তিন ইজারাদারের কাছে জিম্মি দক্ষিনাঞ্চলের নৌ-যাত্রীরা

0
1173

এম.লোকমান হোসাঈন ॥ সাধারণযাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়ছে বরিশালের লঞ্চঘাট এর ৩ ঠিকাদারের কাছে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী লঞ্চঘাট থেকে যাত্রীসাধারনের কোন মালামাল পরিবহন করতে চাইলে কুলি চার্জ প্রয়োজ্য। তবে সেই মালামাল হতে হবে ১শ কেজির উপরে।

নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীদের মালামাল ঘাট কুলি পরিবহনে সহযোগীতা করতে হবে অথচ নিয়োগকৃত ইজারাদারদে ঘাট শ্রমিকরা যাত্রীদের মালামাল পরিবহনে কোনরুপ সহযোগীতা না করে উল্টা বসে বসে ইজারাদারদের নিয়োগ দেয়া কতিপয় শ্রমিকরা আদায় করে নিচ্ছেন অতিরিক্ত টাকা এমনটাই অভিযোগ করছেন একাধিক যাত্রীরা। গতকাল বরিশাল একতলা লঞ্চঘাট এলাকায় গেলে দেখা যায় মেহেন্দিগঞ্জ থেকে দুপুরের লঞ্চে আসা মো.নোমান হোসেন জানান, মেহেন্দিগঞ্জ থেকে ১০ কেজি ইলিশ মাছ বরিশাল বাসায় আনার সময় বরিশাল লঞ্চঘাটের শ্রমিকরা ২শ টাকা আদায় করে নেন কিন্তু ২শ টাকা রশিদ কোন রশিদ দেয়া হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল সদরের বাসীন্দা চাঁদপুর থেকে আসা এক যাত্রী জানান, চলতি বছরে পবিত্র ঈদ-উল-আযহ্ উপলক্ষে জাকাতের কিছু কাপড় আনেন।

ওই যাত্রী জানান, জাকাতের কাপুড়ের পরিমান ২০/২৫ কেজির বেশী হবে না। অথচ তার কাছ থেকে ১২শ টাকা ঘাটের কুলি ফি আদায় করে নেন। আরেক যাত্রী জানান,বাসানচরের একটি মসজিদের প্রায় ১৫/২০ কেজি ওজনের পুরান ব্যাটারী সার্ভিসিং করার জন্য বরিশালে আনেন তিনি। তার কাছ থেকে ১২০ টাকা আদায় করা হয়। মসজিদের ব্যাটারী বলাতে তেরে উঠেন কথিত ঠিকাদার ও বরিশাল মহানগর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সম্পাদক পরিচয়দান কারী নান্নু। নান্নু আরো বলেন মসজিদের ব্যাটারী তাতে কি হয়েছে। ঘাট কি মসজিদের? অভিযোগ সূত্রে যাত্রীদের ১০/২০ কেজি মালামাল হলেও তাদের কাছ থেকে রশিদ বিহীন আদায় করা হচ্ছে কুলি ফি। কোন কোন যাত্রীরা এর প্রতিবাদ করলে মারধরের স্বীকার হতে হয়।

এবিষয় ঘাট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন লাভ হয়নি। বরিশাল সদর লঞ্চঘাটের লেবার মূল্যতালিকা না থাকাতে প্রতিনিয়ত হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন সাধারন যাত্রীরা। যার ফলে অসাধু ঘাট ইজারাদাররা মসজিদ,মাদ্ররাসার মালামাল পরিবহনে ও জাকাতের কাপড় থেকেও আদায় করছেন অতিরিক্ত কুলি চার্জ। সরকারী প্রজ্ঞাপনে দেখা যায় বরিশাল, ঢাকা, চাঁদপুর সহ দেশে বিভিন্ন নদী বন্দর এলাকায় যাত্রীদের অতিরিক্ত মালামাল উঠানো ও নামানোর জন্য কুলি অর্থাৎ ঘাট শ্রমিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লঞ্চঘাট (টার্মিনাল ভবন) এর জন্য ঘাট ইজারা দিয়ে থাকেন। ঘাট কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের শুল্ক আদায় ও লেবার হ্যান্ডলিং লাইসেন্স এলাকায় আদায়যোগ্য শুল্ক হারের একটি তালিকা প্রকাশ করে থাকেন।

 

