ঢাকাকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স

0
47

সময়ের বার্তা ।।

বাঘে-সিংহে নয়, বিপিএলের ফাইনাল লড়াইটা হলো বাঘে-শিয়ালে! একেবারে একপেশে। রংপুর রাইডার্সের কাছে সহজ আত্মসমপর্ণ সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটসের। মঙ্গলবার রাতে শের-ই-বাংলার আলোকোজ্জ্বল মঞ্চে মাশরাফির গৌরবদীপ্ত হাতেই উঠলো বিপিএলের পঞ্চম আসরের শিরোপা।

ক্রিস গেইলের রেকর্ড ইনিংস (৬৯ বলে অপরাজিত ১৪৬) এবং পরে বোলারদের চমৎকার বোলিংয়ে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকাকে ৫৭ রানের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে নেয় রংপুর রাইডার্স। ২০৭ রানের বিরাট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা তুলে ৯ উইকেটে ১৪৯  রান।

মাশরাফি যেখানে বিপিএলের শিরোপাও যেন সেখানে! আগের চার বিপিএলের তিনবারই শিরোপা উঠেছে তাঁর হাতে। পাঁচটি বিপিএলের চারবার শিরোপো জেতা বিরল কৃতিত্ব মাশরাফির দখলে।

ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা হলেও ২০৬ রান তাড়া করে ঢাকা জিতবে, এটা ছিল হিসেবের বাইরে। তবে যতোটা অনুমান করা গিয়েছিল, তার চেয়েও বাজেভাবে আত্মসমপর্ণ করলো ঢাকা ডায়নামাইটস।

ট্রফি জিততে আসলে ক্ষুধার্ত ছিলেন মাশরাফি-গেইলরা। প্রথম ওভার বল নিজের হাতে তুলে নিয়ে তৃতীয় বলেই মাশরাফি ফিরিয়ে দেন ওপেনার মেহেদী মারুফকে। ব্যস, শুরু হয় টপাটপ উইকেট পড়া। ডেনলি (০) ও লুইসকে (১৫) ফেরান স্পিনার গাজী। এরপর পোলার্ড ৫, সাকিব ২৬, মোসাদ্দেক ১, আফ্রিদি ৮ রানে ফিরে গেলে জয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় ঢাকার জন্য। শেষদিকে জহুরুল ইসলাম ৩৭ বলে ৫০ করলেও শেষমেশ রানে আটকে যায় যায় ঢাকা। ৫৭ রানের বিরাট ব্যবধানে ফাইনাল ম্যাচ জিতে নেয় রংপুর।

এর আগে গেইলের রেকর্ড ৬৯ বলে অপরাজিত ১৪৬ রানের দানবীয় ইনিংসে (বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস) ভর করে রংপুর রাইডার্সের স্কোর দাঁড়ায় এক উইকেটে ২০৬।

সন্ধ্যায় টসে জিতে বোলিং নিয়ে শুরুটা ভালো করেছিল ঢাকা। সাকিব প্রথম ওভারটা তুলে দিয়েছিলেন তরুণ মোসাদ্দেকের হাতে। চার্লস ও গেইল মিলে ৫ রান নেন  এ ওভার থেকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারটি নিজেই তুলে নেন অধিনায়ক সাকিব। বল করতে এসে মনে রাখার মতো একটি ওভার করেছেন তিনি।

গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান চার্লস সাকিবের প্রথম চার বলে কোনো রানই তুলতে পারেননি। মানে চার্লসকে কোনো স্পেসই দেননি সাকিব।

ওভারের পঞ্চম বলে চার্লসকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে শুরুতে দারুণ ব্রেক থ্রু এনে দেন দলকে। শেষ বলে ম্যাককালাম কোনো রান নিতে না পারলে উইকেট মেইডেনে ওভার শেষ করেন সাকিব।

শুরুতে উইকেট হারালেও রংপুরকে পেছনে তাকাতে দেননি দুই বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল ও  ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।এলিমেনেটর ম্যাচে তুখোড় সেঞ্চুরি হাঁকান গেইল। আর ম্যাককালাম জ্বলে উঠেছিলেন সোমবার কুমিল্লার বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। খেলেন ৭৮ রানের ঝড়ো ইনিংস।

বড় ম্যাচে আরেকবার জ্বলে ওঠেন তারা। বিশেষ করে ক্রিস গেইল। এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন গেইল। ঢাকাকে হতাশ করে চার ছ্ক্কার বন্যা বাইয়ে দেন মিরপুরে। ৩৩ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি( ৪ ছক্কা, ৪ চার)। অন্য দিকে উইকেটে নেমে দেখেশুনে খেলেন ম্যাককালাম।

ওদিকে হাফ সেঞ্চুরির পরে আরো ভয়ানক হয়ে ওঠেন ক্রিস গেইল। আফ্রিদি, সাকিব রনি- সবাইকে ধ্বসিয়ে দেন এ ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব। এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে আবার সঞ্চুরি। এবার সেঞ্চুরি হাঁকান ৫৭ বলে, ১১ ছ্ক্কা ও ৪ চারে। বিপিএলে এটা গেইলের পাঁচ নম্বর সেঞ্চুরি। চলতি বিপিএলে মোট তিন সেঞ্চুরির ২টিই এসেছে গেইলের ব্যাট থেকে।

সেঞ্চুরি পুরণ করার আরো বেশি ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠেন গেইল। ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন মাঠের তিন দিকে। আরেকটি বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে শেষমেশ বলে ৬৯ বলে (১৮ ছক্কা, ৫ চার) ১৪৬ করে থাকেন অপরাজিত। বিপিএলের ইতিাসে এটাই সবচেয়ে বড় ইনিংস। গেইলের রেকর্ড ইনিংসে ভর করে রংপুরের স্কোর দিয়ে থামে ২০৬ এ।

ওদিকে ধীরে সুস্থে খেলে ৪২ বলে ৫০ পুরণ করে নেন ম্যাককালাম। বিপিএলে এটা তার টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ৫৭ রানে জয়ী রংপুর রাইডার্স।

রংপুর রাইডার্স ইনিংস: ২০৬/১ (২০ ওভার)

(জনসন চার্লস ৩, ক্রিস গেইল ১৪৬*, ব্রেন্ডন ম্যাককলাম ৫১*; মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ০/৩২, সাকিব আল হাসান ১/২৬, সুনিল নারিন ০/১৮, শহীদ আফ্রিদি ০/২৮, আবু হায়দার রনি ০/২৬, খালেদ আহমেদ ০/৩৯, কাইরন পোলার্ড ০/৩৩)।

ঢাকা ডায়নামাইটস ইনিংস: ১৪৯/৯ (২০ ওভার)

(মেহেদী মারুফ ০, এভিন লিউইস ১৫, জো ডেনলি ০, সাকিব আল হাসান ২৬, কাইরন পোলার্ড ৫, জহুরুল ইসলাম ৫০, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১, শহীদ আফ্রিদি ৮, সুনিল নারিন ১৪, আবু হায়দার রনি ৯*, খালেদ আহমেদ ৮*; মাশরাফি বিন মুর্তজা ১/২৫, সোহাগ গাজী ২/৩২, রুবেল হোসেন ১/২৮, রবি বোপারা ১/২১, ইসুরু উদানা ২/২৫, নাজমুল ইসলাম ২/৮, ক্রিস গেইল ০/২)।