তসিলদার সুমনের ওয়াক্ফা বাণিজ্য ফাঁস!

0
99

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অর্থর বিনিময় ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তির নামজারী! তসিল অফিসে নামজারী (রেকর্ড) করতে আসা সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নগরীতে গড়ে তুলেছে আলিসান বাড়ী। গড়েছেন নামে-ব্যানামে সম্পত্তির পাহাড়ও। চলতি মাসের ৫ তারিখ ঠিকানা বিহীন একটি নথি চলে আসে সময়ের বার্তা’র কার্যালয়ে।

ওই নথির সূত্রধরে অনুসন্ধানে নামলে বেড়িয়ে আসে বর্তমান আমনতগঞ্জ ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী তসিলদার মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের নাম। জাগুয়া মৌজার ৫৪ নং জে.এল. এর ১৫৫২ খতিয়ানের ১৫ শতাংশ জমি ২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসের ৩১ তারিখ নলছিটির বাসীন্দা কেরামত আলীর ছেলে আলাউদ্দিন হাওলাদারের নামে রেকর্ড করে দেন। অনুসন্ধান কালে দেখা যায় ওই সম্পত্তির ১৯৪৫ সালের সেপ্টম্বর মাসের ২১ তারিখ বরিশাল অথাৎ তৎকালীন বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রে অফিসের মাধ্যমে মৃত কোবান আলী হাওলাদারের ছেলে হোসেন আলী হাওলাদারের প্রায় ১০ একর সম্পত্তি আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ এস্টেট করেন।

যার ওয়াকফ এস্টেট ইসি নং-১৯৭১৩। রহ্যসজনক কারনে আলাউদ্দিনের নামে ২০০৮ সালে ১৫ শতাংশ জমির অবৈধ ভাবে রেকর্ড সংশোধন করা হয়েছে। এদিকে রুপাতলী মৌজার ৫৬ জে.এল এর ৮১৩৬ নং খতিয়ান থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ ওয়াকফা’র এস্টেটের সম্পত্তি অবৈধ ভাবে রেকর্ড করে দেন সুমন। অর্থের বিনিময় ওয়াকফ ও খাস সম্পত্তি সহ বিভিন্ন ভাবে ভুমি দস্যূদের পাইয়ে দেয়াই সুমনের কাজ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেকর্ড করতে আসা আমানতগঞ্জস্থ এলাকার বাসীন্দা তিনি জানান, গত ৫ মাস আগে তার কাছ থেকে তসিলদার সুমন ৫ হাজার টাকা নেন রেকর্ড করে দিবেন বলে।

অথচ, সহকারী তসিলদার মোস্তাফিজুর রহমান সুমন রেকর্ড না করে ঘুড়াচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন। জাগুয়া রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তৎকালীন অথাৎ বর্তমান আমনতগঞ্জ ইউনিয়ন ভুমি অফিসের সহকারী তসিলদার মোস্তাফিজুর রহমান ২০০৮ সালে হোসেন আলীর ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি আলাউদ্দিনের নামে ভুমি রেকর্ড করে দেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, চাকরি করতে হলে এরকম কাজ করতে হয়।

তিনি মাত্র তদন্ত করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর তার ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রদান এনামুল হক করেছেন। এছাড়া রেকর্ড করতে আসা লোকজনদেও কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বিকার করেন। জাগুয়া রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের তৎকালীন ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা অথাৎ বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত মোঃ এনামুল হক জানান, তার সহকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান সুমন তদন্ত করেন। তিনি মাত্র স্বাক্ষর করে দেন।

এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না বলে তিনি জানান। বরিশাল জেলা ওয়াক্ফ পরিদর্শক আলহাম আব্দুল্লাহ্ বলেন, ওয়াকফাকৃত এস্টেটের সম্পত্তি’র সম্পদন বা অন্যকারো নামে রেকর্ড করতে হলে দেওয়ানী আদালতের মাধ্যম এবং ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমোতি নিয়ে রদ-রহিত দলিল ও রেকর্ড করতে হবে। ওয়াক্ফ’র এই কর্মকর্তার দাবী আলাউদ্দিনের নামে ওয়াকফ প্রশাসক কর্তৃক কোন অনুমোতি ছাড়াই উক্ত সম্পত্তি’র রেকর্ড করেদেন তসিলদার মোস্তাফিজুর রহমান সুমন। সরকারী নির্দেশ উপেক্ষা করা কোনমতই ঠিক হয়নি।