ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ

0
102

সময়ের বার্তা ।।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষার্থীর দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এ রায় ঘোষণা করে আদালত।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

রায়ের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ষিয়ে সব ধরনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।

আইনজীবী বলেন, ‘প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিধান থাকলেও সিন্ডিকেট ১৯৯১ সালে নির্বাচন স্থগিত করলে এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। যদিও বাংলাদেশের নেতৃত্ব গঠনের ডাকসু অতীতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করেছে। যার মাধ্যমে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন জাতীয় নেতৃত্ব বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’

রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৯৮ সালের ২৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, ডাকসু নির্বাচনের পর এর সময়সীমা হবে এক বছর। পরবর্তী তিন মাস নির্বাচন না হলে বিদ্যমান কমিটি কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। এ সিদ্ধান্তের পর ডাকসু ভেঙে দেয়া হয়।

ডাকসু বিধান অনুযায়ী প্রতিবছর নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। প্রায় ২২ বছর আগে ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের এ ব্যর্থতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে তিন দফায় তফসিল ঘোষণা করলেও হয়নি নির্বাচন। ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন তাজ খুনের পর একটি তদন্ত কমিটি ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার সুপারিশ করলেও সেই ছয় মাস আসেনি ২০ বছরেও।

২০০৫ সালের মে মাসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ ওই বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই ঘোষণার পর ছাত্র সংগঠনগুলো নড়েচড়ে বসে। ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে একাধিকবার মিছিল সমাবেশ এবং ভিসির কাছে স্মারকলিপিও দেয়। তবে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো এগিয়ে আসেনি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তখনকার উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক দায়িত্ব নেয়ার পরই নির্বাচন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও ঘোষণা অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হন।

সর্বশেষ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিও ভিসির কাছে ডাকসু নির্বাচনসহ ১৯ দফা দাবি জানিয়েছে।

গত বছরের ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, `ডাকসু ইলেকশন ইজ মাস্ট, তা না হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাবে।