দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘আতঙ্কে’ কারা মহাপরিদর্শক

0
53

সময়ের বার্তা ।।

শিশুরা শুদ্ধভাবে লেখতে জানে না উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। এই বিষয়ে নজর রাখতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ইফতেখার উদ্দিন।

আইজি প্রিজন বলেন, ‘একটি বাংলা বাক্য লিখতে গেলে একটি দুইটি শব্দ, বানান ভুল করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের প্রতি আহবান রাখব বানানের প্রতি নজর দেওয়ার জন্য। বানান ভুলের জন্য নম্বর কাটলে অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এতে ভবিষ্যতে দেশ সাফার করবে। এতে আমি অনেকটাই আতঙ্কগ্রস্ত।’

‘শুধু গোল্ডেন এ প্লাস না পাওয়ার কথা চিন্তা না করে বানানের প্রতি খেয়াল করুন, তাদের খেলাধুলার প্রতি খেয়াল করুন। তাদের মানসিক বিকাশের প্রতি খেয়াল করুন।’

‘আগে আমরা টেলিভিশন থকে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে শুনতাম, পত্র পত্রিকার কাছ থেকে শুদ্ধ বাংলা শেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে কিছু অনলাইন গণমাধ্যমে বানান দেখলে অনেকটাই আতঙ্কগ্রস্ত হই আমি।’

স্কুলের পরিবেশ ভাবিয়ে তুলে জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, ‘আমরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকটাই উদ্বিগ্ন। এতে তাদের মানসিক বিকাশ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়াতেও উদ্বিগ্ন ইফতেখার উদ্দিন। বলেন, ‘আমরা এখন একান্নবর্তী পরিবার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। যখন আমরা একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতাম তখন কেউ বিপথে গেলে কারো না কারো নজরে পড়ত।’

‘মাদক নিয়েও আমরাও শঙ্কিত। সব কিছুইতেই একাকীত্বের কারণেই তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর হচ্ছে। সেখান থেকেও তারা বিভ্রান্ত হচ্ছে। কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল সেটা তাদের বিচেনা করার বুদ্ধি বা ক্ষমতা নেই শিশুদের।’

অভিভাবকদের মনোভাব নিয়েও সমালোচনা করেন আইজি প্রিজন। বলেন, ‘অনেক সময়ে বাবা-মা শিশুদের নকল করতে সহায়তা করেন। আমরা আমাদের সন্তানদের মাঝে ভেজাল ঢুকিয়ে দিচ্ছি। এটা ক্ষতিকর। শিশুদের ত্যাগের শিক্ষা দিন। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে সংকীর্ণতা চলে আসছে। শিশুকে সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া শিক্ষা দিন, যাতে যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের শিক্ষা বিভাগীয় উপপরিচালক ইন্দু ভূষন দেব, ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিন আরা বেগম, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনায়েত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।