সরকারী নিয়ম অনুযায়ী যিনি ঘাট ইজারা পাবেন তিনি সরকার কর্তৃক মূল্যতালিকার নিয়ম অনুযায়ী সরকারের শুল্ক আদায় ও লেবার হ্যান্ডলিং চার্জ আদায় করতে হবে। এর বেশী আদায় করলে দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। অথচ বরিশাল টার্মিনার ভবন এলাকাতে দেখা যায় ভিন্নচিত্র। সরকারী প্রজ্ঞাপনে বন্দর এলাকায় মালামাল প্রতিবার উঠানো এবং নামানোর জন্য কুলি/লেবার চার্জের মূল্যতালিকাতে দেখা যায় টার্মিনাল ভবনে যাত্রী সাধারণের ব্যাগেজ, পার্সেল, লঞ্চ, ষ্টীমার, ভেসেল, নৌযান হতে রাস্তার প্রান্ত পর্যন্ত অথবা রাস্তায় থাকা যানবাহন ইত্যাদি হতে নৌযান পর্যন্ত মাথায় বয়ে নেয়া অথবা বিপরীতক্রমে বয়ে আনার জন্য কুলি চার্জ প্রতিকুইন্টাল (১শ’ কেজি) মালামাল থেকে শুল্কের হার (ভ্যাটসহ) ১৫ (পঁেনর) টাকার বেশী আদায় করা যাবেনা। ক্রমিক নং খ’তে যাত্রীসাধারণের ব্যাগেজ, পার্সেল, লঞ্চ, ষ্টীমার, ভেসেল, নৌকা হতে অন্য লঞ্চ, ষ্টীমার, ভেসেল, নৌকা ইত্যাদিতে মাথায় বয়ে নেয়ার জন্য কুলি চার্জ প্রতিকুইন্টাল (১শ’ কেজি) মালামাল থেকে শুল্কের হার (ভ্যাটসহ) ১০ (দঁশ) টাকা, ক্রমিক নং গ’তে জাহাজ, ভেসেল ( ডেরিক বা ক্রেন বিশিষ্ট) হতে মালামাল (বাল্ক কার্গো ব্যতীত) সংলগ্ন জেটিতে, জেটিতে রাখা যানবাহন বা অন্য কোন জাহাজ, ভেসেল, ফ্লাট, বার্জ, নৌকায় উঠানো বা নামানোর জন্য প্রতি মে:টন (১০০ কেজি) প্রতিবারে ২০ টাকা, ক্রমিক নং ঘ’তে জাহাজ, ভেসেল ( ডেরিক বা ক্রেন বিশিষ্ট নয়) ফ্লাট, বার্জ, নৌকা,

 

লঞ্চ থেকে মালামাল (বাল্ক কার্গো ব্যতীত) সংলগ্ন বা অন্য কোন জাহাজ, জেটিতে রাখা যানবাহন, ভেসেল, লঞ্চ, ফ্লাট, বাজ, নৌকায় উঠানো বার নামানোর জন্য প্রতি কুইন্টাল (১শ কেজি) ৫টাকা,ক্রমিক নং ঙ’তে বাল্ক কার্গো বস্তায় ভর্তি করা, বস্তায় পুন:ভর্তি করা, সেলাই করা(ঝাড় দেয়া ও সতলি সরবরাহসহ), জাহাজ, ভেসেল ( ডেরিক বা ক্রেন বিশিষ্ট নয়) থেকে সংলগ্ন জেটিতে বা অন্য কোন জাহাজ, ভেসেল জেটি, ফ্লাটে, যানবাহন,বার্জ,লঞ্চ বা নৌকায় উঠানো বা নামানোর জন্য প্রতি মে:টন (১হাজার কেজি) প্রতিবার ৫০ টাকা করে আদায় করবে এইমর্ম্মে জওপ/ইজারা বিভাগ এর অতি:পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহ্জাহান সিরাজ এর স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞপোনে বরিশাল সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দর এলাকার লঞ্চঘাট দিয়ে মালামাল উঠানো নামানোর জন্য কুলি/ লেবার চার্জ প্রয়োজ্য হবে এইমর্ম্মে একটি আদেশ দেয়। সাধারণ যাত্রীরা মনে করছে প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ যদি মালামাল উঠানো এবং নামানোর কুলি চার্জ এর মূল্যতালিকা লঞ্চঘাটের বিভিন্ন স্থানে টানানো হয় তাহলে জনসাধারণের সচেতন হবে এর ফলে

 

অসাধু ঠিকাদাররা কোন যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল বাবদ অতিরিক্ত চার্জ আদায় করতে পারবে না পাশাপাশী ঘাট শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র দেয়া হয় তাহলে সাধারণ যাত্রীরা ছিনতাইসহ নানান ভয়বিতি থেকেও রক্ষপাবে এবিষয় ঘাট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন। বরিশাল নৌ-বন্দরের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম-পরিচালক মো.মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ইজারাদাদের মূল্যতালিকা টানানোর বিষয় একাধিকবার বলা হয়েছে অতি সিগ্রহ এবিষয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌ-বন্দরে একাধিক কর্মকার্তারা জানান ঠিকাদাররা প্রভাবশালী হওয়াতে তারা কারো কোন কথা শুনছে না ইচ্ছামতে যার কাছ থেকে যা পারছে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন যদি কেউ এবিষয় কিছু বলেন তাহলে বদলীসহ নানান ভাবে ভয়বিতি দেখানো হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে বরিশাল একতলা লঞ্চঘাট চলতি বছরে জুলাই মাসে এক বছরের জন্য কোটি ১২লাখ টাকা কাউসার হোসেন নামে এক ঠিকাদাকে ঘাট ইজারা দেয়া হয় এবং ঢাকার লঞ্চঘাট জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ দাসকে ৪৫লাখ ২৮হাজার ২শ ৩৩টাকায় ইজারা দেয়া হয়।