ঢাকা উত্তরে আ.লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে সংকেত পেয়েছি: আতিকুল

0
145

সময়ের বার্তা ।।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়া পদ পূরণে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে আনিসুলের মৃত্যুর পর থেকেই কে মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শোনা যাচ্ছে দুই প্রধান দলে।

আওয়ামী লীগ ২০১৫ সালে এখানে আনিসুল হককে সমর্থন দিয়ে চমকে দিয়েছিল অনেকটা। এবারও চমক আছে, সেটা জানিয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর বেশ কিছু নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে গণমাধ্যমে। এর মধ্যে সবশেষ সংযোজন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

আতিকুলের সঙ্গে সোমবার দুপুরে কথা হয়েছে ঢাকাটাইমসের। গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জবাব দেন সংক্ষিপ্ত।

আতিকুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে নির্বাচনে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমি কাজ শুরু করেছি।’

আপনার সঙ্গে কি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কথা হয়েছে? এমন প্রশ্নে আতিকুল বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন আমি বলবো না। তবে আমি আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায় থেকে গ্রিন সিগনাল পেয়েছি। ওখান থেকে আমাকে বলা হয়েছে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে।’

‘আমি ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্তর্গত বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের সাথে দেখা করেছি। তাদের সাথে কথা বলেছি।’

আপনার মূল পরিকল্পনায় কী থাকবে?- এমন প্রশ্নে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘নির্বাচিত হতে পারলে প্রয়াত মেয়র আনিস ভাইয়ের অসামাপ্ত কাজ শেষ করা, সেই সাথে আমার যে আইডিয়া আছে সেগুলোকে নিয়ে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসাবে গড়ে তোলায় হবে আমার মূল লক্ষ্য।’

গত ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্মরণে নোয়াখালী জেলা সমিতি ঢাকার আয়োজনে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার তিতাসের সন্তান আতিকুল ইসলাম। সেখানে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা আনিস ভাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো।’

গত শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে ঢাকা ‍উত্তরে মেয়র নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আতিকুল ইসলামের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ফারুক খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সে দিন বৈঠকে শুধু এককভাবে আতিকুল ইসলামের কথা আলোচনা হয়নি। বৈঠকে আমি বলেছি আমার সাথে নির্বাচনে আগ্রহী অনেকই দেখা করেছেন এবং তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার ও সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবালের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও সিভিল সোসাইটির এ কে আজাদ, আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আবদুস সালাম মুর্শেদী ও অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে নেতাদের আতিকুল ইসলাম কেমন জানতে চান? তাঁকে নিয়ে এগোনো যায় কি না যায় কি না সেই সম্পর্কে জানতে চান।

ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির হিসাবেই পরিচিত। তাঁর বড় ভাই তফাজ্জল ইসলাম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিলের রায় দেন। আরেক বড়ভাই হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)মইনুল ইসলাম সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান ছিলেন। বিডিআর বিদ্রোহের পর তাঁকে এ বাহিনীর প্রধান করা হয়। তাঁর সময়েই বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড-বিজিবি করা হয়।

গত ৩০ নভেম্বর মারা যান মেয়র আনিসুল হক। এরপর তার পর শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী মেয়র বা কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের আগে যদি কোনো পদ শূন্য হয়, তবে ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন হবে। এই হিসাবে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেখানে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে।