দেশান্তরে ভ্রমণ করুন, পাল্টে যাবে লঞ্চ যাত্রায় বাজে অভিজ্ঞতার অতীত

0
338

বরিশাল অফিস ॥

শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য নৌ-পথে যাত্রা। ঘুমিয়ে, খোশগল্প করতে করতে, মায়ের হাতের রান্না করা খাবার যাত্রা পথে খেতে কার না ভালো লাগে? আবার যুবকরা ভালোবাসে গোল হয়ে বসে আড্ডা দিতে বা তাস খেলতে। সিনেমা দেখতে দেখতে যাত্রাটাকে আরও রোমান্টিক করে তুলতে বাংলাদেশের অনন্য রুট ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুট। এই পথে যাত্রায় আরও আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে যুক্ত হয়েছে তাহসিন শিপিং লাইন্স।

বরিশাল রুটে চালু হওয়া এই কোম্পানীর এম.ভি দেশান্তর ইতিমধ্যে করে ফেলেছেন বাজিমাৎ। এখানে আপনাকে আলাদা এসি কেবিন পয়সা খরচ করে নিতে হবে না। কারণ পুরো লঞ্চটায় এসি সিস্টেম চালু। বাথরুম, সিঁড়ি, ব্যালকনি-এসব স্থানেও এসির ব্যবস্থা? প্রশ্ন থাকতে পারে। অবিশ্বাস্য ব্যাপারটা হলো, হ্যাঁ।

 

বাথরুমে বসে আপনাকে ঘামাতে হবে না, সিঁড়িতে দাড়িয়ে হাতপাখা ঘুরাতে হবে না, ব্যালকনিতে দাড়িয়ে প্রাকৃতিক হাওয়ার অপেক্ষা করে বলতে হবে না, ওহ! অসহ্য গরম।


এম.ভি দেশান্তরে যাতায়াত করতে আর দশটা লঞ্চের মত বিছানার চাদর, কাঁথা-বালিশ গাটরি বেধে নিয়ে আসতে হবে না। ঝটপট সিদ্ধান্ত, চটপট যাত্রা। একটি যাত্রীকেও ডেকে হেটে হেটে রাত পার করতে হবে না।

 

রয়েছে রকিং চেয়ার সিস্টেম। বসে, চেয়ার হেলিয়ে-পায়ের উপর পা তুলে ঘুমাতে ঘুমাতে পৌছে যাবেন আপনার গন্তব্যে। আবার অনেকে রয়েছেন যারা রাতে বই পড়া ছাড়া ঘুম আসে না। তাদের জন্য গ্রন্থাগার তো রয়েছেই। আছে কফি শপ-ক্যান্টিন। চা বা কফি খেতে খেতে জমিয়ে আড্ডা দেবার অফুরন্ত সময় ও নান্দনিক ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই ভাবছেন এত কিছু ভিন্নতা, ফলে ভাড়াও হয়তো বেশি। তা কিন্তু মোটেও নয়। বরংছ অন্যগুলোর তুলনায় কম। ডেক ২০০, ৩য় শ্রেণীর চেয়ার ৪০০, ২য় শ্রেণীর চেয়ার ৫০০ ও প্রথম শ্রেণীর চেয়ার ৬০০ টাকা। এছাড়া সিঙ্গেল, ডাবল, ফ্যামিলি ক্যাবিনতো রয়েছেই। আর যেখানেই থাকুন আপনার জন্য রয়েছে আলাদা ব্যালকনির ব্যবস্থা।

 

 

অর্থাৎ এমভি দেশান্তরে যাত্রা করলে লঞ্চ যাত্রায় আপনার যেসব খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে তা পাল্টে যাবে। আর আপনাকে না নিয়েও নোঙর তুলবে না লঞ্চটি। কারণ দেশান্তরের কাছে যাত্রীর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তাইতো প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার সদর ঘাট ত্যাগ করে বরিশালের পথে। আর প্রতিদিন রাত ১০টায় বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যায় ঢাকার উদ্যেশে।

এম.ভি দেশান্তরের কর্মকর্তা নূরুল আম্বিয়া বাবু বলেন, আমরা চাই গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি করে লঞ্চে যাত্রা ভুলে যাক মানুষ। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যতা দেবার নিমিত্তেই আমাদের সার্বক্ষণিক চেষ্টা।