ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা এনেছে সেনাবাহিনী

0
95

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

যেকোনো গাড়ি-হোক সেটা পাজেরো, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার কিংবা অটোরিকশা। দেখলেই ছুটে আসত শত, শত অসহায় রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। দুই হাত পেতে আকুতি জানাতো টাকার জন্য। কিংবা এতটুকু খাবারের জন্য। ট্রাক-কাভার্ডভ্যান নিয়ে অনেকেই এসেছিল অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে। সড়কে চলতে চলতে ছুঁড়ে দিত বিস্কুটের প্যাকেট কিংবা পুরনো কাপড়। সেটা কুড়াতে গিয়ে হুড়োহুড়ি-মারামারি।

এই দৃশ্য গত সপ্তাহেও ছিল। লাখো রোহিঙ্গার ঢল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল প্রশাসন। চরম এক বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এগিয়ে এসেছে সেনাবাহিনী। ফলে গত দুইদিনে সেই বিশৃঙ্খল দৃশ্যপটও পাল্টে গেছে।

ত্রাণ বিতরণের নামে সড়কে খাবার ছুঁড়ে দেওয়ার মতো কোন দৃশ্য রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) সারাদিন উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে চোখে পড়েনি। আবার নিয়ম না মেনে বড় বড় ত্রাণবাহী গাড়ি নিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী বসতিতে ঢুকে পড়ার মতো কোন দৃশ্যও চোখে পড়েনি। রোহিঙ্গাদের বসতির আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড়ও নেই।

এক সপ্তাহ আগে উখিয়ার কুতপালং, থাইংখালী, বালুখালী এলাকায় এসে দেখা গিয়েছিল, সড়কের আশপাশে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। সড়কের পাশে পাহাড়ের গাছ কেটে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী বসতি তৈরি করা হয়েছে। মূল সড়কের আশপাশ মলমূত্রে ভরা। দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচল, এলাকায় বসবাস করাও হয়ে পড়েছিল কষ্টের। এছাড়া ত্রাণবাহী গাড়ি, রোহিঙ্গাদের আনাগোনা আর উৎসুক মানুষের ভিড়ে সড়কে যানবাহন চলাচলেও বেগ পেতে দেখা গিয়েছিল। যানজটে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল উখিয়া এবং টেকনাফের।

তবে সম্প্রতি জেলা প্রশাসন কুতপালং, থাইংখালীসহ আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করে বসবাসকারী ২৫ হাজার রোহিঙ্গাকে তুলে বালুখালীতে নির্ধারিত স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেখানে যাতে আবারও কেউ বসতি স্থাপন করতে না পারে সেই বিষয়টি তদারকি করছে সেনাবাহিনী। এর ফলে সড়কে বিচ্ছিন্নভাবে রোহিঙ্গাদের হাঁটাচলা থাকলেও জটলা চোখে পড়ছে না।

সড়কে গাড়ি থামিয়ে কোন ধরনের ত্রাণ বিতরণ