তালতলীতে সাংবাদিক ইউনিয়’র সম্পাদ এর উপর সন্ত্রাসী হামলা

0
147
SONY DSC

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তালতলী সাংবাদিক ইউনিয় এর সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কীর্তনখোলা পত্রিকার তালতলীর প্রতিনিধি মোস্তফা কামাল (৩৭) কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টায় উপজেলার বড় আমখোলা নাজির বাড়ি জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক ওই এলাকার শাহে আলম মুন্সির ছেলে।

আহতের স্বজনরা জানান, গত ২ বছর ধরে মোস্তফার সাথে একই এলাকার ইউসুফ খাঁন’র ছেলে ফারুক খানের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ফারুক বিভিন্ন সময় মোস্তফার জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করা চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে বাদী-বিবাদীর উপস্থিতিতে ওই জমি মোস্তফার বলে আদালত রায় দেয়। কিন্তু বিষয়টি ফারুক মেনে নিতে পারেনি। কয়েকমাস পূর্বে মোস্তফার জমিতে রোপিত ধান ফারুক ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা কেটে নিয়ে যায়। এতে মোস্তফা ফারুক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। গত দুদিন পূর্বে আদালত থেকে ফারুক ও তার সহযোগীরা জামিন নিয়ে বের হয়ে। পরে তারা মোস্তফাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন গতকাল রাত সাড়ে ৮ টায় মোস্তফা আমখোলা বাজারে তার দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পরে সে বড় আমখোলা নাজির বাড়ি জামে মসজিদের সামনের রাস্তায় পৌছালে সেখানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা ফারুক খাঁন ও তার তিন ছেলে সোহেল খাঁন, জুয়েল খাঁন, সজিব খাঁন, এবং মোশাররফ হাওলাদার ও তার চার ছেলে মিলন হাওলাদার, মাসুম হাওলাদার, মামুন হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, এবং শহিদ মোল্লা, কালাম, রনি হাওলাদারসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন তার পথরোধ করে। এ সময় ফারুকসহ অন্যান্যরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোস্তফাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দু’পায়ের রগ কেটে দেয়।

SONY DSC

এছাড়া তার সাথে থাকা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ফারুকসহ অন্যান্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষনিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তালতলী থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে ও সেখান থেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত হাতুড়ি উদ্ধার করে। মোস্তফা কামালের বাবা জানান, গত ৩০ বছর ধরে তারা জমিতে বসবাস করছেন। ফারুক খানও জমির মালিকানা দাবি করলেও আদালতে কোন সঠিক কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি।

এলাকাবাসীরা জানান, ফারুক খান ও তার ছেলেরা এই এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। তারা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদারের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার গরীব অসহায় মানুষের জমিজমা ভূয়া দলিল তৈরি করে মিহির কান্তি মজুমদার ও তার স্ত্রী গীতা রাণী মজুমদারের নামে বে-নামে অনেক জমি জোর করে নিয়েছে। এদিকে সাংবাদিক মোস্তফা কামালের উপর হামলার প্রতিবাদে তালতলীতে কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার স্থানীয় সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অবিলম্বে তার উপর হামলাকারীদের প্রেপ্তারপূর্বক শাস্তির দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে তালতলী থানা ওসি পুলক চন্দ্র রায় জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কেউ এখনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।