তরুণদের হাতে নগর পিতার ভাগ্য

0
47

সোহানুর রহমান ॥ এবারের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে তারুণ্যের জয়জয়কার। প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিসিসি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন জিতে নিয়েছেন নবীন রাজনীতিবিদ সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

ধারণা করা হচ্ছে এই নবীণ সাদিকের সাথেই লড়াই জমে উঠবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ারের। তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকায় ‘যুবরতœ’ হিসেবেও তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে নগরীজুড়ে। অন্য দলগুলোতে অনেক তরুণ মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মনোনয়ন পেয়েছেন ডা.মনীষা বিশ্বাস।

খেটে খাওয়া মানুষদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে যুক্ত হতে এক প্রথা ভাঙার নির্বাচনে তিনি অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনও ৩০ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করতে না পারলেও আ’লীগ ইতিমধ্যে তাদের মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর নাম ঘোষনণা কওে ফেলেছে। সেই তালিকায়ও দেখা গেছে নবীণদের আধিক্য। পরিবর্তনের রূপকার তরুণ। এবারের বিসিসি নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর বা নিয়ামক হবে এই তরুণ ভোটাররা । ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ৩০ হাজার ৭শ’ ৩২ জন নবীণ ভোটারের হাতেই নির্ভর করছে আগামী দিনের নগরপিতার ক্ষমতার মসনদ।

এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যারা এবার নতুন ভোটার হয়েছেন, তারাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফলে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন। তরুণরা কেমন দেখতে চান আগামীর বরিশাল সিটি, সেই অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে নাগরিক সমস্যা ও প্রত্যাশা সর্ম্পকে জানতে চাইলে ১৫ নং ওয়ার্ডের নতুন ভোটার ও যুব সংগঠক মনিরুল ইসলাম সোহান বলেন, মূলত এখন অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেয়ে দরকার উন্নয়নকৃত কাজগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। সিটি কর্পোরেশনের সমস্যা এখানেই।

উদহরণস্বরূপ বলা চলে নগরীর পানীয় জলের সমস্যা দূরীকরণে আমানতগঞ্জে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে তা সচল করা যায়নি। এখন সেই প্রকল্প নদী ভাঙ্গনে কীর্তনখোলার পেটে যেতে প্রহর গুনছে। সিটি কর্পোরেশনে কোন মেগাপ্রজেক্ট নেওয়ার সময়ে জনমত নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে মালিকানা তৈরি হয়। এসময় তিনি ঢাকার উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের কথা উল্লেখ করেন। সাধারণ মানুষ নির্বিঘেœ ফুটপাতে হাঁটতে পারে না, গণপরিবহনেও রয়েছে বিশৃঙ্খলা। রয়েছে পানীয় জলের সংকট।

বাজার ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণে না থাকায় কাঁচাবাজারের মূল্য সাধারণ ও নিুবিত্ত মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় নাগরিক সমস্যা একটাই, একদিনের গণতন্ত্র অর্থাৎ নির্বাচনের পরে মেয়রের আর নাগরিকদের দরকার পরে না। ফলে নগর ভবনে কি হয় না হয় বা মেয়র কোন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হাতে নিলেন তা নাগরিকেরা বুঝতে পারেনা। নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বর্ধিত এলাকার উন্নয়ণ এবং কলোনী (বস্তি) এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক বৃদ্ধিতে নতুন নগরপিতাকে ভূমিকা রাখতে হবে।

জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি ময়লা ফেলানো নির্দিষ্ট স্থান রাখতে হবে। কেমন মেয়রে চান? এমন এক প্রশ্নে মনিরুল ইসলাম জানান, আমরা তরুণরা সবাই একজন দক্ষ, যোগ্য এবং ভালো মেয়র চাই। তিনি বরিশালকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবেন, বরিশালবাসীকে স্বপ্ন দেখাবেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সক্ষমতাও থাকবে।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নাগরিক ও তরুণদের নিয়ে আলোচনায় বসবেন, সেই আলোচনা থেকে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবেন, পরে পাঁচ বছরের মধ্যে ওই গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তার পরিষদ নিয়ে সমন্নিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পরবেন। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় নয়া মেয়রকে উদ্যোগী হতে হবে। নতুন মেয়রকে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় নির্বাচনকালীন ইশতেহারে বাস্তবায়নে ঋণের বোঝার কারনে চ্যলেঞ্জের মুখে পরতে হতে পারে বলে এই যুব সংগঠক মনে করেন।

কোন প্রতিষ্ঠানে যদি আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয় সেখানে এমনটাই হওয়ার কথা। কিন্তু এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষ বুঝতে চাইবে না। তাই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে প্রতিশ্র“তির ফুলঝুড়ি না দেখিয়ে যুবদের চাহিদা বিশ্লেষন কওে যুগোপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য ইশতেহার দেয়ার পরামর্শ তার। নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন তাঁকে পুরো নগরবাসীর সবার মেয়র হতে হবে, শুধু দলীয় হলে চলবে না।

আমরা তরুণরা নাগরিক সমস্যাগুলো জেলা প্রশাসকের কাছে না বলে যেন আমাদের মেয়রের কাছে বলতে পারি, এমন একজন ভরসাওয়ালা মেয়র চাই। মনিরুল ইসলামের সাথে সুর মিলিয়ে নগরীর আর এক তরুণ ভোটার ও উন্নয়ণকর্মী শাকিলা ইসলাম মনে করেন, বরিশাল যেমনি নারী ও শিশুবান্ধব নগরী হবে, তেমনি যুববান্ধব নগরী হতে হবে। প্রাচ্যের ভেনিসখ্যাত বরিশালের ঐতিহ্য যিনি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন তাকেই আমরা নগরপিতার আসনে দেখতে চাই।

অপরিকল্পিত তিলোত্তমা নগরী হিসেবে নয় বরিশালকে দেখতে চাই আধুনিক, পরিচ্ছন ও সবুজ নগরী। আগামী প্রজন্মের জন্য এক বাসযোগ্য নগরী। যেখানে মানুষ তাদের নাগরিক সুবিধা পাবে তাদের দোড়গোড়ায়। নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। মাদকমুক্ত ও ডিজিটাল বরিশালে নগরীতে যুবরা পাবে তাদেও উপযুক্ত কর্মের সুযোগ।

আমাদের চাহিদাগুলোকে অগ্রাধিকার যিনি দিতে পারবেন, ভোটের মাধ্যমে ভবিষ্যত নগরপিতা হিসেবে আমরা তাঁকেই বেছে নেব। নগরীর আরো বেশকিছু তরুণ ভোটারের সাথে কথা বললে তারা মনিরুল ইসলাম ও শাকিলা ইসলামের মতই তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

তরুণরা সৎ, যোগ্য, নিষ্ঠাবান এমন এক মেয়র প্রার্থীকে খুঁজছেন যার দ্বারা নগরীর প্রকৃত উন্নয়ন হবে, সাধারণ মানুষের ভাগ্যর পরিবর্তন ঘটবে, শহরের পানির সমস্যা ও জলাবদ্ধতা দূর হবে, রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নয়ন হবে, যানজটের সমস্যা দূর করতে সিটি বাস চালু করবেন, এমন প্রার্থীকেই তাঁর ভোট দেবেন বলে উল্লেখ করেন।

তবে এবার নগর পিতা হতে হলে তরুণদের ভোট নিয়েই নগর পিতা হতে হবে।