেন না। ফলে রোগীরা থেকে যায় অন্ধকারে। একইসাথে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে রয়েছে রোগী ধরার দালাল। পার্সেন্টিসের ভিত্তিতে এসমস্ত দালালেরা কাজ করেন বলে

নিশ্চিত করেছেন বেঙ্গল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিকের কয়েকজন কর্মচারী। তারা জানান, অর্শ বা পাইলসের রোগী এখানে বেশি এসে থাকে। এসমস্ত রোগীরা তাদের রোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা বা পরামর্শ চাইতে লজ্জা পায় বিধায় দালাল মারফত গোপনে খোঁজে। আর ডায়াগনস্টিকটিতে পাইলসের রোগী ধরতেই সুনির্দিষ্ট ১১ জন দালাল আছেন নগরীর মধ্যে। এদের অধিকাংশই অটো চালক ও রিকশাচালক। এছাড়ার অন্যান্য দিকেও দালাল রয়েছে। সূত্রের দাবী, অপারেশনের রোগী কোন দালাল ধরে নিয়ে

 

 

আসতে পারলে রোগী প্রতি তাকে ৪০০ টাকা, ডাক্তার  দেখানোর জন্য কোন রোগী নিয়ে আসতে পারলে রোগী প্রতি ২০০ টাকা করে দেয়া হয়। এছাড়াও যারা নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তাদের আচরণ ও সেবার মান এতটাই খারাপ যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না বলে জানিয়েছেন শামীমা আক্তার নামক লাহারহাট এলাকার একজন রোগীর স্বজন। চলতি বছরের ১২ মার্চ বেঙ্গল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন কাশিপুর বিল্ববাড়ি এলাকার দেলায়ার হোসেনের ২৫ বছরের ছেলে শুভ। তার পাইলস সমস্যা। শুভ জানায়, তিনিও একজন দালালের খপ্পরে পরে এখানে এসেছেন। আসার পরে ডা: মনিরুল আহসান তার অপারেশন করেন। অপারেশনের পর সপ্তাহ না পার হতেই আবার ব্যথা শুরু হয়। প্র¯্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে শুভর পরিবার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায় অপারেশনে ভুল হয়েছিল, তাকে আবার ভর্তি হতে হবে।

 

 

ফলে শুভ আবার ভর্তি হন। ভর্তি হয়েও কোন ডাক্তার খুজে পান না তিনি। শুভ জানায় আমি যখন দ্বিতীয়বার ভর্তি হই তখন বেঙ্গল হসপিটালে কেবলমাত্র আমিই একমাত্র রোগী। শুভ বলেন, পরবর্তীবার ভর্তি হলে একজন ডাক্তার মোবাইলে অফিস পিওনের কাছে আমার সমস্যা শুনে ওষুধ বলে দেন আর ঐ পিওন সেই ওষুধ আমাকে এনে খাওয়ান। বেঙ্গলের নার্সদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও তাকে একটিবারও দেখে যান না। শেষে আমি অন্য জায়গায় ডাক্তার দেখাই। কিন্তু শুভকে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা গুনতে হয়এখানের সেবা বাবদ। ডায়াগনস্টিকের কর্মচারীরা দাবী করেছেন, যার প্রতিষ্ঠান ডাক্তার এম.এম মালেক নিজেরই ডাক্তারই সনদ নেই। বিভিন্ন জায়গায় ডিপ্লোমা করে ডাক্তারি এমনকি অপারেশনও করছেন। এ ব্যপারে বেঙ্গল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠাননটির নিবার্হী কর্মকর্তা নেজারুল ইসলাম বলেন, ওধরনের একটু-আধটু ভুল সব প্রতিষ্ঠানেরই আছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা হাসপাতাল পরিচালনার কোন সরকারি কাগজপত্র তার কাছে আছে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘সব কিছু ওকে আছে।’ তবে তিন তা দেখাতে পারবেন না কারন কাগজপত্র সব এম.এ মালেক সাহেবের কাছে আছে বলে জানান। যদিও বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের অফিসের দেয়া তালিকা ও তথ্য মতে বেঙ্গল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোন নাম নেই।