তাদেরকে ইয়াহিয়ার বক্তব্য পড়ে দেখার আহবান জানাচ্ছি

0
43

সময়ের বার্তা ।।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়নি। তারা কি ইয়াহিয়ার বক্তব্য পড়েননি? এই স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য পাকিস্তানের সেসময়কার প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সবসময় একজনকে সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে দায়ি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন,স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তাই যারা এখন বলছেন তার একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়নি তাদেরকে ইয়াহিয়ার বক্তব্য পড়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিন্তু একজনকে তো নেতৃত্ব দিতে হয়। একজনের তো নেতৃত্ব থাকে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ গঠন করতে সারাদেশ চারণের মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন। অসহযোগ ঘোষণা দিয়েছেন। মুক্তিকামী মানুষকে সাহস দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইয়াহিয়া খান তো এক ব্যক্তিকে ফাঁসির রায় দিয়ে গেছেন, কই আর কাউকে তো দেয়নি। সব কথা বলার সময় হয়নি, সময় আসবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ছিলো পূর্বপরিকল্পিত। এটা বিরাট ষড়যন্ত্র ছিলো। এই ষড়যন্ত্রে ছিলো খুনি মোশতাক আর তার দোসর ছিলো জিয়াউর রহমান। মোশতাক ক্ষমতা দখল করেই জিয়াকে সেনাপ্রধান করে। এতেই বোঝা যায় তারা কতটা ঘণিষ্ঠ ছিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি,হানাদারদের দোসর ছিলো তারাই ৭৫ এর পর ক্ষমতায় এসেছিলো। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের তারা বিভিন্ন্ দেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলো। তিনি বলেন,জিয়া যদি খুন নাই করতো তাহলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ রুদ্ধ করতো না।

১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামীলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গতকাল তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার তদন্ত করতে ১৯৮০ সালে ব্রিটিশ এমপিদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের তদন্ত করতে আসতে দেয়নি জেনারেল জিয়া। আমার প্রশ্ন হলো– জিয়া যদি নির্দোষ হতো, নিশ্চয়ই তদন্ত করতে আসতে দিতো।

শেখ হাসিনা বলেন, কেউ খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনও করেছে। খুনিদের নিয়ে বারবার খেলা দেখেছি। খুনি রশিদ, ফারুক ও হুদাকে দিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন প্রগতিশীল নামে একটি সংগঠন করে।

ইত্তেফাকে বসে এই রাজনৈতিক সংগঠন হয়। জেনারেল এরশাদ খুনি রশিদ ও ফারুককে দিয়ে ফ্রিডম পার্টি করে। খালেদা জিয়া খুনি রশিদ ও ফারুককে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিল। খুনিদের ক্ষমতার সাথী বানিয়েছিল। অপরাধীকে কেন ঘৃণা করবে না। খুনিদের ক্ষমতায় বসাতে বারবার ষড়যন্ত্র হবে। খুনিদের নিয়ে বারবার খেলা হবে। তিনি আরও বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনও কিছু লোক আছে দেশকে পিছিয়ে নেয়ার চেষ্টায়। দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের উন্নত, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় জীবন গড়ে তুলতে চলেছি,এটা যেন কেউ ব্যাহত করতে না পারে।

আওয়ামীলীগ সভাপতি বলেন, আজ সবাই সোচ্চার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার চাইতে। কিন্তু যারা খুনিদের পুরস্কৃত করেছে তাদের প্রতি জাতির কি কোন ঘৃণা থাকবে না, তারাই কি ক্ষমতায় যাবে?

শেখ হাসিনা বলেন,আমি আজ ক্ষমতায় আছি। আজ সবাই বিচার চায়। আমি তো বিচার চাইতে পারিনি। আমরা বাংলাদেশে আসতে পারিনি। এদিকে অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, তার মতলব কী ও কত প্রকার তা দেখেছি উচ্চ আদালতের সামনে মূর্তি স্থাপন নিয়ে। উচ্চ আদালতের সামনে মূর্তি বসিয়ে তিনি ভবনের সামনের মানচিত্র ডেকে দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ঈদকে সামনে রেখে দেশে রায়ট বাধানো। তার মতলবীর দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, সাংবাদিক আবেদ খান প্রমুখ।