দেশে দুই লাখ মানুষ ডাউন সিনড্রোমে ভুগছে

0
30

নিউজ ডেস্ক।।

বিশ্বে প্রতি ৮শ’ শিশুর মধ্যে একজন ‘ডাউন সিনড্রোম’ নিয়ে জন্ম নেয়। বাংলাদেশে ‘ডাউন সিনড্রোম’ নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার। সে হিসেবে দেশে ‘ডাউন সিনড্রোম’-এ ভোগা মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় দুই লাখ। এসব ব্যক্তিরা সমাজে অবহেলিত। অথচ ‘ডাউন সিনড্রোম’ কোন রোগ নয়, বরং এটি শরীরের একটি জেনেটিক পার্থক্য (ভিন্নতার মাত্রা) এবং ক্রোমজমের একটি বিশেষ অবস্থা।

মঙ্গলবার ‘ডাউন সিনড্রোম’ সচেতনতা মাস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের আরসি মজুমদার অডিটরিয়াম এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। আমদা বাংলাদেশ ডাউন সিনড্রোম প্যারেন্টস সাপোর্ট গ্রুপ, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল (জেবিএফএইচ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির দেহ কোষে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজম থাকে, যাকে Trisomy 21 বলে। সাধারণত চাপা মুখ, চিবুক, ঘাড় ও চোখ ছোট হয় এই শিশুদের। অন্যদের তুলনায় এরা দেরিতে বসে, হামাগুড়ি দেয় ও হাঁটে। কথাও বলে দেরিতে। সব মিলিয়ে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা দেখা দেয়। অথচ অনেক অভিভাবক জানেন না, ডাউন সিনড্রোম সন্তানের সাথে কী ধরনের আচরণ করতে হবে, কীভাবে তাকে অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো গড়ে তুলতে হয়। সঠিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার, স্পিচ ও ল্যাংগুয়েজ এবং ফিজিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম শিশু স্বাভাবিক শিশুর মতো পড়ালেখা করে স্বনির্ভর হতে পারে।

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. হাকিম আরিফের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ডা. জিয়া রহমান, আমদা ইন্টারন্যশনালের ডাউন সিনড্রোম অ্যাম্বাসেডর, জাপান থেকে আগত মিস কাজুকো তাকেতানী, ডাউন সিনড্রোম প্যারেন্টস সাপোর্ট গ্রুপের আহ্বায়ক এস এ রাজ্জাক, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটালের সিইও ডা. সামিউল হাসান প্রমুখ।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী ও ডাউন সিনড্রোমে ভোগা শিশুর মা-বাবাকে নিয়ে উপস্থিত এ সেমিনারে প্রতিনিধিবৃন্দ ডাউন সিন্ড্রোম শিশু ও ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেমিনার শেষে ডাউন সিনড্রোম শিশু ও ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।