দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই্ সরকারের দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

0
73

সময়ের বার্তা ডেস্ক।।

প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন , দঃুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই্ সরকারের দায়িত্ব, আমরা তা’ পালন করেছি। সব সময় আওয়ামীলীগ দুর্গত মানুষের পাশে ছিল আছে থাকবে।

আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তিনি বলেন , নদী মার্তৃক বাংলাদেশে নৌকার প্রয়োজন সব সময় ছিল, আছে থাকবে , নৌকা ছাড়া গতি নাই , তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনেই আগামী নির্বাচনে ও নৌকায় ভোট দিতে হবে। তিনি শনিবার বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় স্থানীয় ডিগ্রী কলেজ ময়দানে উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত ত্রান বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপরোক্ত কথা গুলো বলেন ।

ত্রান বিতরণের জন্য সমাবেশটি আয়োজন করা হলেও বিপুল লোক সমাগমের কারণে সেটি একটি বিশাল জনসভায় রুপ নেয়। সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন , ৮১ তে দেশে ফেরার পর থেকেই যখন ক্ষমতায় ছিলামনা তখন থেকেই দেশের সব দুর্যোগেই সব সময় মানুষের পাশে দাঁিড়য়েছি । ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে দেখি ভান্ডার শুন্য। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরও একই অবস্থা। আমাদের দক্ষ পরিচালনায় ইতোমধ্যেই বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পেয়েছে । বিদ্যুতের উৎপাদন ১৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি ।

এবারের বন্যার শুরু থেকেই ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় ২৪ ঘন্টার জন্য খোলা রেখেছি , প্রধাণমন্ত্রীর কার্যালয়েও সেল খোলা হয়েছে । চালের সংকট যাতে না হয় সেজন্য এলসি মার্জিন ২৮ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে । প্রয়োজন মেটাতে সরকারিভাবে ১৫ লক্ষ মেঃটন চাল আমদানীর ব্যবস্থা হয়েছে । আগামী ৩ মাসের জন্য ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে । যেখানে একজন সর্বোচ্চ ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন।

তিনি বলেন, বন্যায় যাদের বাড়ী নষ্ট হয়েছে তাদের ঘর করে দেব। স্কুল নষ্ট হয়েছে সেসব স্কুল করে দেব। রাস্তা করে দেব। যেসব শিক্ষার্থীদের বই খাতা নষ্ট হয়েছে তাদের বই খাতা দেব। ত্রানের কোন সমস্যা হবে না। ত্রান পৌঁছে যাবে আপনাদের ঘরে। বন্যার পর যাতে কৃষকরা গম, ডাল সহ সব ধরণের শস্য চাষাবাদ করতে পারে সেজন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের বিশেষ প্রনোদনা দেয়া হবে ।
তিনি বলেন আমরা শান্তি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করলেও বিএনপি জামায়াত জোট সরকার উৎখাতের নামে আগুন সন্ত্রাসচালিয়েছে। হাজার হাজার গাছ, কেটেছে। নির্বাচন ঠেকানোর নামে তান্ডব চালিয়েছে। তারা ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নাম করে স্কুল পুড়িয়েছে, বাসে আগুন, ট্রাকে আগুন, লঞ্চে, ট্রেনে আগুন দিয়েছে। মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। আমার পরিবারকে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে জিয়াউর রহমান চাকুরী দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। যারা চাকুরী দিয়ে খুনিদের প্রতিষ্ঠিত করে তাদের কাছে জাতি কি আশা করতে পারে ?

শেখ হাসিনা বলেন , নদী ভাঙন থেকে গোটা দেশ রক্ষায় প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,২০০৮ ও ২০১৪ সালে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন।নৌকা ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন হয়। আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। বাবা জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছেন, দুঃখি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তিনি জীবন দিয়েছেন। সেই দঃুখি মানুষের মুখে হাসি ফুটানোই আমার লক্ষ্য। আমার মা বাবা ভাই বোন সবাইকে হারিয়েছি। তাই আপনাদের মাঝেই তাদেরকে খুঁজে পাই। মানুষকে কিভাবে শান্তিতে রাখবো সেটাই আমার লক্ষ্য। আমরা চাইনা একটি সন্তানও বিপথগামী হয়ে যাক। যুব সমাজ বা ছেলেমেয়েরা জঙ্গিবাদে না জড়িয়ে যায় মাদকাসক্ত না হয় সে দিকে অভিভাব দের খেয়াল রাখতে হবে।

ইমাম , মোয়াজ্ঝিন ও সমাজের লিডারদের সব সময় সজাগ থাকতে হবে যেন জঙ্গীবাদের বিস্তার না ঘটে ।
সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বেগম সাহাদারা মান্নানের সভাপতিত্বে এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন , এবারের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও আমরা মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছি। কারণ আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আল্লাহর বিশেষ রহমত আছে। এবার যে ভয়াবহ বন্যা হবে তার পুর্বাভাষ আগেই আর্ন্জার্তিকভাবে দেওয়া ছিল , কাজেই আমরাও প্রস্তত ছিলাম তাই প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় সঠিক ভাবেই বন্যা মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে ।
ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া বলেন , আপনাদের জন্য নেত্রীর নির্দেশে ৭শ ৫০ মেঃটন চাল ,১৮লক্ষ টাকা ও ২ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ দিয়েছি । নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেখানে যা লাগবে আমরা তা’ দিব ।
সমাবেশে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন , ৯৮ সালের বন্যার সময়ও খালেদা জিয়া বলেছিলেন ১ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। কিন্তু সেদিনও আমরা একজনকেও না খেয়ে মরতে দেইনি। এবার যখন দেশ বন্যায় ভাসছে তখন খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছেন। শুধু টুইটারে বক্তব্য দিয়ে নিজের দায়িত পালন করছেন । তিনি বলেন , গত ১৫ আগষ্ট আবার বড় ধরনের হত্যাকান্ডের ছক কষা হলেও দক্ষতার সাথে আইন শৃংখলা বাহিনী তা ’ নস্যাৎ করে দিয়েছে। এসবই করা হচ্ছে আগামী নির্বাচন বানচাল করার জন্য।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রিয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন , দেশ দ্রুতই মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত হচ্ছে , আগামী ৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রের আন্তর্জার্তিক স্বীকৃতি পাবে । তিনি বলেন ,সারা দেশে স্থায়ীভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ তৈরী করা হবে। তিনি বলেন , সারিয়াকান্দির কর্নিবাড়িতে ৩শ’ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ প্রকল্প ও বাঙালী নদীর ওপরও ৩০ কি,মি, বাঁধ প্রকল্প নেয়া হয়েছে ।
জাহাঙ্গীর কবির নানক তার বক্তব্যে বলেন , আওয়ামীলীগ সব সময় দুর্যোগে মানুষের পাশে ছিল , আছে থাকবে ।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান তার বক্তব্যে বলেন , ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার সময় যখন সাড়ে ৫শ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রন প্রকল্প হাতে নেওয়া হল তখন এলাকার মানুষ জানলো , তাহলে বন্যাও নিয়ন্ত্রন করা যায় , রোধ করা যায় নদীর ভাংগণ ? নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন , এই আসনে ভোট করে প্রথমে ১৭ হাজার , তারপর ৩৭, ৮৪ ও ১ লাখ ২৭ হাজার ভোট পেয়েছি । ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দিলে কম পক্ষে দেড় লাখভোটপেয়ে নির্বাচিত হবো । আর প্রতিদ্বন্দির জামানত বাতিল হবে ।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন , বগুড়া -২ আসনের জাপা সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্না, বগুড়া – ৪ আসনের জাসদ দলীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম তানসেন ,বগুড়া – (৫) আসনের আ’লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাবিবর রহমান , বগুড়া – (৬) আসনের জাপা দলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমর , বগুড়া (৭) আসনের জাপা দলীয় সংসদ সদস্য এ্যাড, আলতাব আলী , বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন সহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ।
সমাবেশ শেষে সেখানেই বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীর পরিচালনায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রান ও ক্ষতিগ্রস্থ আমন চাষীদের মধ্যে আমনের চারা বিতরণ করেণ প্রধান মন্ত্রী শেখহাসিনা । পরে তিনি স্থানীয় সূধিবৃন্দ , জন প্রতিনিধি ও প্রশাসন কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় করে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় ফিরে যান ।